ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সরকারি দল বলেছিল, অধিকাংশ জনগণ যদি “হ্যাঁ”-এর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে আমরা গণভোটের প্রত্যেকটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। তারা বলেছিলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” বলুন। কিন্তু যখন তারা (সরকার) ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন তারা “হ্যাঁ” ভুলে গেলেন।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘গণভোট ব্যর্থ হলে এ সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।’
বরিশাল নগরের বান্দ রোড হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আজ শনিবার বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ সময় তিনি আরও বলেছেন, ‘জনগণকে ধোঁকা দিয়ে তাদের (সরকারি দল) মনমতো কিছু জিনিস যুক্ত করে স্বৈরশাসনকে পাকাপোক্ত করতে চায়। এ রকম ভাওতাবাজি করলে এ জাতি আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না। গণভোট না থাকলে এ সরকারও মানা হবে না।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখন সরকার বলছে, আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলিনি। অথচ বিএনপির ৩১ দফার প্রথমটাই হচ্ছে সংস্কার। সরকার বলছে সংস্কার কি বুঝি না, আসেন সংবিধান সংশোধন কমিটি করি। সংসদে মাঝে মাঝে একজন অবৈতনিক শিক্ষক ছবক দেয়। সংবিধানে কোথায় আছে সংবিধান সংশোধন কমিটি? আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছি।’
বরিশালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. শফিুকর বলেন, ‘ভোরে বরিশালের রাস্তা যখন ধরলাম তখন দেখলাম ভাঙা শুরু হয়ে গেছে। একটা বিভাগীয় শহর, দেশের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে এমন রাস্তা কি করে হয়? এই রাস্তার বিষয়ে সরকার কোনো কথা বলে না। ভোলা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি সেতু হয়নি কেন? এর জবাব চাই সরকারের কাছে।’ তিনি বলেন, ‘বরিশালবাসী রেললাইনের গল্প শুনেছে। এখানে রেললাইনও দিতে হবে।’ তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘বরিশালকে বঞ্চিত রেখে সুষম উন্নয়ন হবে না।’
জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা (সরকার) আমাদের রাজপথে ঠেলে দিচ্ছেন। রক্তে আগুন ধরাবেন না। আমাদের সাফ কথা, গণভোটের গণরায় মানতেই হবে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। বিরোধী দলের আসনগুলোতে বৈষম্য করা হচ্ছে। এই বৈষম্য মেনে নেব না। দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে মানুষ পিষ্ট হচ্ছে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে আপনি কী করে এই সংকট মোকাবিলা করবেন?’ এ সময় জামায়াত আমির নেতা-কর্মীদের ঢাকার মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
খবরটি শেয়ার করুন