শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নিষেধাজ্ঞা কাটাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা, নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ *** রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা থাকছে না: সড়কমন্ত্রী *** তিন মাস পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীর *** হয়তো এখনই নয়, তবে ইরান সরকারের পতন হবেই: ট্রাম্প *** ‘পদত্যাগ ও মেয়াদ পূর্ণ করার কথা—সাহাবুদ্দিন দুটিই বলেন প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে’ *** সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ‘সাধাসিধা’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান *** ‘প্রধানমন্ত্রীর সামনে যে সুযোগ রয়েছে, তা আগের কোনো দলীয় নেতার ছিল না’ *** অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার *** মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী *** বিতর্কিত শোক প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাসুদ কামাল

১৮৫ বছরের পুরোনো বুনো মহিষের শিং পাহাড়পুর জাদুঘরে হস্তান্তর

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫২ অপরাহ্ন, ৩১শে জুলাই ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১৮৫ বছর আগে সিলেটের এক গভীর অরণ্যে শিকার করা হয়েছিল একটি দুর্লভ বুনো মহিষ। সেই মহিষের শিংসহ মাথার করোটি (শিংসহ মাথার খুলি) স্থান পেয়েছে নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর (সোমপুর) বৌদ্ধবিহার জাদুঘরে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩১শে জুলাই) দুপুরে নওগাঁ শহরের কালিতলা মহল্লার অধ্যাপক ফজলুল হক তার পরিবারে কয়েক প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ করা এ শিং জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

ফজলুল হক জানান, নওগাঁর দুবলহাটীর রাজা রায় বাহাদুর হরনাথ রায় চৌধুরী সিলেটে জমিদারি ক্রয় করার পর তিনি তার বিস্তৃত জমিদারি পরিদর্শন করার জন্য সিলেট যান। সেখানে তিনি অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে একটি বুনো মহিষ শিকার করেন। সিলেটে কিছু দিন থাকার পর তিনি দুবলহাটী রাজ প্রাসাদে ফিরে আসার সময় শিকার করা বিভিন্ন প্রাণীর মাথার করোটি সঙ্গে নিয়ে আসেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন এই বুনো মহিষটির মাথার করোটিও।

তিনি আরও জানান, পরে ১৮৯১ সালে তিনি প্রয়াত হলে তার স্থলে তার পুত্র রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরী জমিদারি প্রাপ্ত হন। দুবলহাটীর শিকারপুরের শৈলকোপা গ্রামের জোতদার সাকিম উদ্দীন শেখের সঙ্গে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরীর ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই ঘনিষ্ঠতার সুবাদে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরী ১৯৩৫ সালের দিকে এই বুনো মহিষের মাথার করোটি তার ঘনিষ্ঠতম বাল্যবন্ধু সাকিম উদ্দীন শেখকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।

জানা গেছে, সাকিম উদ্দীন শেখের মৃত্যুর পর তার পুত্র আব্দুল গনি শেখ মহিষের মাথাটি সংরক্ষণ করছিলেন। আব্দুল গনি শেখের মৃত্যুর পর তার ছেলে অধ্যাপক ফজলুল হক সেটি তার সংগ্রহে রেখেছিলেন। আজ তিনি নওগাঁ ঐতিহাসিক পাহাড়পুর জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজুর নিকট করোটিটি হস্তান্তর করেন।

এদিকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের এই নিদর্শন এখন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘরের নতুন আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত এই স্থানে প্রতিদিন ভিড় করেন দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক। তাদের সামনে শিগগির উন্মুক্ত করা হবে এই দুষ্প্রাপ্য স্মারক।

কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু বলেন, ‘এটি আমাদের জাদুঘরের জন্য একটি মূল্যবান সংযোজন। জমিদার আমলে শিকারের যে সংস্কৃতি ছিল, সেটির একটি চিহ্ন আজ আমরা হাতে পেলাম। করোটিটিকে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর দর্শনার্থীদের দেখার জন্য প্রদর্শনী অংশে স্থাপন করা হবে। এমন অনেক ঐতিহ্যবাহী বস্তু এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলো সংরক্ষিত জাদুঘরে এলে সাধারণ মানুষ অতীতকে আরও কাছ থেকে জানতে পারবে।’

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘর

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250