শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নিষেধাজ্ঞা কাটাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা, নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ *** রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা থাকছে না: সড়কমন্ত্রী *** তিন মাস পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীর *** হয়তো এখনই নয়, তবে ইরান সরকারের পতন হবেই: ট্রাম্প *** ‘পদত্যাগ ও মেয়াদ পূর্ণ করার কথা—সাহাবুদ্দিন দুটিই বলেন প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে’ *** সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ‘সাধাসিধা’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান *** ‘প্রধানমন্ত্রীর সামনে যে সুযোগ রয়েছে, তা আগের কোনো দলীয় নেতার ছিল না’ *** অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার *** মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী *** বিতর্কিত শোক প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাসুদ কামাল

নিষেধাজ্ঞা কাটাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা, নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ

হাসান শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৭:২০ অপরাহ্ন, ১৪ই মার্চ ২০২৬

#

ফাইল ছবি

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে দলটি সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলে দলীয় ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছেন।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির পক্ষে অনানুষ্ঠানিক দূতিয়ালির ভূমিকায় রয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গত বছরের মে মাসে নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার।

ওই সময় উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আওয়ামী লীগের চিন্তা-কৌশল

নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগ এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কীভাবে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেই কৌশল খুঁজছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসা তাদের লক্ষ্য।

দলটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি তাদের আরেকটি লক্ষ্য পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন। বিশেষ করে, আইনজীবী সমিতিগুলোর নির্বাচনে কিছুটা জায়গা তৈরি করতে চায় তারা।

দলটির একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভার্চুয়ালি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এর মধ্যে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের দেশে ফেরার তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফিরে আসতে হলে স্থানীয় নির্বাচনে আগে যুক্ত হতে হবে। সে লক্ষ্যেই কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের জামিনের বিষয়টিতে জোর দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ মনে করছে যে দেশের ভেতরের রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থনও তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন নীতিনির্ধারক মহল, মানবাধিকার সংস্থা এবং কূটনৈতিক মহলের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন দলটির নেতারা।

এ ক্ষেত্রে প্রধানত দুটি বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে—একদিকে দলটির রাজনৈতিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ-সংযুক্ত ভূমিকা, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার কৌশল। দলীয় নেতাদের দাবি, গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থেই আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অনুকূল নয়—এই বার্তাই আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ভারতের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারক মহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে অনানুষ্ঠানিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে।

ঢাকার কূটনৈতিক মহলের একাধিক সূত্রের মতে, দিল্লির কিছু নীতিনির্ধারক মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রভাব ও সংগঠনগত শক্তি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতিতে দলটির অংশগ্রহণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও প্রয়োজন হতে পারে—এমন যুক্তিও আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি এবং ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ভারতের কিছু নীতিনির্ধারক মহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা আছে।

ঢাকার এক কূটনৈতিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুখবর ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল এবং প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে দলটির শক্ত ভিত্তি রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে দলটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা বাস্তবসম্মত হবে না—এমন ধারণা কিছু আন্তর্জাতিক মহলে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে কয়েকটি কৌশল নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মতামত তুলে ধরা এবং প্রবাসী সমর্থকদের সক্রিয় করা।

ঢাকার এক সাবেক কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি এখনো শক্তিশালী। ফলে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে দলটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন—এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও বিবেচনায় আসতে পারে।

নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের কৌশল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নটি শুধু প্রশাসনিক বা আইনি বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগ চাইছে, আন্তর্জাতিক সমর্থন ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে, যাতে তারা আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।

দলটির কৌশলের অংশ হিসেবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, প্রবাসী সমর্থকদের সক্রিয় করা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রবাসী নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার উদ্যোগ

দলীয় সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদারের অংশ হিসেবে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসী সমর্থকদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অঞ্চলে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সংগঠন ও ব্যক্তিদের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছেও দলটির অবস্থান তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং দীর্ঘ সংগঠনগত কাঠামোর কারণে দলটিকে পুরোপুরি রাজনীতির বাইরে রাখা সহজ নয়। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা নির্বাচনে ফেরার পথ নির্ভর করবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতা, আইনি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক মহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমর্থন জোরালো হয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসে, তাহলে ভবিষ্যতে দলটি আবারও শক্তিশালীভাবে নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পেতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের বর্তমান কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ সুগম করা।

এই লক্ষ্য সামনে রেখে দলটি একদিকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের পুনর্গঠনের উদ্যোগও নিচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রবাসী সমর্থকদের সক্রিয় করা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা এবং বিদেশি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি—এসব বিষয়কে কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250