বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** মক্কায় হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে দাবি করে সৌদি আরবের হুঁশিয়ারি, সতর্কতা জারি *** ইসরায়েলকে প্রতিটি ২০০০ পাউন্ডের ৪০ হাজার বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র *** জাপান সফরে গেলেন সেনাপ্রধান *** ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনদের পাতে নিরামিষ চাপানোর অভিযোগ, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক *** সালাম দেওয়ায় হিন্দুত্ববাদীদের ক্ষোভ, নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করল শুভেন্দু সরকার *** ইরান যুদ্ধে ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার *** বেক্সিমকোর ৪ প্রতিষ্ঠানের বোর্ড থেকে সরে যাওয়ার আবেদন সালমান এফ রহমানের *** শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথনকশা, সিদ্ধান্ত হতে পারে শুক্রবার *** ‘টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি’ শিরোনামে যে দাবি করলেন বিতর্কিত আসিফ নজরুল *** টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য দায়ী আসিফ নজরুল ও অন্তর্বর্তী সরকার: তদন্ত কমিটি

ইসরায়েলকে প্রতিটি ২০০০ পাউন্ডের ৪০ হাজার বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:২১ পূর্বাহ্ন, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

দক্ষিণ কোরিয়ায় মজুত যুক্তরাষ্ট্রের বিএলইউ–১০৯ এবং এমকে–৮৪ ২০০০ পাউন্ডের বোমা। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অস্ত্রের অর্থের পুরোটা মার্কিন করদাতাদের বহন করতে হবে। প্যাকেজে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমাও থাকছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

এই চুক্তি হলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত এই ধরনের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় একক মার্কিন সরবরাহ হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তুত করা এই প্যাকেজে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের মোট ৪০ হাজার বোমা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমকে–৮৪ (MK-84) এবং বিএলইউ–১১৭ (BLU-117) বোমা।

এ ছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে আরও ২০ হাজার আই–২০০০ পেনিট্রেটর (I-2000 Penetrator) ওয়ারহেড পাঠানো হবে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ওই মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে এসব তথ্য জানান। সামরিক বিষয় নিয়ে কথা বলায় প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ওই কর্মকর্তা এবং অন্য কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

পশ্চিমা অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক গোলাবারুদগুলোর মধ্যে এমকে–৮৪ অন্যতম। এটি বিস্ফোরণের সময় এর শ্র্যাপনেল বা ধাতব টুকরো আঘাতের স্থান থেকে কয়েকশ মিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি ধাতু ও পুরু কংক্রিট ভেদ করতে পারে এবং মাটিতে বড় গর্ত তৈরি করে।

প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসের কমিটিগুলোর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কারণ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করেছে।

অস্ত্রগুলোর মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘সব বিদেশি অস্ত্র বিক্রি যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। আমরা চলমান অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মন্তব্য করি না।’ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটন পোস্ট ইসরায়েলি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও দূতাবাস কোনো জবাব দেয়নি।

এদিকে প্রস্তাবিত এই অস্ত্র চুক্তির সমালোচনা করেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তিটির বিরুদ্ধে সমালোচনা দেখা গেছে। সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই বিক্রির সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন যা করছে, তার কোনো নজির নেই। এর কোনো যৌক্তিকতাও নেই। ইসরায়েল সরকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, এমনকি কোনো যুদ্ধও করছে না। তারা লেবাননে একটি গেরিলা বাহিনীর সঙ্গে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে এবং গাজায় একটি নিরস্ত্র বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার কাজে নিয়োজিত। কোনো ফ্রন্টেই আধুনিক ২ হাজার পাউন্ডের বোমার প্রয়োজন নেই।’

মার্কিন সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড এই অস্ত্র চুক্তিকে ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন ধনকুবের এবং ইসরায়েলের অন্যতম প্রভাবশালী সমর্থক ও দাতা মিরিয়াম অ্যাডেলসনের প্রতি ট্রাম্পের ‘ঋণ’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গ্রিনওয়াল্ড এক্সে লিখেছেন, ‘আপনি যদি ভাবেন, মিরিয়াম অ্যাডেলসন এবং তার ইসরায়েলি চক্রের কাছে ট্রাম্পের ঋণ কখনো পরিশোধ হবে কি না, তাহলে উত্তর হলো: কখনোই না। এই ঋণ চিরস্থায়ী এবং সীমাহীন।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আর এগুলো ট্রাম্পের নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণে ইসরায়েলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্যের বিষয় থেকে আলাদা।’

প্রস্তাবিত এই অস্ত্র প্যাকেজ এর আগে ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের করা অস্ত্র বিক্রির চুক্তিগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে করা ২ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির চুক্তিও রয়েছে, যেটি কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে অনুমোদন করা হয়েছিল।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং লেবাননে ইসরায়েল শত শতবার ২ হাজার পাউন্ডের বোমা ব্যবহার করেছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের ওপর ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, যার মধ্যে জাতিসংঘের কমিশন অব ইনকোয়ারি রয়েছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোও সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গণহত্যা করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

মক্কায় হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে দাবি করে সৌদি আরবের হুঁশিয়ারি, সতর্কতা জারি

🕒 প্রকাশ: ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলকে প্রতিটি ২০০০ পাউন্ডের ৪০ হাজার বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

🕒 প্রকাশ: ১১:২১ পূর্বাহ্ন, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপান সফরে গেলেন সেনাপ্রধান

🕒 প্রকাশ: ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনদের পাতে নিরামিষ চাপানোর অভিযোগ, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:১১ পূর্বাহ্ন, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালাম দেওয়ায় হিন্দুত্ববাদীদের ক্ষোভ, নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করল শুভেন্দু সরকার

🕒 প্রকাশ: ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250