বুধবার, ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের চিঠি *** মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার অভিযোগ তদন্তে জামায়াতের কমিটি *** তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপান প্রধানমন্ত্রীর *** রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন *** মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে, দুঃখ প্রকাশ লা লিগার *** আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর: রিজভী *** বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করে না সরকার: তথ্য উপদেষ্টা *** ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা *** আওয়ামী লীগের যারা ভালো মানুষ, তারা আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন: জামায়াত আমির

মন্ত্রিপরিষদকে অভিনন্দন জানিয়ে চাঁদা ও হাদিয়া সংস্কৃতি প্রসঙ্গে যা বললেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবগঠিত সরকারের প্রতি জনগণের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা—এমন মন্তব্য করেছেন মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

আজ শুক্রবার (২০শে ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক বিস্তারিত স্ট্যাটাসে তিনি নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন।

ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন আশা, দৃঢ় সংকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের অভিযাত্রা শুরু করেছেন। নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে—কেউ তার অগ্রজ, কেউবা অনুজের মতো স্নেহভাজন। প্রধানমন্ত্রী যে আস্থা ও বিশ্বাস তাদের ওপর রেখেছেন, তারা তা যথাযথভাবে রক্ষা করবেন বলেই তিনি প্রত্যাশা করেন। দায়িত্ব পালন ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তারা যেন সর্বোচ্চ সততা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেন—এটাই বর্তমান সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সামনে যেমন বিশাল প্রত্যাশা, তেমনি রয়েছে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদে যেমন অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব রয়েছে, তেমনি রয়েছে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও।

তিনি মনে করেন, নবীন হওয়া কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং দৃঢ় প্রতিশ্রুতি, একাগ্রতা ও সৎ উদ্দেশ্য থাকলে তারাই ভবিষ্যতে দেশের শক্ত ভিত্তি রচনা করতে সক্ষম হবেন। কথাবার্তা ও আচরণে দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটানো জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রধান চাওয়া হলো সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকা, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যেন নাগালের মধ্যে থাকে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই এসব বিষয়ে কাজ শুরু করেছে—এটি আশাব্যঞ্জক বলে তিনি মনে করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমাজে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি জোর দেন।

পোস্টে তিনি ‘চাঁদা’ প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘চাঁদা’ শব্দটি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, তাই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চাঁদার পাশাপাশি ‘হাদিয়া’, ‘সাদকা’ বা ‘লিল্লাহ’—এমন আরও কিছু শব্দ রয়েছে, যেগুলো অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বাস্তবে অনেক সময় এসব অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্বাস্থ্যকর রূপ নেয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বা জোরপূর্বক অর্থ আদায় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে ধর্মীয় বিধান বা অনুভূতির সুযোগ নিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অর্থ সংগ্রহ করাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূতের মতে, বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খানকা কিংবা লিল্লাহ বোর্ডিং পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন রয়েছে—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি আশা ব্যক্ত করেন, দেশের রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাববেন এবং একটি স্বচ্ছ, বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবেন। উন্নত বিশ্বে তহবিল সংগ্রহ একটি সুসংগঠিত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহের কথা তুলে ধরেন, যেখানে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ হলেও তা ছিল সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং স্বেচ্ছাদানের ভিত্তিতে।

সবশেষে তিনি দেশ গঠনের চলমান অভিযাত্রায় সবার দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তার মতে, সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে তা যেন গঠনমূলক আলোচনার পথ সুগম করে। শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। দেশের অগ্রগতি ও সম্মান বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।

মুশফিকুল ফজল আনসারী

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250