ছবি: সংগৃহীত
সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দেশের অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী লীগ ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল লড়াই হয় বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর। আওয়ামী জাতীয় সংসদে নেই, আপাতত মাঠেও সক্রিয় নয়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলছেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংগত কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং রাজনীতির যে রেইস, সেখানে আওয়ামী লীগ অপরিহার্য হয়ে পড়বে। বিএনপির জন্যও অপরিহার্য হয়ে পড়বে, জামায়াতের জন্যও অপরিহার্য হয়ে পড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে গোলাম মাওলা রনিকে এসব কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, বিএনপি ভার্সেস জামায়াতে ইসলামী, যারা এই রাজনীতির রেইসে সফল হবেন, তারা এক পক্ষে থাকবেন। আর যারা ব্যর্থ হবেন, তারা দল ভারী করার জন্য আওয়ামী লীগকে টেনে নেবেন।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে যদি জামায়াত খুশি হয় বা তারা যদি খুব সফল হয়ে যায়, তাহলে জামায়াত পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবে। আর বিএনপি তখন প্রমাদ গুনবে, জামায়াতকে মাঠে মোকাবেলার জন্য আওয়ামী লীগের সহযোগিতা দরকার, তখন বিএনপি আওয়ামী লীগের জন্য একটা উইন্ডো খুলে দেবে।
তিনি বলেন, অন্যদিকে জামায়াত যদি দেখে, সরকারের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, তারেক রহমান খুব ভালো করছেন, তারা কোনো অবস্থাতে পেরে উঠছেন না, তখন মাঠের রাজনীতি করার জন্য, সংখ্যাধিক্য দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগের জন্য একটা উইন্ডো খুলে দেবে।
তিনি আরো বলেন, ইন্টারন্যাশনালি যদি দেখেন, আপনি স্পষ্ট দেখবেন, ড. ইউনূস সরকারের পতন, অতিদ্রুত নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের অভিযাত্রা, এর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটা সমর্থন আছে।
তার মতে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণের কথা বললে ভারতের নিয়ন্ত্রণ বেশি। সেটা র বলেন বা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, অথবা অন্য যা কিছুই বলেন। সে ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, এটি আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক ধারা তৈরি করবে। সেই ইতিবাচক ধারার আনন্দে শেখ হাসিনা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন, বাংলাদেশের মানুষের মতো।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যারা গত ১৭ মাসে অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন, এই গণতান্ত্রিক পরিবেশে তারা যদি মিষ্টি বিতরণ করে থাকেন তাহলে আমি খারাপ কিছু দেখছি না। আমি মনে করি এটি নতুন সরকারের জন্য শুভ লগ্ন, শুভ সূচনা।’
খবরটি শেয়ার করুন