শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ: মাহফুজ আনাম *** এবারও ভিন্ন আবহে এল ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ *** বিএনপিকে ‘খুশি’ রেখে মেয়াদ পূর্ণ করতে চান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন *** বিএনপি সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর *** এশিয়াজুড়ে তীব্র জ্বালানি উদ্বেগ *** ইরানে হামলার প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭০ কোটি ডলার *** জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থীকে কূটনীতিকদের সমর্থন দিতে আহবান প্রধানমন্ত্রীর *** ‘অবৈধ গণভোট আয়োজনের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন সিইসি’ *** ‘ড. ইউনূসের আমলের সব কিছুর তাকে দায়ী করা যাবে না কেন’ *** ইরান যুদ্ধের খরচ নিয়ে উদ্বেগ খোদ যুক্তরাষ্ট্রে

মাটির নিচে বন্দিদশায় ইসরায়েলিদের দিন-রাত কাটছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, ৭ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: এএফপি

ইরানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত। তবে পাল্টা হামলা থেমে নেই ইরানের। তাদের হামলায় বিপর্যস্ত ইসরায়েলিদের জনজীবনও। ইরানে মানুষ শহর থেকে গ্রামের দিকে ছুটছে। আর ইসরায়েলের মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন বাংকারে। জেরুজালেম, তেল আবিব, হাইফাসহ বিভিন্ন শহরেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ইসরায়েলের এ চিত্র তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ‘নাইন নিউজ’। এতে দেখানো হয়েছে, তেল আবিবের একটি হাসপাতালের ভূউপরি ভাগে যেমন স্থাপনা রয়েছে, তেমনি মাটির নিচেও রয়েছে দোতলা।

এই দোতলায়ও চিকিৎসার সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে ২৫০ জন রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। এই হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ব্রিয়ান ফ্রেডম্যান বলেন, ইরানের হামলা শুরুর পরপরই ২৫০ রোগীকে আন্ডারগ্রাউন্ডের এসব ফ্লোরে আনা হয়।

এই চিকিৎসক বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এ প্রস্তুতি নিয়েছি। এই স্থানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানা সম্ভব নয়।’ এই হাসপাতালে যুদ্ধে আহত ব্যক্তিদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় আবারও ফিরে এসেছে ইসরায়েলে। সে সময় মানুষ বাধ্য হয়ে বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন, আবারও সে চিত্র দেখা যাচ্ছে।

নাইন নিউজের ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন ভবনের নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সেখানে গেছেন। অনেকে বসে বই পড়ছেন। 

অনেকে বিছানা পেতেছেন সেখানে। তেল আবিবে আশ্রয় নেওয়াদের একজন খসরো নেমাতি। তিনি ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’

যুদ্ধ শুরুর দিন তেল আবিবে যখন হামলা শুরু হয় তখনই অনেকে স্থানীয় সিনাগগ, বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজ ও পাতাল রেলস্টেশনে আশ্রয় নেন। তেল আবিবের অ্যালেনবি স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছিলেন ইসরায়েল হায়ওম। তিনি বলেন, তিনি যে ভবনে থাকেন সেখানে আশ্রয় নেওয়ার কোনো জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে রেলস্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে দেখা যায়, তেল আবিবের বেশ কিছু স্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এসব ভবনে আঘাতে কাচের টুকরা পড়ে রয়েছে রাস্তার পাশে। সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। ভিডিওতে এক পাতাল রেলস্টেশনের চিত্র তুলে ধরা হয়।

এই শহরের চিত্র তুলে ধরে আনা নেসতেরোভা নামের এক নারী বলেন, ‘আমি যে ভবনে থাকি সেই ভবনে নিচের অংশে অর্থাৎ মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ আছে। আমি সেখানে ছিলাম। তবে আমি একা হওয়ায় ভয় লাগছিল। সে কারণে আমি এখানে এসে অন্যদের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছি।’

আনা নেসতেরোভার সঙ্গে একটি কুকুরও আশ্রয় নিয়েছে এই পাতাল রেলস্টেশনে। এই স্টেশনে দেখা যায়, অনেকেই বসার বেঞ্চের ওপর ঘুমিয়ে আছেন। স্টেশনে কথা হয় লুসেট নামের আরেকজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে সারা রাত থাকি। হামলার কারণেই এখানে থাকতে হচ্ছি।’

তেল আবিবে সাকেজ জিভি সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন পিবিএস নিউজের সঙ্গে। এক সন্তানের মা তিনি। বলেন, ‘হামলায় আমাদের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায়ই সাইরেন বাজছে।’

হামলায় জিভির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দিনের বেলায় খোলা আকাশের নিচে থাকেন। তিনি বলেন, ‘সাইরেন বাজলে আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে যাই। আমার দেড় বছরের মেয়েও এখন বুঝতে পারে, কখন আমাদের বাংকারে যেতে হবে।’

জে.এস/

ইসরায়েলি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250