ফাইল ছবি
‘দিল্লীতে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক... খুব শীঘ্রই ডাক আসছে’—এমন বার্তাসহ একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি ঘিরে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সেরনিয়াবাত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে একটি বৈঠকের ছবি দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে, দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে আনার মতো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারী সেটিকে সত্য মনে করে শেয়ার করেছেন।
‘নারী শক্তি’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২৬ মার্চ বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে ‘দিল্লীতে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ঢাকায় জননেত্রীর জন্য বাড়ি প্রস্তুতের কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত। খুব শীঘ্রই ডাক আসছে... মাথায় কাফনের কাপড় আর হাতে লগি-বইঠা নিয়ে মাঠে নামতে হবে’—ক্যাপশনে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এটিই সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট।
পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী ছবিটি সত্য মনে করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শেয়ার করা এসব অ্যাকাউন্ট ও পেজের পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ পোস্টে আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনামূলক বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
ভাইরাল ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি, মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে দেখা যায়।
ভারতে শেখ হাসিনার বৈঠকের এমন ছবি সন্দেহ তৈরি করে, কেননা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে দেশ ত্যাগের পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
এ ছাড়া ছবির নিচে ডান কোণে গুগলের জেমিনি এআই (Gemini AI)-এর সাদা লোগো দেখা যায়। সাধারণত গুগলের এই এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে ছবি তৈরি বা সম্পাদনা করা হলে এমন জলছাপ থাকে।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে ‘PM Modi calls ’Operation Sindoor’ a proud moment: Report’ শিরোনামে সালের ৭ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের ছবির সঙ্গে ভাইরাল ছবিটির মিল পাওয়া যায়। মূল ছবিতে মোদি ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
ভাইরাল ছবিটির সঙ্গে মূল ছবিটি মিলিয়ে দেখা যায়, ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি এবং মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের স্থলে শেখ হাসিনা ও সাদিক আবদুল্লাহর ছবি। ছবির বাকি সব উপাদান একই।
এ ছাড়া ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে ভারতের সশস্ত্রবাহিনী পাকিস্তান ও পিওকে (PoK)-তে সন্ত্রাসবিরোধী ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে। এই অভিযানের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি উচ্চপর্যায়ের ক্যাবিনেট বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই পদক্ষেপকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এটিকে শত্রুপক্ষের জন্য কঠোর জবাব বলেও মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া আলোচিত দাবিতে ভারত বা বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতেও কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ থেকেও এমন বৈঠকের বিষয়েও কোনো তথ্য বা কিছু জানায়নি।
দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির ক্যাবিনেট বৈঠকে শেখ হাসিনা ও সাদিক আবদুল্লাহর উপস্থিতি—এই দাবিটি সঠিক নয়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভার গত বছরের একটি ছবি সম্পাদনা করে মিথ্যা দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।
খবরটি শেয়ার করুন