ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক থেকে আটক ২৩ জনের মধ্যে ১২ জনের ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরির পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান রিমান্ডের আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তাদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।
তারা হলেন—শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (১৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমেদ (২৬) এবং জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
এর আগে, গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের একটি মসজিদ থেকে উগ্রবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেন, পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ওই মসজিদে জড়ো হবেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের মধ্যে ১২ জনকে আজ আদালতে হাজির করা হয়।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের একটি এজলাসে রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য তাদের হাজির করা হয়। সে সময় আদালত কক্ষে বিদ্যুৎ ছিল না। প্রায় ১০ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে আসন গ্রহণ করলেও বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরেনি।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার এবং সিটিটিসির পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ ১২ জনের রিমান্ডের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান আসামিদের প্রত্যেককে ৩ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
আদালতে উপস্থাপন করা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যা, তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ধর্মীয় উগ্রবাদী মতাদর্শের কয়েকজন যুবক জড়ো হয়েছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল উগ্রবাদ, সহিংসতা, জননিরাপত্তা বিঘ্ন করে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো।
সিটিটিসি কর্মকর্তা আখতারের সই করা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে কোনো সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে তারা সবাই 'মিটআপ' নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য ছিলেন।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, 'শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে উগ্রবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি ওই 'মিটআপ' হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটির অ্যাডমিন।'
খবরটি শেয়ার করুন