বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আওয়ামী লীগকে ছাড়া ভোট প্রশ্নবিদ্ধই থাকবে, ওয়াশিংটনে কংগ্রেসনাল ব্রিফিং *** মোদি সরকার ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছে: রাহুল গান্ধী *** ভারত-পাকিস্তান সংঘাত পরমাণু যুদ্ধে গড়াত, ১০টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল: ট্রাম্প *** জামায়াতে ইসলামীর নেতারা যেসব কেন্দ্রে ভোট দেবেন *** বিমানবন্দরে আটক জামায়াত নেতার কাছে ছিল ৭৪ লাখ টাকা: পুলিশ *** সৈয়দপুরের মতো দেশব্যাপী আরও ঘটনা ঘটছে: বিএনপি *** এবার কুমিল্লায় ২ লাখ টাকাসহ জামায়াত নেতাকে পুলিশে সোপর্দ *** ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ-বিহীন রাজনীতি ভারত বেশিদিন মেনে নিতে পারবে না’ *** ভোট দিতে না গেলে 'আক্রান্ত' হওয়ার ভয় আওয়ামী লীগের তৃণমূলে, আতঙ্কে নেতাকর্মীরা *** বাংলাদেশ–ভারত ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগকে ছাড়া ভোট প্রশ্নবিদ্ধই থাকবে, ওয়াশিংটনে কংগ্রেসনাল ব্রিফিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: এনডিটিভি

প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ই ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে যে ভোট হতে যাচ্ছে, তা দেশ-বিদেশে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হিসেবে মূল্যায়িত হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কংগ্রেসনাল ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে।

জামায়াতে ইসলামীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করা; গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষা করতে না পারায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ; ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় ‘অনীহা’ এবং চাঁদাবাজি-ধর্ষণে জড়িতদের দায়মুক্তির অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কথাও উঠে এসেছে এই ব্রিফিংয়ে।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে গত সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ শিরোনামে ‘হিন্দুঅ্যাকশন’ ও ‘কোয়ালিশন অব হিন্দুজ অব নর্থ আমেরিকা‘ এ ব্রিফিং আয়োজন করে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

আজ বুধবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুনানিতে জামায়াতকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধের পক্ষে মত দেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের’ জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল রুবিন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গণতন্ত্র এবং মানবতার ‘দুশমন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নেয় গত বছরের মে মাসে। দলটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষিদ্ধ হওয়ার মধ্যেই আগামীকাল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামীকাল অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন রুবিন। তিনি বলেন, 'ধর্মের দোহাই দিয়ে অন্যায়, অপকর্ম ও দুর্নীতির দায় থেকে রেহাই পেতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তারা অপকর্ম ঢাকতেও ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যা বাংলাদেশের জন্যে কখনও শুভ ফল বয়ে আনবে না।'

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরে রুবিন বলেন, 'ট্রাম্প প্রশাসন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছে, এটা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ধর্মের লেবাসে যারা সন্ত্রাসে লিপ্ত, যারা গণতন্ত্রে শ্রদ্ধাশীল নয়, যারা নারীর স্বাধীনতাকেও হরণ করছে প্রতিনিয়ত, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক হয় কীভাবে?'

এ ব্যাপারে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী হয়েছেন মুহম্মদ ইউনূস।'

আলোচনায় অংশ নিয়ে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান (মিশিগান) টম ব্যারেট বলেন, ইসলামিক চরমপন্থিরা দেশে দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। তাদের কবল থেকে মানবতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সরব রয়েছে।

তিনি বলেন, 'আমরা সবসময় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি-স্থিতি অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কোথাও কেউ আক্রান্ত হোক, কিংবা হত্যার শিকার হোক, তা কেউ-ই সমর্থন করি না।'

ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান (ডেমোক্র্যাট) সুহাস সুব্রামনিয়ম বলেন, 'বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে যাওয়াটা মানা যায় না। একইভাবে দেশটির সবচেয়ে পুরনো এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে যে নির্বাচনের চেষ্টা চলছে, তা ঠিক হচ্ছে না, এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধই থাকবে।'

তিনি বলেন, 'এখন বক্তব্য-বিবৃতির সময় নয়, অ্যাকশন দেখাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে এবং সকলকে জানাতে হবে, বাংলাদেশের নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে না।'

ব্রিফিংয়ে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়য়ক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ ও ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম সামিটের কো-চেয়ার স্যামুয়েল ব্রাউনব্যাক।

তিনি বলেন, 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ব্যাহত হলে তার প্রভাব একটি দেশের মানচিত্রেই শুধু হেরফের ঘটায় না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলে। গণতন্ত্র বিশ্বাসযোগ্য থাকে না।'

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি তুলে ধরেন বাংলাদেশের জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, 'প্রায় ৩০০ সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।'

অনুষ্ঠানে সাউথ এশিয়ান মাইনোরিটিজ কালেক্টিভের প্রেসিডেন্ট প্রিয়া সাহা বলেন, 'বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই চলছে বর্বরতা।'

ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিউ আমেরিকান ভোটার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীলিপ নাথ, সাংবাদিক ও সংগঠক শুভ রায়, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আরিফা রহমান রুমা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রানা হাসান মাহমুদ, পলিসি অ্যানালিস্ট রিটভিক হ্যারি, জিওপলিটিক্যাল এনালিস্ট অ্যাদেল নজরিয়ানা এবং ‘নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি’ শাস্তিকা বিশ্বাস, পূজা দেবি, শায়ান শিল ও প্রেমজিৎ আচারি।

ব্রিফিংয়ে নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার, ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান (ডেমোক্র্যাট) মাইক লেভিন, কংগ্রেসম্যান (রিপাবলিকান) ইয়ং কিম ও কংগ্রেসম্যান (ডেমোক্র্যাট) ডেভিড মিনের প্রতিনিধিত্বকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কয়েকটি থিংক ট্যাংকের কর্মকর্তাও ছিলেন অনুষ্ঠানে। নিউ ইয়র্ক ডেলিগেটসের মধ্য থেকে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দ্বীজেন ভট্টাচার্য।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠন করা হলেও দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে, বা স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না বলে আশঙ্কা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ মনে করছে, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের সমর্থকদের ভোট বর্জনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

এ বিষয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গকে গতকাল মঙ্গলবার বলেন, বৃহস্পতিবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের অস্থিরতার সমাধান করবে না। নির্বাচনের ফলাফল সর্বদা প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে। এই ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে না।

আওয়ামী লীগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250