রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী *** সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী *** নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের *** রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল, বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনা *** শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ১৫ দিন পর কারাগার থেকে ফোনকল—‘আপনার ছেলে জীবিত’ *** ফের সোনার দামে পতন, ভরিতে কত *** মিসরে মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড *** গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ৩০

‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ-বিহীন রাজনীতি ভারত বেশিদিন মেনে নিতে পারবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৬:০৪ অপরাহ্ন, ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্তরে সম্পর্ক শুধু ঐতিহাসিকই নয়, পারস্পরিক আস্থারও বটে। একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে যে সম্পর্কের সূচনা, তা আজ অর্ধশতাব্দী পরেও কমবেশি অটুট থেকেছে।

বছর দেড়েক আগেও যখন আওয়ামী লীগ ইতিহাসে তাদের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল, তখনও ভারত দলটির সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে আশ্রয় দিয়েছে এবং সম্মানিত অতিথির মর্যাদায় আজও তাকে কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে রেখেছে।

শুধু তাই নয়, ২০২৪-র ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী, সাবেক এমপি-মন্ত্রী, সমর্থক ও অ্যাক্টিভিস্টরাও ভারতে আশ্রয় পেয়েছেন এবং ভারতের মাটি থেকেই যতটা সম্ভব রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।

এই সময়কালের মধ্যে ভারত অজস্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, তারা বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) ও পার্টিসিপেটরি (অংশগ্রহণমূলক) নির্বাচন দেখতে চায়–যেটার অর্থ, ভারত চেয়েছে সে দেশের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ লড়ার সুযোগ পাক।

কিন্তু বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় দেশটির নির্বাচন কমিশন সেই সুযোগ দলটিকে দেয়নি এবং আওয়ামী লীগকে ছাড়াই শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন।

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতারা কেউ কেউ এমনও আশা করছেন, ঢাকায় নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারত হয়তো দলটির 'রাজনৈতিক পুনর্বাসন' নিয়েও কথাবার্তা বলবে।

তারা মনে করছেন, ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিল্লির যেহেতু অনেকগুলো 'লিভারেজ' আছে, তাই সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে তারা বন্ধু দলটিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরানোর জন্য নিশ্চয়ই দেনদরবার করবে।

লন্ডন-ভিত্তিক লেখক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রিয়জিত দেবসরকার যেমন বলছিলেন, 'ভারত চিরকালই ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ এবং একটা বাঙালি কালচারাল আইডেন্টিটির জন্য লড়াকে–ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে জরুরি মনে করেছে। এই জিনিসগুলো ডিফেন্ড করার জন্য, ফান্ডামেন্টাল রাইটসগুলোর জন্য ভারত চিরকালই দরজা খুলে রেখেছিল।'

তিনি বলেন, আর সেই জন্য নিশ্চয়ই (ভারতের চোখে) তারা থাকবে...আমি মনে করি আওয়ামী লীগও প্রত্যাবর্তন করবে বাংলাদেশের ইতিহাসে। এই মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা বা বিচারের জন্য ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার কোনো বাস্তবসম্মত সম্ভাবনাও দেখছেন না তিনি।

তিনি বলেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই নতুন যে সরকার আসবে তার সঙ্গে ভারত একটা সুসম্পর্ক চাইবে–কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতারা ও শেখ হাসিনা আমার ধারণা আপাতত ভারতেই থাকবেন। ভবিষ্যতে ইলেকশনের পর এটার আউটকামের ওপর ডিপেন্ড করছে কী হবে।

তার মতে, আপাতত যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও আওয়ামী লীগকে যে বাংলাদেশের পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ থেকে খুব বেশিদিন বাইরে সরিয়ে রাখা যাবে না, দিল্লিতে অনেকেই অবশ্য সে কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

ঢাকায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রিভা গাঙ্গুলি দাস যেমন সরাসরি বলছেন, 'আপনি কতদিন বাদ দিয়ে রাখবেন? আফটার অল, এত বছর ধরে যত ইলেকশন হয়েছে তার ডেটা দেখলে দেখা যায় সে দেশে ত্রিশ পার্সেন্ট বা তার কিছু বেশি সংখ্যক মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। আর আওয়ামী লীগ একটা লেফট অব সেন্টার পলিটিক্সকে রিপ্রেজেন্ট করে, যেটার একটা স্পেস আছে বাংলাদেশে–প্রচুর স্পেস আছে।'

ঠিক এই কারণেই তিনি ধারণা করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ আবার একদিন অবধারিতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। যদিও সেটা ঠিক কীভাবে ঘটবে, তা এখন আন্দাজ করা কঠিন। আওয়ামী লীগ এ ধরনের চ্যালেঞ্জ আগেও ফেস করেছে, তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সময় লাগে ...।

'আমার মনে হয় এটা একটা ওপেন কোয়েশ্চেন, কিন্তু ওরা যে পলিটিক্সটা রিপ্রেজেন্ট করে আমি মনে করি সেটা প্রাসঙ্গিক। আর সেই পলিটিক্সটাকে কীভাবে শেষ করা যাবে? আমার মনে হয় না সেটা সম্ভব', বলছিলেন রিভা গাঙ্গুলি দাস।

ভারতে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের যে শত শত নেতাকর্মী আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন, তারা বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের যে 'ঐতিহাসিক বন্ধন' তা অত সহজে ছেঁড়ার নয়।

এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে বিবিসি ভারতে একাধিক শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কথা বলেছে–কিন্তু একান্তে খোলাখুলি কথা বললেও 'অন রেকর্ড' তারা তাদের বক্তব্য জানাতে চাননি নানা কারণে।

তবে সম্প্রতি দিল্লিতে আওয়ামী লীগের হয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকা অভিনেত্রী তথা রাজনীতিবিদ রোকেয়া প্রাচী এ প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য ভিডিওতে রেকর্ড করে বিবিসি বাংলার কাছে পাঠিয়েছেন।

ওই বার্তায় তিনি বলেন, 'ভারত কেবল আওয়ামী লীগের বন্ধু তা না, ভারত বাংলাদেশেরও বন্ধু। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতে যেমন ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি সম্ভব না, বা ইউএসএ-তে ডেমোক্র্যাটদের বাদ দিলে ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি থাকছে না ... তো বাংলাদেশেও একই রকম, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে বাদ দিলে ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি কোথায়?'

যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে 'ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি' বা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের গুরুত্ব আছে, সেই কারণেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ-বিহীন রাজনীতিকে ভারত বেশিদিন মেনে নিতে পারবে না বলে মনে করছেন তিনি।

রোকেয়া প্রাচী সেই সঙ্গেই বলছেন, 'আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে বন্ধু ভারত রাষ্ট্রের যে সম্পর্ক, সেই ১৯৭১ সালের আস্থা, নির্ভরতা, ভালোবাসা, আবেগের যে সম্পর্ক–সেই জায়গায় যে আস্থাশীলতা–আমি মনে করি ১২ তারিখের নির্বাচন সেখানে কোনো ম্যাটার করে না।'

তিনি বলেন, 'আমরা বরং এটা বলতে পারি যে বাংলাদেশে যখন ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি ব্যাহত হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ করতে না দিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্যও সঙ্কটের, উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে!'

এই উদ্বেগের জায়গাগুলো অ্যাড্রেস করার জন্য আজ হোক বা কাল, ভারতকে কিছু পদক্ষেপ নিতেই হবে–আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীর সে রকমই বিশ্বাস।

আওয়ামী লীগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250