ছবি: সংগৃহীত
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ব্লিটজ পত্রিকার সম্পাদক সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের নিরাপত্তা, উগ্রবাদ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেন।
পোস্টের শুরুতে সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী লেখেন, কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, একজন আলোচিত উগ্রপন্থী নেতার আহ্বানে যদি 'কালেমার পতাকা'র নামে নিষিদ্ধ সংগঠনের পতাকা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার ভাষ্য, "কেউ আমার কথা শোনেনি। এবার দেখছি কথিত মার্শাল আর্টের নামে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে একদল তরুণ। ওদের বডি ল্যাংগুয়েজ কিংবা কথাবার্তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়—এরা এরই মাঝে উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকেছে।"
সম্প্রতি ঢাকায় ছয়জন তরুণকে আটকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ওঠার পরও কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রশ্ন, "ওরা পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রকাশ্যে অপমান করছে। অথচ এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। কেনো হচ্ছে না?" তিনি আরও লেখেন, "এসব অপতৎপরতা এক্ষুনি বন্ধ না করা গেলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ভীষণ সংকটে পড়বে।"
নিজের পোস্টে ২০২৫ সালের কয়েকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ক্ষমতাধর উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন, "দেশের ৭টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে মোট ৮ হাজার ৮৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণার্থীদের কারাতে, জুডো, তায়কোয়ান্দো এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।"
এ ছাড়া একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের একটি বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে জামায়াতের ৫০ লাখ যুবক ভারতের বিরুদ্ধে "স্বাধীনতার জন্য লড়াই" করতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী তার পোস্টে আরও দাবি করেন, সম্প্রতি ঢাকায় আটক হওয়া ছয় তরুণের একজন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, "সন্দেহ করলে অমূলক হবে না, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দৃষ্টিতে আসা কথিত মার্শাল আর্টের আড়ালে সন্দেহজনক কাজকর্মের পেছনে ইউনূস গ্যাং কিংবা এনসিপির যোগসাজশ।"
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র লুটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার আশঙ্কা, "মার্শাল আর্টের আড়ালে গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসী গ্যাংগুলোর হাতে ওই লুণ্ঠিত মালামাল যদি চলে যায়, তাহলে এটা শুধু জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই হুমকি হবে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।"
আটক হওয়া এনসিপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি। তার ভাষ্য, "তাকে ওই দল বহিষ্কার করে নিশ্চিতভাবেই শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইলো। এমনকি শেষ পর্যন্ত এই আটককৃত এনসিপি নেতাকে যদি ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে কিংবা ছেড়ে দেওয়া হয়, এতে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। কিন্তু এটা হলে নিশ্চিতভাবেই আমরা এই অপতৎপরতার পেছনে প্রকৃত ইন্ধনদাতা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া লোকদের চিনতে পারব না।"
সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন আলোচিত বিষয় সামনে তুলে ধরেছেন। বিতর্কিত বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েও তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পিছপা হন না। জাতীয় নিরাপত্তা, উগ্রবাদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো ইস্যুতে তার ধারাবাহিক লেখালেখি জনপরিসরে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সালাউদ্দিন শোয়েব একজন সাহসী ও স্পষ্টভাষী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। সমসাময়িক নানা ইস্যুতে তিনি নির্ভীকভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। অনুসন্ধানী লেখালেখি ও বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধের মাধ্যমে তিনি পাঠকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা তাকে একজন পরিচিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার সন্দেহে ছয় যুবককে রোববার (৫ জুলাই) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৫৪ ধারায় তাদের আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গোয়েন্দা তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তারা উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শাহ আমানত সাবির ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)-এর স্ব-প্রতিরক্ষা বা মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক ও প্রতিষ্ঠাতা।
শাহ আমানত সাবির কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস) নামের সংগঠনটির বিরুদ্ধে মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় শাহ আমানত সাবির সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেছিলেন, ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস) ইসলামী মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় এবং মিউজিক বা মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের মতো প্রথাগত মার্শাল আর্টের রীতিনীতি বর্জন করে।
খবরটি শেয়ার করুন