শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নিষেধাজ্ঞা কাটাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা, নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ *** রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা থাকছে না: সড়কমন্ত্রী *** তিন মাস পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীর *** হয়তো এখনই নয়, তবে ইরান সরকারের পতন হবেই: ট্রাম্প *** ‘পদত্যাগ ও মেয়াদ পূর্ণ করার কথা—সাহাবুদ্দিন দুটিই বলেন প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে’ *** সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ‘সাধাসিধা’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান *** ‘প্রধানমন্ত্রীর সামনে যে সুযোগ রয়েছে, তা আগের কোনো দলীয় নেতার ছিল না’ *** অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার *** মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী *** বিতর্কিত শোক প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাসুদ কামাল

১৭১৫ সালে ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে মিলল ১২ কোটি টাকার সোনা-রুপার মুদ্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৩:২৯ অপরাহ্ন, ৪ঠা অক্টোবর ২০২৫

#

মুদ্রাগুলোকে ‘পিসেস অব এইট’ নামে ডাকা হয়। ছবি: সংগৃহীত

১৭১৫ সালে ডুবে যাওয়া এক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে মিলল হাজারেরও বেশি রৌপ্যমুদ্রা এবং পাঁচটি স্বর্ণমুদ্রা। এর আনুমানিক বাজারমূল্য এক মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ফ্লোরিডার উপকূলে জাহাজডুবির স্পট থেকে এসব মুদ্রা উদ্ধার করেছে ১৭১৫ ফ্লিট–কুইন্স জুয়েলস এলএলসি নামের এক জাহাজ উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান।

মোটর ভেসেল জাস্ট রাইটের ক্যাপ্টেন লেভিন শেভার্স এবং তার ক্রুরা ফ্লোরিডার ট্রেজার কোস্টের কাছে এই রৌপ্যমুদ্রাগুলো পান, যেগুলো ‘রিয়েলস’ নামে পরিচিত। আর উদ্ধার হওয়া পাঁচটি স্বর্ণমুদ্রা যেগুলো ‘এস্কুদোস’ নামে পরিচিত।

জাহাজ উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই ধনভান্ডার আসলে অনেক বড় একটি ভান্ডারের অংশ। ১৭১৫ সালের ৩১শে জুলাই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে স্প্যানিশ নৌবহর ডুবে যাওয়ার সময় হারিয়ে গিয়েছিল এই অর্থসম্পদ। নৌবহরটি স্পেনের দিকে যাচ্ছিল। ঐতিহাসিকদের ধারণা, ওই ঝড়ে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সোনা, রুপার মুদ্রা ও গয়না সমুদ্রে হারিয়ে যায়।

প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন ডিরেক্টর স্যাল গুটুসো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই আবিষ্কার কেবল ধনসম্পদ নয়, এর সঙ্গে জড়িত ইতিহাসও। প্রতিটি মুদ্রা ইতিহাসের অংশ। স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগের কথা তুলে ধরে এগুলো। সে সময় যারা বেঁচে ছিলেন, কাজ করেছেন এবং সাগর পাড়ি দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের সংযোগ তৈরি করে এগুলো। একসঙ্গে ১ হাজার মুদ্রা পাওয়া বিরল এবং একই সঙ্গে বিস্ময়কর।’

মুদ্রাগুলোকে ‘পিসেস অব এইট’ নামে ডাকা হয়। এগুলো মেক্সিকো, পেরু ও বলিভিয়ার স্প্যানিশ উপনিবেশে তৈরি হয়েছিল। অনেক মুদ্রায় এখনো তারিখ ও টাঁকশালের চিহ্ন স্পষ্ট রয়েছে, যা এগুলোকে ঐতিহাসিক ও সংগ্রাহক উভয়ের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মুদ্রাগুলোর অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো কোনো একটি সিন্দুক বা চালানের অংশ ছিল, যা জাহাজটি ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে যাওয়ার সময় সাগরে ছড়িয়ে পড়ে।

আবিষ্কারের স্থানটি ফ্লোরিডার সমুদ্রসীমায় ‘ট্রেজার কোস্ট’ নামে পরিচিত একটি স্থানে। এখানে কঠোর সরকারি তত্ত্বাবধান ও প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দেশিকা মেনে আধুনিক উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে এখনো সেই দুর্ভাগা নৌবহরের ধ্বংসাবশেষ খোঁজা হচ্ছে।

স্যাল গুটুসো আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি আবিষ্কারই ১৭১৫ সালের নৌবহরের গল্পটিকে আরও বাস্তব করতে সাহায্য করে। আমরা এই নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।’

উদ্ধার করা মুদ্রাগুলো জনসমক্ষে প্রদর্শনের আগে সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। স্থানীয় জাদুঘরগুলোতে বাছাই করা কিছু মুদ্রা প্রদর্শনের পরিকল্পনা চলছে, যাতে ফ্লোরিডাবাসী এবং পর্যটকেরা সরাসরি দেখতে পারেন ফ্লোরিডার সামুদ্রিক অতীতের এই ধনভান্ডার।

জে.এস/

আমেরিকা জাহাজ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250