শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ: মাহফুজ আনাম *** এবারও ভিন্ন আবহে এল ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ *** বিএনপিকে ‘খুশি’ রেখে মেয়াদ পূর্ণ করতে চান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন *** বিএনপি সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর *** এশিয়াজুড়ে তীব্র জ্বালানি উদ্বেগ *** ইরানে হামলার প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭০ কোটি ডলার *** জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থীকে কূটনীতিকদের সমর্থন দিতে আহবান প্রধানমন্ত্রীর *** ‘অবৈধ গণভোট আয়োজনের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন সিইসি’ *** ‘ড. ইউনূসের আমলের সব কিছুর তাকে দায়ী করা যাবে না কেন’ *** ইরান যুদ্ধের খরচ নিয়ে উদ্বেগ খোদ যুক্তরাষ্ট্রে

কাশ্মীরের সবচেয়ে আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিলেন ভারতীয় গুপ্তচর—বিস্ফোরক দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:০৮ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৫

#

২০১৫ সালে জেকেএলএফ-এর চেয়ারম্যান ইয়াসিন মালিক। ছবি: আল-জাজিরা

কাশ্মীরের সবচেয়ে আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে ঘিরে নতুন এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লি হাই কোর্টে জমা দেওয়া ৮৪ পৃষ্ঠার হলফনামায় মালিক দাবি করেছেন, দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ভারতের একাধিক প্রধানমন্ত্রী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন।

পাকিস্তানি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তার বৈঠকও ছিল ভারতীয় সরকারের অনুমোদিত শান্তি প্রচেষ্টার অংশ। এই দাবি এখন নতুন প্রশ্ন তুলেছে—তিনি কি আসলেই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তচর ছিলেন?

এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, শ্রীনগরের মাইসুমা এলাকায় জন্ম নেওয়া মালিক প্রথম আলোচনায় আসেন ১৯৮৭ সালের বিতর্কিত কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচনের পর।

সেবার ভোট কারচুপির অভিযোগ নিয়ে তিনি এবং তার সঙ্গীরা পাকিস্তানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরে সেখানে তিনি অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে তিনি জেকেএলএফ (জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট) এর নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৯ সালে এই দলটি সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে।

তবে পাকিস্তানের সঙ্গে তার সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়েছিল। কারণ ইয়াসিন মালিক চেয়েছিলেন স্বাধীন কাশ্মীর, পাকিস্তানের সঙ্গে একীকরণ নয়। ১৯৯০ সালে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি দাবি করেন, তিহার জেলে বা দিল্লির অতিথিশালায় তার সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রতিদিন দেখা করতেন এবং সশস্ত্র পথ ত্যাগ করতে উৎসাহিত করতেন।

১৯৯৪ সালে মুক্তির পর তিনি সশস্ত্র লড়াই পরিত্যাগের ঘোষণা দেন এবং অহিংস প্রতিবাদের মাধ্যমে স্বাধীন কাশ্মীরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় তিনি বারবার গ্রেপ্তার হলেও ‘অদম্য নেতা’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পান।

কিন্তু ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর মালিক আবারও গ্রেপ্তার হন, নিষিদ্ধ করা হয় তার সংগঠন জেকেএলএফ-কে, তার বিরুদ্ধে পুরোনো মামলাগুলোও আবার সচল করা হয়। ২০২২ সালে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ একাধিক সাজা দেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহার কারাগারে বন্দী।

গত আগস্টে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) মালিকের যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করার আবেদন করলে মালিক পাল্টা হলফনামা দেন। তিনি দাবি করেন—নব্বইয়ের দশক থেকে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, আরএসএস নেতাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেছেন।

২০০৬ সালে পাকিস্তানি জঙ্গি নেতা হাফিজ সাঈদের সঙ্গে তার বৈঠক ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-এর উদ্যোগে। তিনি দিল্লির নির্দেশে বারবার শান্তি প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছেন, এমনকি ২০১৬ সালে বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীরের বিক্ষোভ প্রশমনে গোপনে ভূমিকা রেখেছেন।

২০০১ সালে ভারত সরকার তাকে পাসপোর্ট দেয়, যার মাধ্যমে তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং প্রতিবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে তার যোগাযোগের বিষয়ে অবহিত রাখেন।

মালিকের এমন দাবিতে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে ‘সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ভারত অতীতে অনেককে ব্যবহার করে পরে বাদ দিয়েছে বা শাস্তি দিয়েছে, মালিকও হয়তো সেই ভাগ্য বরণ করছেন।

তবে ভারতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অজয় সাহনির মতে—মালিক নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে গিয়ে যা দেখিয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি দুই দিকেই খেলেছেন।

তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আছে। আর সরকার সুবিধা দিয়েছে বলেই এত বছর মুক্ত থেকে তার কাজ করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে সাংবাদিক বিক্রম জিত সিংহ মনে করেন, মালিকের দাবি ‘বিশ্বাসযোগ্য’। তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনে ভারত সরকার বহু ক্ষেত্রেই এই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের কাজে লাগিয়েছে।’

এ অবস্থায় মালিকের হলফনামা একদিকে ভারতের কাশ্মীর নীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের চরিত্র নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

তিনি কি সত্যিই শান্তির জন্য ব্যবহৃত হয়েছিলেন, নাকি পরিস্থিতি সামলাতে তাকে হাতিয়ার বানানো হয়েছিল—এখন সেই সত্যই আলোচনার কেন্দ্রে।

জে.এস/

ইয়াসিন মালিক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250