ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ার ক্ষমতাসীন শাসকদের বিরুদ্ধে অভিযানের এক নতুন পর্ব শুরুর ঘোষণা দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। পাশাপাশি দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর পৃথক দুটি হামলার দায় স্বীকার করেছে তারা।
গত শনিবার নিজেদের বার্তা সংস্থা দাবিককে তারা জানায়, দেইর আল-জোর প্রদেশের মায়াদিন শহরে পিস্তল ব্যবহার করে ‘এক ধর্মত্যাগীর’ ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় রাক্কা শহরে মেশিনগান দিয়ে আরো দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের হামলায় সেনাবাহিনীর এক সদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকারের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে আইএস। শারা একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি ওই সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সিরিয়ার ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্ব নেন।
তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী ২০২৪ সালের শেষ দিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক রেকর্ড করা বার্তায় আইএসের মুখপাত্র আবু হুদায়ফা আল-আনসারি মন্তব্য করেন, ‘সিরিয়া ইরানের দখল থেকে তুরস্ক-আমেরিকার দখলে গেছে।’ গোষ্ঠীটি প্রেসিডেন্ট শারাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের তদারককারী বলেও অভিহিত করে এবং তার পরিণতি আসাদের মতো হবে বলে হুমকি দেয়।
গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে শারা আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে সিরিয়ার যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই সময় হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
এর দুইদিন আগে দেইর আল-জোরে আরেক হামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত ও আরেকজন আহত হন। ওই হামলার দায়ও স্বীকার করেছে আইএস।
আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি হামলা চালিয়েছে আইএস। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী দপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট শারা ও তার মন্ত্রিসভার দুই জ্যেষ্ঠ সদস্যকে হত্যার উদ্দেশ্যে পাঁচটি ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল জঙ্গি গোষ্ঠীটি।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন