ছবি: সংগৃহীত
ব্যাপক ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জেফ বেজোসের মালিকানাধীন প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট। গতকাল বুধবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট কর্মীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে ছাঁটাই করেছে, যা ইতিমধ্যে চাপে থাকা পত্রিকাটির সংবাদকক্ষকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে। এই ছাঁটাইকে পত্রিকাটির ইতিহাসের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছাঁটাই নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি পত্রিকাটির মালিক ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তবে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন পোস্ট-কে আবারও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন। এই উদ্যোগ নিয়ে সংবাদকর্মীদের একাংশ বেজোসের উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।
পত্রিকাটির সাবেক ফ্যাক্ট-চেকার গ্লেন কেসলার এক কলামে মন্তব্য করেন, ‘বেজোস ওয়াশিংটন পোস্ট-কে বাঁচাতে চাইছেন না, তিনি আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে চাইছেন।’ বেজোস ও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যামাজনের সম্পর্ক বরাবরই জটিল। চলতি সপ্তাহেই বেজোস তার মালিকানাধীন মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে আতিথ্য দেন।
কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে সিএনএন জানিয়েছে, বুধবার সকালে কর্মীদের ‘আজ বাসায় থাকুন’ নির্দেশ দিয়ে একটি ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হয় কে ছাঁটাইয়ের তালিকায় আছেন। নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় জানান, প্রায় সব সংবাদ বিভাগেই বড় ধরনের কর্মী সংকোচন হচ্ছে। এর আওতায় মেট্রো ডেস্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করা হয়েছে, ক্রীড়া বিভাগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ, বই বিভাগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দৈনিক ‘পোস্ট রিপোর্টস’ পডকাস্ট বাতিল করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কাভারেজও ব্যাপকভাবে কমানো হচ্ছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কিছু ব্যুরো ‘কৌশলগত উপস্থিতি’ বজায় রাখবে বলে জানান মারে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও বড় ধরনের কাটছাঁট চলছে।
এই ছাঁটাই নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যামাজন বিট রিপোর্টার ক্যারোলিন ও’ডোনোভান সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমি বিদায় নিচ্ছি, সঙ্গে যাচ্ছেন এই পেশার সেরাদের অনেকে—ভয়াবহ।’ জাতি ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক রিপোর্টার ইমানুয়েল ফেলটন বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত আর্থিক নয়, বরং আদর্শগত।
পত্রিকাটির সাবেক নির্বাহী সম্পাদক মার্টি ব্যারন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবাদমাধ্যমটির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলোর একটি।’ তার মতে, ব্যবসায়িক সংকট ছিল সত্য, কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের ভুল সিদ্ধান্ত সেই সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতি-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ আর অন্যান্য বিভাগ সংকোচনের কৌশল ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সাংবাদিকতার বহুমাত্রিক চরিত্রকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন