ছবি: সংগৃহীত
ইরানজুড়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হামলায় জবাব দিচ্ছে ইরান। নিজেদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে লোকজন সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
এ ছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হতে পারে। তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা করবেন না।
স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আর ইরান বলেছে, আগ্রাসন চলছে, তারাও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে। খবর বিবিসি, আল জাজিরা ও সিএনএনের।
ইরানে হামলার চতুর্থ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার (৩রা মার্চ)। এদিন পর্যন্ত হামলায় ইরানে নিহত হয়েছে ৭৮৭ জন। আর ইরানের হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩০। এ ছাড়া ইরানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গতকাল জানিয়েছে, ইরানে এখন পর্যন্ত ১৫৩টি শহরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ৫০৪টি স্থানে ১ হাজার ৩৯টি হামলা হয়েছে।
হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর জবাব দেওয়া শুরু করে ইরান। মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তারা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক টুইটে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ১৫টি দেশের ভূখণ্ড অথবা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
দেশগুলো হলো ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জর্ডান, ইরাক, বাহরাইন, ওমান, সিরিয়া, সাইপ্রাস, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্য।
গতকাল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হামলা ছিল সৌদি আরবে। গতকাল ভোরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা হয়। এতে সীমিত মাত্রায় আগুন লাগে। পরে দেশটিতে দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া হামলার জেরে কুয়েতের দূতাবাসের কার্যক্রমও বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গতকাল এ প্রসঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন থেকে সামরিক স্থাপনার বাইরেও হামলা হবে।
গতকাল ইরানের আইআরজিসি বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে বলে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে আইআরএনএ জানায়, আইআরজিসি ঘোষণা করেছে, তাদের নৌবাহিনী ভোরে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এতে দাবি করা হয়, ২০টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ঘাঁটিটির কমান্ড সদর দপ্তর ‘ধ্বংস করা হয়েছে’। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বাহরাইনে সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ওমানের দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরের একটি তেলের ট্যাংকারেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এতে সামান্য ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি। কুয়েত ও কাতারে হামলা চালিয়েছে ইরানের বাহিনী।
এ ছাড়া হামলা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমিরাতজুড়ে ইরানের চালানো হামলায় এ পর্যন্ত ৩ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছে।
ইরানের ভেতরে চলমান অভিযানে অন্তত ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বোমা হামলা শুরুর পর এই প্রাণহানি ঘটে।
তবে প্রতিবেশী দেশে হামলা নিয়ে গতকাল কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণ করছি না। আমরা আক্রমণ করছি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে। মার্কিন সেনারা পালিয়ে গিয়েও রেহাই পাবে না।’
এদিকে গতকাল হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে সেটি হামলার শিকার হবে। গতকাল একটি তেলের ট্যাংকারে হামলাও চালিয়েছে তারা।
এর জেরে তেলের দাম আরও বাড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া হামলার নিরাপত্তা শঙ্কা থাকা আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তেল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন