রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন নির্ধারণের তাগিদ *** ঢাকার মূলসড়কে চলতে দেওয়া হবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা *** গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯৬৭ *** সমুদ্রে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত *** ঢাকার মূল সড়কে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা হচ্ছে: শাহে আলম *** মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি *** দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তায় দুর্নীতি-অপচয় ঠেকাতে সরকার-এনজিও অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী *** ‘মেসিকে বিশ্লেষণ করতে গেলে আপনার ভাষা ফুরিয়ে যাবে’ *** ডেঙ্গু রোগী বেশি পিরোজপুরে, যে কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই: আসিফ নজরুল

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৩:০৫ অপরাহ্ন, ২০শে মে ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেছে’—মাহফুজ আলমের এমন বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করার পর তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, “আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি। তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।”

আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উপস্থিতি, প্রভাব ও জনপরিসরে তাদের অবস্থান নিয়ে আসলে কোন ধরনের বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে? পাশাপাশি এই বক্তব্যগুলো দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কেও নতুন আলোচনা সামনে এনেছে।

গতকাল মঙ্গলবার মাহফুজ আলম তার দীর্ঘ পোস্টে আওয়ামী লীগকে কেবল একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং “একটি ধর্মতত্ত্ব” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার বক্তব্যে মূলত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক নানা পরিবর্তনের সমালোচনা উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, উগ্রবাদ, মব সংস্কৃতি, রাজনৈতিক সমঝোতা, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নানা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভাবধারা নতুনভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

মাহফুজ আলমের বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে তখন থেকেই, যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্নে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। তার বিশ্লেষণে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কাঠামোর সমালোচনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন।

অন্যদিকে ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও রাজনৈতিক অর্থে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মূলত মাহফুজ আলমের বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব কখনোই হারিয়ে যায়নি; বরং রাজনৈতিক আচরণ ও ক্ষমতার সময়কার কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল। দলটি ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। স্বাধীনতা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী রাজনীতি এবং রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।

তবে একই সঙ্গে দলটির দীর্ঘ শাসনকালকে ঘিরে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিভিন্ন সমালোচনাও রয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বাচনব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ড. আসিফ নজরুলকে নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিষয়ে মতামত দিয়ে আসছেন। তার সমালোচকেরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, তিনি আওয়ামী লীগের বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন বা দলটির সমালোচনায় সরব থাকেন। অন্যদিকে তার সমর্থকদের মতে, তিনি রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রশ্নে নিজের স্বাধীন মত প্রকাশ করে থাকেন। ফলে তাকে ঘিরে জনপরিসরে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই দুই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেটিজেনদের কেউ মাহফুজ আলমের বক্তব্যকে রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে অতিরঞ্জিত বলছেন।

ফেসবুক ব্যবহারকারী রিয়াদ রহমান লিখেছেন, “আওয়ামী লীগকে শুধু নির্বাচনী রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে ভুল হবে। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার কারণে তাদের প্রভাব বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে আছে।”

আরেকজন নেটিজেন সাবা ইসলাম মন্তব্য করেন, “মাহফুজ আলম যেভাবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নকে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, তা অনেকের কাছে নতুন ব্যাখ্যা হতে পারে; তবে সবকিছুকে একটি দলের সঙ্গে যুক্ত করাও প্রশ্নের জন্ম দেয়।”

অন্যদিকে তানভীর হাসান নামের একজন লেখেন, “আসিফ নজরুল বলতে চেয়েছেন হয়তো রাজনৈতিক বাস্তবতায় দল কখনো অদৃশ্য হয় না। ক্ষমতা হারালেও প্রভাব থেকে যেতে পারে।”

মেহজাবিন নূর নামে আরেকজন লিখেছেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে—প্রত্যেক পক্ষ অপর পক্ষকে নিজেদের ভাষায় ব্যাখ্যা করতে চাইছে।”

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘ফিরে আসা’ বা ‘ব্যাক করা’ শব্দগুলো কেবল সাংগঠনিক সক্রিয়তার প্রশ্ন নয়; বরং সামাজিক প্রভাব, সাংস্কৃতিক উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক বয়ান তৈরির সক্ষমতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

দেশের রাজনীতিতে বহুবার দেখা গেছে, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো জনমত, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র কিংবা প্রশাসনিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে গেছে। ফলে আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান নিয়েও হয়তো একই ধরনের প্রশ্ন সামনে আসছে—দলটি সাংগঠনিকভাবে কতটা সক্রিয়, আর রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাবশালী।

মাহফুজ আলম ও আসিফ নজরুলের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও একটি জায়গায় তারা পরোক্ষভাবে একই বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছেন—দেশের রাজনৈতিক পরিসরে আওয়ামী লীগ এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রশ্ন হচ্ছে, এই উপস্থিতি কতটা সাংগঠনিক, কতটা আদর্শিক, আর কতটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন—সেটিই হয়তো আগামী সময়ের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।

আসিফ নজরুল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250