শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২১শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বড়দিনের তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০১:৫১ অপরাহ্ন, ২৫শে ডিসেম্বর ২০২৪

#

ছবি- সংগৃহীত

বড়দিন বা হ্যাপি ক্রিসমাস ডে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি মানুষ  আড়ম্বরপূর্ণভাবে বড়দিন উদযাপন করে। দিনটি খ্রিষ্টান ধর্মের প্রধান ধর্মগুরু যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন।

খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিষ্ট অলৌকিকভাবে পৃথিবীতে আগমন করেন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে, এই পৃথিবীর সকল পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে, মানুষে মানুষে বন্ধনকে আরও সুসংহত করতে যিশুখ্রিষ্ট পৃথিবীতে মানুষের রূপ ধরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর এই তাৎপর্যপূর্ণ আগমনের দিবসকে স্মরণ করে তাঁর অনুসারীরা বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে জাঁকজমকের মধ্য দিয়ে এই শুভ বড়দিন উৎসব পালন করে। তাদের কাছে পুণ্যময় বড়দিনটির ধর্মীয় তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক বিশ্বে অন্য যেকোনো দিবসের চেয়ে ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক এমনকি রাজনৈতিকভাবেও দিবসটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পশ্চিমা  বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোতে দিবসটি সাড়ম্বরে পালিত হয়। তাই বড়দিন উৎসব নিয়ে বিপুল এই আগ্রহ এখন শুধু আর খ্রিষ্টানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সব ধর্মের-বর্ণের মানুষের কাছে তাই এর আবেদন রয়েছে।

ফিলিস্তিনের বেথেলহেমে এই দিনে এক জরাজীর্ণ গোয়ালঘরে জন্ম নিয়েছিলেন এক মহামানব যার নাম যিশুখ্রিষ্ট। তখন থেকেই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটিকে বড়দিন হিসেবে পালন করে আসছে। দেড় হাজার বছরের অধিক কাল ধরে পালিত হয়ে আসছে বড়দিন। ব্যাপক আড়ম্বরের মাধ্যমে দেশে দেশে এ দিনটি পালিত হয়। সান্তা ক্লজের আবির্ভাব, ক্রিসমাস ট্রি, আলোকসজ্জা, উপহার, কেক, ঘোরাঘুরি, মজার খাবার, গির্জায় প্রার্থনা এবং প্রিয়জনের সান্নিধ্যে দিনটি পরম আনন্দে কাটানো হয়। 

ইতিহাস অনুযায়ী রোমান সাম্রাজ্যের সময় ৩৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বড়দিনের উৎসব পালন করা হয়। পোপ জুলিয়াস প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে বড়দিন উৎসব পালন করার ঘোষণা দেন। সেই থেকে দেশে দেশে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। তবে এর আগে বড়দিনের উৎসব তেমন জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না এবং তা ইউরোপের বাইরে ছড়ায়নি। মূলত মধ্যযুগের পর একেবারে আধুনিক সময়ে বড়দিনের উৎসব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। অন্য তথ্যমতে এটি ঐতিহাসিক রোমান উৎসব। পবিত্র বাইবেলে যিশুর জন্মদিন সম্পর্কে পরিষ্কার কিছু উল্লেখ নেই। এর ইতিহাস জানতে যেতে হবে যিশুখ্রিষ্টের জন্মের আগে মানবসভ্যতার গোড়ার দিকে। রোম সাম্রাজ্যে ইউরোপের সবচেয়ে বড় উৎসব ছিল তাদের কৃষি দেবতা এবং শনি গ্রহের সম্মানে এক বিশেষ উৎসব। এই উৎসব শীতের মাঝামাঝি সময়ে ২৫শে ডিসেম্বরের দিকে পালিত হতো। তখন রোম সাম্রাজ্যে সবকিছু বন্ধ থাকত কয়েক দিন। ধনী-গরিব ছোট-বড় সবাই ভেদাভেদ ভুলে যেত। সে সময় অবশ্য যিশুর অনুসারীরা এ উৎসবকে বিধর্মী উৎসব বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। রোমান সাম্রাজ্যে খ্রিষ্ট ধর্ম রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করলে দিনে দিনে বড়দিন প্রাণ পেতে শুরু করে। দিন ও তারিখের মতভেদ থাকলেও যিশুখ্রিষ্টের মাহাত্ম্য স্বমহিমায় উজ্জ্বল।

যিশুখ্রিষ্ট যে মানবতার বাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেই শুধু প্রযোজ্য নয়, সমস্ত মানবজাতির ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। তিনি বলেছিলেন, তোমার প্রতিবেশীর জন্য তাই কামনা কর, যা তুমি নিজের জন্য চাও। তিনি বলতেন, সবাইকে ক্ষমা কর। তিনি বলতেন, যতক্ষণ সবাইকে তুমি ক্ষমা করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি স্বর্গে প্রবেশ করবে না। ঈশ্বর তাকেই ক্ষমা করেন, যে সবাইকে ক্ষমা করে। যা কিছু অন্যায় তা থেকে দূরে থাকো। কোনও পাপ কাজ করো না। কাউকে হত্যা করো না। চুরি করো না। কোনও কিছুর প্রতি লোভ করো না।

বর্তমানে সারা বিশ্বেই বড়দিন ধর্মীয় উৎসবের বাইরে সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। বড়দিন এখন খ্রিষ্টান ধর্ম ছাড়িয়ে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের কাছে আবেদন  সৃষ্টি করেছে। শুভ বড়দিন।

আই.কে.জে/  


বড়দিন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন