রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন নির্ধারণের তাগিদ *** ঢাকার মূলসড়কে চলতে দেওয়া হবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা *** গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯৬৭ *** সমুদ্রে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত *** ঢাকার মূল সড়কে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা হচ্ছে: শাহে আলম *** মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি *** দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তায় দুর্নীতি-অপচয় ঠেকাতে সরকার-এনজিও অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী *** ‘মেসিকে বিশ্লেষণ করতে গেলে আপনার ভাষা ফুরিয়ে যাবে’ *** ডেঙ্গু রোগী বেশি পিরোজপুরে, যে কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

ওসমান হাদির কবর ও জুলাই জাদুঘর নিয়ে বিতর্কে মোস্তফা ফিরোজের মন্তব্যে নতুন মাত্রা

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, ২৭শে মে ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাদুঘরের জন্য গণভবনকে বেছে নেওয়া এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ এ দুটি সিদ্ধান্তকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্ম’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাংবাদিক মাহফুজ হাসানের সঞ্চালনায় দৈনিক কালের কণ্ঠের ‌সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেছেন মোস্তফা ফিরোজ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর করা প্রয়োজন ছিল, তবে সেটির জন্য গণভবন উপযুক্ত স্থান ছিল না। তার ভাষ্য, দেশের অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে জুলাই জাদুঘর স্থাপন করা যেত। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতীকী অবস্থানের কারণে গণভবনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

একই আলোচনায় তিনি আরও বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদিকে কবি নজরুলের সমাধির পাশে দাফনের সিদ্ধান্তও ছিল অযৌক্তিক। তার মতে, জাতীয় স্মৃতির সঙ্গে জড়িত স্থানগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও পরিমিত ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা প্রয়োজন ছিল।

মোস্তফা ফিরোজ তার বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সে সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা না করে বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হয়েছে। তার অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার বদলে তাৎক্ষণিক চাপ বেশি প্রভাব ফেলেছে।

তবে তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে পাল্টা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ওসমান হাদিকে ঘিরে জনআবেগ এবং তার মৃত্যুর পটভূমি বিবেচনায় না এনে কেবল সমাধিস্থলকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করা কতটা যৌক্তিক।

শরিফ ওসমান বিন হাদি আলোচিত হয়ে ওঠেন মূলত জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে। পরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তার সরব উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে।

কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে তার ওপর হামলার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে ঘটনাটি হত্যাচেষ্টা হিসেবে তদন্ত শুরু হয়। পরে তার মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। তদন্তে বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদের নাম সামনে আসে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে অস্ত্র ব্যবসায়ীও গ্রেপ্তার হন। তদন্তে অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন নিয়েও অনুসন্ধান করা হয়।

হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তার সমর্থক ও অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক আবেগ তৈরি হয়েছিল। জানাজা, স্মরণসভা এবং সামাজিক মাধ্যমে তার স্মৃতিচারণ নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলতে থাকে। তার সমাধিস্থল নিয়েও সে সময় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমর্থকদের একটি অংশ সেই সিদ্ধান্তকে সম্মাননা হিসেবে দেখলেও সমালোচকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ছিল—রাষ্ট্রীয় স্মৃতির স্থানের ব্যবহার কী নীতিমালার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

মোস্তফা ফিরোজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সেই পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে।

সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুকে রাকিব মাহমুদ নামের একজন লিখেছেন, “কোনো ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখানো আর রাষ্ট্রীয় প্রতীকের ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য আছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক।” নুসরাত জাহান নামে আরেকজন লিখেছেন, “হাদি হত্যাকাণ্ডের পর মানুষ আবেগ থেকে সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এখন পেছনে ফিরে সবাই নতুন করে বিশ্লেষণ করছে।”

আরিফুল ইসলাম নামে একজন মন্তব্য করেন, “রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হয়। তবে একজন নিহত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এমন ভাষা ব্যবহার না করলেও পারা যেত।” অনেকে মোস্তফা ফিরোজের বক্তব্যের ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে স্বাভাবিক বিষয় হলেও “কাণ্ডজ্ঞানহীন” শব্দের ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্ককে বাড়িয়ে দিতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশে স্মৃতি, প্রতীক এবং রাজনীতি—এই তিনটি বিষয় দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কোনো স্থাপনা, সমাধি কিংবা স্মারককে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেটি প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুধু সিদ্ধান্ত নয়, সিদ্ধান্তের পদ্ধতিও আলোচনায় উঠে আসে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় স্মৃতির স্থান নির্ধারণ কিংবা জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার—এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি হবে কি না। কারণ ব্যক্তি, আবেগ এবং রাজনীতির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মূল্যায়ন প্রায়ই সময়ের সঙ্গে বদলে যায়।

মোস্তফা ফিরোজ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250