ছবি: সংগৃহীত
খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বেশিরভাগ জমিতে নোনাপানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ হতো। কয়েক বছর আগে সামাজিক আন্দোলনের কারণে লবণপানিতে চিংড়ি চাষের ঘেরগুলো বন্ধ হতে শুরু করে। লবণের প্রভাব কাটিয়ে এলাকায় আবার ফিরতে থাকে সবুজ ফসলের চাষাবাদ। একসময়ের এক ফসলি আমন ধানের এলাকায় কৃষকের ভরসা হয়ে ওঠে সুস্বাদু তরমুজ। কম বিনিয়োগে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ লাভ হওয়ায় দিনে দিনে নতুন নতুন কৃষক তরমুজ চাষে আগ্রহী হন। এখানকার কৃষকের কাছে তরমুজ হয়ে ওঠে স্বপ্নপূরণের ফসল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ৫৩টি স্লুইসগেট বন্ধ করে দিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে দুই উপজেলার খালগুলোতে মিষ্টি পানি আছে। এখনও সমুদ্রের নোনাপানি প্রবেশ করেনি। এ অবস্থায় আশপাশের খালগুলোর ৫৩টি স্লুইসগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাতে আগামী তিন মাস সমুদ্রের নোনাপানি স্লুইসগেট দিয়ে ঢুকে কৃষিজমিতে আসতে না পারে। এই সময়ের মধ্যে খালের মিষ্টি পানি সেচ দিয়ে স্বপ্নের ফসল তরমুজ ঘরে তুলবেন তারা।
চাষিরা জানিয়েছেন, একই পদ্ধতিতে গত পাঁচ বছর ধরে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। অল্প সময়ে কম বিনিয়োগে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ লাভ হওয়ায় তরমুজ চাষ করছেন। এর মধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। এবারও রেকর্ড পরিমাণ জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্য তাদের। তবে এবার সারের দাম বেড়েছে। এজন্য বেশি খরচ হবে। ২০২৩ সালে অনেক চাষি আগেভাগে তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এজন্য এবার আগেভাগে চাষ শুরু করেছেন।
দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব ও বটিয়াঘাটা উপজেলার কাতিয়ানাংলা এলাকায় দেখা গেছে, চাষিরা জমি তৈরি করে তরমুজের বীজ রোপণ করছেন। কেউ কেউ আগাম ফলন পাওয়ার আশায় আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করেছেন। দেড় থেকে দুই ইঞ্চি লম্বা হলেই চারাগুলো জমিতে রোপণ করছেন।
তরমুজ চাষে এলাকার মানুষের ভাগ্য ফিরেছে জানিয়ে দাকোপ উপজেলার নগেন দাশ ও মো. রাব্বি মিয়া জানিয়েছেন, এখন খালে মিষ্টি পানি থাকায় স্লুইসগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে চাষের শুরুতেই জমিতে মিষ্টি পানি দেওয়া যায়। মিষ্টি পানিতে তরমুজ ভালো এবং সুস্বাদু হয়। নোনাপানি ঢুকলে সব নষ্ট হয়ে যায়। গত কয়েক বছর মিষ্টি পানিতে তরমুজ চাষ করে এই এলাকার মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছেন।
আগে নোনাপানিতে চিংড়ি চাষ করতাম, গত তিন বছর দরে তরমুজ চাষ করছি জানিয়ে দাকোপের সুদীপ মল্লিক বলেন, ‘এবার সারের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। তাই কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছি। তারপরও আগাম তরমুজ চাষ করছি। নোনাপানি ঠেকাতে খালের স্লুইসগেটগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী তিন মাস নোনাপানি ঢুকবে না। এই সময়ের মধ্যে সবার ফলন ঘরে উঠে যাবে।’
আরো পড়ুন: ব্রয়লার মুরগির মৃত্যুহার কমাবে আমলকি পাউডার
এসি/ আই.কে.জে/
খবরটি শেয়ার করুন