বুধবার, ৪ঠা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:১৭ অপরাহ্ন, ৬ই ডিসেম্বর ২০২৫

#

ফাইল ছবি

আজ ৬ই ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস। গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের এই দিনে পদত্যাগ করেন তৎকালীন স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ। এই দিনে তিনি অস্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান হয়। মুক্তি পায় গণতন্ত্র।

সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটসহ বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর টানা আন্দোলনের মুখে এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ডা. শামসুল আলম খান মিলন, নূর হোসেনসহ অনেককে প্রাণ দিতে হয়েছে।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল ও ওয়ার্কার্স পার্টি-জাসদের নেতৃত্বে ৫টি বাম দল ১৯৯০ সালের ২১শে নভেম্বর যৌথভাবে একটি রূপরেখা ঘোষণা করেছিল। জামায়াতে ইসলামী তিন–দলীয় জোটে না থাকলেও এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাল মিলিয়ে অংশ নিয়েছিল।

স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হলেও পরবর্তী সময়ে তিন জোটের বহুল আলোচিত সেই রূপরেখার বাস্তবায়ন হয়নি। পূর্ণ গণতন্ত্র, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নাগরিকের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো কার্যত অধরা রয়ে যায়।

অন্যদিকে ক্ষমতা ছাড়ার পরও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এরশাদ। তার দল জাতীয় পার্টি এখনো সক্রিয়। ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নেন এইচ এম এরশাদ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। এরপর তখনকার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছিল জাতীয় পার্টি।

২০১৪ সালের একতরফা বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করার পর শেখ হাসিনার সরকার এইচ এম এরশাদকে ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। সেবার একই সঙ্গে সরকারে এবং সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। তখন থেকে তারা ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে তকমা পায়।

এরপর ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পরও সংসদে বিরোধী দলে ছিল এরশাদের দল। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর এরশাদ হয়েছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। পরের বছর ২০১৯ সালে তার মৃত্যু হয়।

বিএনপি এই দিনকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে। আওয়ামী লীগ দিনটি পালন করত ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে। আর এরশাদের জাতীয় পার্টি দিনটিকে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালন করে।

জে.এস/

স্বৈরাচার পতন দিবস

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250