ছবি: সংগৃহীত
নিজের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের আরও দুইজন নারী সহকর্মীকে নিয়ে অপর সংসদ সদস্য আমির হামজার কুৎসিত ভাষায় দেওয়া বক্তব্যের জন্য স্পিকারের কাছে বিচার চেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি আপনার দৃষ্টিতে আরেকটি খবর আনতে চাই। আজকে ডেইলি স্টারে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এই সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে এই সংসদে উপস্থিত আরেকজন সদস্য যে কদাকার, কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছে, যে কুৎসিত ভাষায় বক্তব্য দিয়েছে, আমি আপনার কাছে এই ব্যাপারে বিচার চাইছি। সংসদে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি বিষয়টিকে দেখবেন।’
নারী এমপিদের নিয়ে আমির হামজার ‘বডি শেমিং’ মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনি রুলস অব প্রসিডিওর পড়লে দেখবেন যে সংবাদপত্রের রিপোর্টিং নিয়ে কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না।’
এর আগে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা তাকে সংসদ প্রাঙ্গণে ‘জঙ্গি’ বলে সম্বোধন করার বিচার চান।
হানজালা বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমি গত ৩০ মার্চ আপনার (স্পিকারের) সহধর্মীনির জানাজায় আমি এসেছিলাম। দক্ষিণ প্লাজা থেকে যখন আমি ভেতরে ঢুকব একদম কাছাকাছি পেছন থেকে কেউ একজন আমাকে সম্বোধন করছিল—“ওই যে জঙ্গী এমপি যাচ্ছে।”’
হানজালা আরও বলেন, ‘একটু পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখলাম যে এই বিষয়ে খুব লেখালেখি এবং এই ভিডিওটা নিয়ে খুব আলোচনা চলছে। জাতীয় সংসদের একজন রানিং এমপিকে সংসদের কাছে যখন জঙ্গী বলে সম্বোধন করা হয়, এটার জন্য এই সংসদের মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করছি।’
এ ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানান হানজালা। তার ভাষ্য, সংসদের বিরোধীদল ও প্রশাসনের সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য এটা হতে পারে।
হানজালার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আপনাকে অনুরোধ জানাবো বিশেষ অধিকার প্রশ্নে আপনি এ ব্যাপারে একটি নোটিশ দেন। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।’
খবরটি শেয়ার করুন