ফাইল ছবি
কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাংবাদিক ফারজানা রূপাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে বিএমইউতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন।
কারা সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা ও জেলার মাসুদ হাসান জুয়েল বিষয়টি সুখবর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় ফারজানা রূপা ফ্যাটি লিভার, স্ত্রীরোগসংক্রান্ত সমস্যা এবং আরও কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। এ কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মাসুদ হাসান জুয়েল বলেন, ‘তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন।’
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে থাকা অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে ফারজানা রূপাকে বিএমইউতে নেওয়া হয়। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য কারা কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
সাংবাদিক ফারজানা রূপা একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক। একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল আহমেদ তার স্বামী। ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট দুজনকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তারা দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর আদাবর এলাকায় পোশাকশ্রমিক রুবেল নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আদালতের আদেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে ফারজানা রূপা কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান হয়। ওই সময় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডসহ নানা ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা করা হয়। এসব মামলায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
ফারজানা রূপার বিরুদ্ধেও গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে আদাবর থানায় দায়ের করা পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাটিও রয়েছে।
মামলার এজাহারে বিভিন্ন আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা, উসকানি বা সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে কোনো মামলায় আসামি হওয়া বা গ্রেপ্তার হওয়া নিজেই অপরাধ প্রমাণ করে না। অভিযোগগুলোর বিচার আদালতে প্রমাণ হওয়ার বিষয়।
ফারজানা রূপার আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের কারণে তাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অন্যদিকে, মামলার বাদীপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য হলো, অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়ায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর ফারজানা রূপাকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার মধ্যে এবারই তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানা গেল।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় তার ফ্যাটি লিভার, স্ত্রীরোগসংক্রান্ত সমস্যা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। কারাগারে থাকা কোনো বন্দী গুরুতর অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে কারাগারের বাইরে সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ফারজানা রূপাকে বিএমইউতে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তিনি সাধারণ ওয়ার্ডে নন, হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে চিকিৎসার পাশাপাশি কারাগারের বন্দী হিসেবে তাঁদর নিরাপত্তাব্যবস্থাও বজায় রাখা হচ্ছে।
ফারজানা রূপা বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় পরিচিত মুখ। দীর্ঘ সময় তিনি একাত্তর টেলিভিশনে সাংবাদিকতা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় ইস্যুতে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন করেছেন।
টেলিভিশন সাংবাদিকতায় কাজ করার সময় রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন, নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর তার কারাবন্দী থাকার বিষয়টি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলার প্রসঙ্গে আলোচনায় আসে। সাংবাদিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের কেউ কেউ তার দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি দ্রুত করার দাবিও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
ফারজানা রূপার সঙ্গে একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শাকিল আহমেদও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক। দুজনই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
কারাগারে থাকা বন্দীদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো বন্দী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। ফারজানা রূপাকে বিএমইউতে নেওয়ার ঘটনায়ও কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফ্যাটি লিভার ও স্ত্রীরোগসংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি তার অন্যান্য শারীরিক জটিলতা কতটা গুরুতর, তা চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলতে পারবেন। হাসপাতালে কত দিন তাকে থাকতে হবে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি।
এদিকে ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান। তার কারাবাস, মামলা এবং এখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি সাংবাদিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে। এর মধ্যে অসুস্থতার কারণে তার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি বিএমইউর প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবরটি শেয়ার করুন