বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সৌদিতে রমজানের কাউন্টডাউন শুরু, সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ *** সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হুমকি থেমে নেই—বদলেছে সরকার, বদলায়নি ঝুঁকি *** প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ *** হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি জ্বালানিমন্ত্রী টুকু *** লঘুচাপে টানা বৃষ্টির আভাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা *** নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১২৭, নিখোঁজ প্রায় ৪৯০০ *** আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরে হিন্দুত্ববাদীদের হামলার কারণ কী, গেরুয়া ‘গুন্ডামি’ শিরোনাম ঘিরে কেন উত্তেজনা *** পশ্চিমবঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরে হামলা হিন্দুত্ববাদীদের *** জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক বিচারপতি, সেনা কর্মকর্তাসহ ৬০৫ জন *** যন্তর মন্তর থেকে জামা মসজিদ, কী চায় ভারতের জেন-জি

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হুমকি থেমে নেই—বদলেছে সরকার, বদলায়নি ঝুঁকি

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ১২:৫৪ অপরাহ্ন, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশের প্রশ্নটি বারবার সামনে এসেছে। নির্বাচন, রাজনৈতিক কর্মসূচি, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবেদন, স্থানীয় বিরোধ বা ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড—বিভিন্ন ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা হামলা, মারধর, হুমকি, হয়রানি, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন। বছরের প্রথম আট মাসের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হামলাকারী হিসেবে কখনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, কখনো শিক্ষার্থী সংগঠনের কর্মী, কখনো পুলিশ, আবার কখনো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অপরাধীদের নাম এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণেও দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজে জুনে বলেছিল, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের চক্র ভাঙতে হবে। সংগঠনটির ভাষ্য, গত কয়েকটি সরকার পরিবর্তনের প্রতিটি পর্যায়েই সাংবাদিকেরা আটক, মামলা, নজরদারি, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

বছরের শুরুতেই এমন পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলেছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান বিএনএন এশিয়ার জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দৈনিক ইত্তেফাক জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সাংবাদিকেরা শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি ও নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েছিলেন। ২৭ জানুয়ারি নরসিংদীতে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের একটি অনুষ্ঠান চলাকালে সংঘর্ষে অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হন।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে পরিস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুরে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন করার পর দৈনিক সমকালের সাংবাদিক সোহাগ খানকে হাতুড়ি ও ছুরি দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। আগের দিন তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান। তাকে সহায়তা করতে গিয়ে নিউজ টোয়েন্টিফোরের বিধান মজুমদার, বাংলা টিভির নয়ন দাস ও দেশ টিভির সাইফুল ইসলাম আকাশও আহত হন। বিষয়টি নিয়ে পরে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বা আরএসএফ।

৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এটিএন নিউজের সাংবাদিক জাভেদ আখতারের ওপর বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাকে সহায়তা করতে গিয়ে এনটিভির হাসান জাবেদ ও দীপ্ত টিভির আজিজুল ইসলাম পান্নুও আক্রান্ত হন। পরদিন ঢাকায় বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি ও স্থাপনা ভাঙচুরের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ইনডিপেনডেন্ট টিভির মোহাম্মদ ওমর ফারুক, একাত্তর টিভির সৈয়দ মাইনুল আহসান মারুফসহ কয়েক সাংবাদিক হামলার শিকার হন। ৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের একটি কর্মসূচি কাভার করার সময় পুলিশের লাঠিচার্জ, ঘুষি ও লাথির শিকার হন অন্তত ছয় সাংবাদিক।

১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম প্রতিদিন কার্যালয়ে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক পরিচয়ে কয়েক শ মানুষ ঢোকার চেষ্টা করেন। একটি প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবিতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে আরএসএফ জানায়। পুলিশ তাদের ঠেকালেও ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে চাপ প্রয়োগের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে।

৫ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির ভবনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলায় প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ প্রতিদিন, জনকণ্ঠ ও যায়যায়দিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের একাধিক সাংবাদিক আহত হন। পরদিন কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ৬ মার্চ সাংবাদিকেরা মানববন্ধন করেন।

মার্চে হামলার পাশাপাশি মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও আলোচনায় ছিল। ৫ মার্চ সাংবাদিক আনিস আলমগীর উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। কিন্তু মুক্তি পেতে তাকে আরও মামলার মুখোমুখি হতে হয়। ৩০ মার্চ সাংবাদিক শওকত মাহমুদকে শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

এপ্রিলেও হামলার ধারাবাহিকতা থামেনি। খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় ২৮ এপ্রিল দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবির কথা উঠে আসে।

এপ্রিলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সাংবাদিক হত্যা মামলায় রাজনৈতিক ব্যক্তির গ্রেপ্তার। ২৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা আবদুল আওয়ালকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

মে মাসে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকা সাংবাদিকদের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। ১৪ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বরের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমালোচিত হয়। সিপিজে ১৫ মে তাদের মুক্তির দাবি জানায়।

মে মাসের সামগ্রিক চিত্রও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস বা বিএজের হিসাবে, ওই মাসে অন্তত ৫৫ সংবাদকর্মী হামলা, মামলা ও হুমকির শিকার হন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন শারীরিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার এবং ১৭ জন আইনি হয়রানি, গ্রেপ্তার ও হুমকির মুখে পড়েন। মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং, রাজনৈতিক দলের উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ঠিকাদার ও হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে এসব ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল।

জুনে এসে সমস্যাটি যেন আরও প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নেয়। বিএজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই মাসে অন্তত ৫৯ সংবাদকর্মী হামলা, মামলা ও হুমকির শিকার হন। এর মধ্যে ৪০টি ঘটনায় ৫১ জন শারীরিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। ছয়জন আইনি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়েন এবং দুজন হুমকি ও ছিনতাইয়ের শিকার হন।

১৮ জুন বগুড়ায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে তার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইন, মানহানি, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। সিপিজে জানায়, একই মামলায় আরও পাঁচ সাংবাদিককে আসামি করা হয়।

২৩ জুন ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতের একটি কর্মসূচি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক মাহফুজুর রহমান শিশির হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্তত ১০ সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ করেন। প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উঠে আসে। পরে দলটি ঘটনাটিকে তদন্তের কথা জানায়। 

জুলাইয়ে পরিস্থিতির অবনতি আরও স্পষ্ট। বিএজের হিসাবে, ওই মাসে ৬৪ সংবাদকর্মী হামলা, মামলা, হুমকি ও পেশাগত কাজে বাধার শিকার হন। তাদের মধ্যে ৩৭ জন শারীরিক হামলায় আহত, ১২ জন আইনি হয়রানির শিকার এবং ১৫ জন হুমকি, হেনস্তা ও পেশাগত কাজে বাধার মুখে পড়েন। একই সময়ে মিডিয়া ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্টের পর্যবেক্ষণে ৩৯টি ঘটনায় ৫০ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও সংজ্ঞার পার্থক্যে সংখ্যায় কিছু তারতম্য থাকলেও জুলাইয়ে সাংবাদিকদের ওপর চাপ যে বেড়েছিল, তাতে দুই পর্যবেক্ষণের মধ্যে মিল রয়েছে।

জুলাইয়ের শেষদিকে গণমাধ্যম কার্যালয়ও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় ৬ জুলাই রাতে সাইফুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৯ জুলাই তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। খুলনায় সাংবাদিকদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত একটি জায়গা লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাকেও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের শনাক্তের দাবি জানায়।

আগস্টে এসে একের পর এক স্থানীয় হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। ১১ আগস্ট রাঙামাটির সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঢাকায় শাহবাগ থানার পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ আগস্ট শরীয়তপুরে সাংবাদিক বি এম ইসরাফিলের ওপর হামলায় তার ডান হাত ভেঙে যায়। প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।

২৫ আগস্ট শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিএনপির কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও জাগো নিউজের বিধান মজুমদার এবং মানবকণ্ঠের বরকত মোল্লা মারধরের শিকার হন। তাদের অভিযোগ, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা ও তার সহযোগীরা হামলা করেছেন। একই সময়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, তাদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণে পুলিশ গড়িমসি করলেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দ্রুত নেওয়া হয়েছে।

২৭ আগস্ট কুমিল্লা সদর দক্ষিণে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ২৯ আগস্ট ঝিনাইদহে ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধি ওমর আলী সোহাগের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। একটি অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাকে ছাত্রদলের ১৫ থেকে ২০ কর্মী মারধর করেন বলে তার অভিযোগ। তার ভাষ্য, তাকে সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে অপমান করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

আগস্টের সামগ্রিক চিত্রও সংখ্যায় উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণে অন্তত ছয় সাংবাদিক হামলার শিকার, চার সংবাদকর্মী হেনস্তা ও হুমকির মুখে এবং ২৯ গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে সিপিজে ১৮ আগস্ট জানায়, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে। তাদের দীর্ঘদিন আটক থাকা এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডকে ফৌজদারি মামলার আওতায় আনার বিষয়ে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করে।

এই ধারাবাহিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি তাই কেবল কত সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন, তা নয়; বরং কেন সাংবাদিকের পেশাগত কাজ বারবার রাজনৈতিক বিরোধ, ক্ষমতার প্রভাব, প্রশাসনিক চাপ কিংবা স্থানীয় আধিপত্যের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিণত হচ্ছে। হামলার পর দলীয়ভাবে তদন্তের ঘোষণা এসেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, ঘটনার পর দায় নির্ধারণ এবং বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার ঘাটতি রয়েছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো হামলাকারী রাষ্ট্রীয় বা অরাষ্ট্রীয়—যেই হোক—তাকে আইনের আওতায় আনা। সিপিজেও একইভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলার ঘটনায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্‌স্বাধীনতার নিশ্চয়তা রয়েছে। সেই স্বাধীনতার বাস্তব প্রয়োগের অন্যতম মাধ্যম স্বাধীন সাংবাদিকতা। কোনো সংবাদ ভুল হলে তার প্রতিবাদ, ব্যাখ্যা বা আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে; সাংবাদিককে মারধর করা, ভয় দেখানো, ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া কিংবা মামলা দিয়ে চাপে রাখার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ ও মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর একই ধরনের অভিযোগ নতুন সরকারের সময়ও ফিরে আসা তাই শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও সতর্কবার্তা। ক্ষমতার পালাবদল তখনই অর্থবহ হবে, যখন ক্ষমতাবানদের সমালোচনা করার অধিকারও নিরাপদ থাকবে।

সাংবাদিক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

সৌদিতে রমজানের কাউন্টডাউন শুরু, সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

🕒 প্রকাশ: ০১:১১ অপরাহ্ন, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হুমকি থেমে নেই—বদলেছে সরকার, বদলায়নি ঝুঁকি

🕒 প্রকাশ: ১২:৫৪ অপরাহ্ন, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ

🕒 প্রকাশ: ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: রাশিয়াকে দায়ী করে মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন লড়াই শুরু জার্মানির

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক সিনেমাতেই কোটি রুপি, দক্ষিণী অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিক কত

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250