বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ৬৪ জেলায় ৬৪ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে মন্দ হতো না: রুমিন ফারহানা *** ৬৪ জেলায় ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপের নতুন দায়িত্ব, কে পেলেন কোন জেলা *** যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আসল অবস্থান কী, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, ভারত কেন উদ্বিগ্ন *** নেপালে বন্যায় মৃত বেড়ে ৩৩২, এখনো নিখোঁজ অন্তত ১৫০০ *** মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির *** রংপুরে ৪ খুন: সাংবাদিকদের ডেকে প্রশ্নের জবাব না দিয়েই সটকে পড়লেন কমিশনার *** রংপুরে চার খুন: হত্যার স্থান, সময় ও কারণ নিয়ে পুলিশ কমিশনারের নতুন ভাষ্য *** স্বাস্থ্যসেবায় প্ল্যান মেডি ট্রিপের সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের ০% ইএমআই সুবিধা *** বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আইনশৃঙ্খলা, সার ও বিদ্যুৎ নিয়ে প্রশ্ন *** সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় তিন সাপের বাচ্চা

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আসল অবস্থান কী, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, ভারত কেন উদ্বিগ্ন

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৭:২৭ অপরাহ্ন, ২৭শে আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আগ্রহের কথা এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এখনই বাংলাদেশ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। একই সঙ্গে চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী লাভ বা ক্ষতি হতে পারে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আজ সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অবস্থান জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রমে বিষয়টি ওঠে।

রুমিন ফারহানা জানতে চান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হলে দেশের কী সুবিধা হতে পারে। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি তিন দেশের মধ্যে হয়েছে। বাংলাদেশ এতে যোগ দেবে কি না, সেই প্রশ্ন এখনো আসেনি। কারণ, বিষয়টি প্রথমে নির্ভর করবে চুক্তির সদস্যদেশগুলো বাংলাদেশকে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে কি না।

খলিলুর রহমান বলেন, সদস্যদেশগুলো যদি বাংলাদেশকে নেওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করে, তাহলে ঢাকা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তবে তার আগে চুক্তিটির ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, চুক্তিটি যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে এটি মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হতে পারে। তার ভাষায়, এটি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

সরকারের অন্য পর্যায়ের বক্তব্যে এর আগে আরও সরাসরি আগ্রহের কথা এসেছে। ২৪ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, বাংলাদেশ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা চুক্তি হলে বাংলাদেশের সেখানে যাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। রয়টার্সও তার বক্তব্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরব বাংলাদেশকে চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও বলেছিলেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করা হবে। তিনি বিশেষ করে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনেন। সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত। ফলে ওই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতি ও প্রবাসী আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ সরকারের বক্তব্যগুলো পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় পরিষ্কার। বাংলাদেশ এখনো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিষয়টি নাকচও করছে না। বরং আমন্ত্রণ এলে এবং দেশের স্বার্থে সুবিধা বেশি মনে হলে যোগ দেওয়ার পথ খোলা রাখছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সই হয় ৭ আগস্ট। সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এতে সই করেন। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিন দেশের কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই ব্যবস্থা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তুরস্ক অবশ্য বলেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।

চুক্তির পেছনে পশ্চিম এশিয়ার বদলে যাওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় কারণ। ইরানের সঙ্গে সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, ইয়েমেনের হুতিদের হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর আগের মতো নির্ভর করা যাবে কি না—এসব প্রশ্ন সৌদি আরবকে নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বিশ্লেষণ করেছে।

তবে বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি ভিন্ন। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা-চাহিদা এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা-চাহিদা এক নয়। এই পার্থক্যটিই বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় সতর্কতার জায়গা।

দেশীয় গণমাধ্যম ডেইলি স্টারে প্রকাশিত বিশ্লেষণে কল্লোল কিবরিয়া বলেছেন, চুক্তির সদস্য তিন দেশের নিরাপত্তা-অগ্রাধিকার বাংলাদেশের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বাংলাদেশের উচিত কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার আগে এর পরিণতি খুব সতর্কভাবে দেখা। কারণ, সদস্য হলে এমন কোনো সংঘাতে বাংলাদেশ জড়িয়ে পড়তে পারে, যার সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ সুখবর ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এমন চুক্তিতে যোগ দেওয়া কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে লাভ-ক্ষতির হিসাব না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। তার মতে, চুক্তির উদ্দেশ্য কী এবং বাংলাদেশ এতে কী পাবে, তা আগে পরিষ্কারভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

গবেষক আলতাফ পারভেজ অর্থনৈতিক দিকটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন। তার মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল শুধু নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি বিশ্ব অর্থনীতিরও বড় কেন্দ্র। সেখানে সংঘাত বাড়লে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও বাণিজ্যে প্রভাব পড়ে। তাই চুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিও আগে দেখা দরকার।

রয়টার্সকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শানও সতর্কতার কথা বলেছেন। তার মতে, বাংলাদেশ যদি কোনো সামরিক জোটে যোগ দেয়, তাহলে ভারতের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ এতে অসন্তুষ্ট হতে পারে। তবে অন্য দেশ কী ভাববে, সেটি বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচনা।

এখানেই আসে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি। ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাকিস্তান। মক্কা চুক্তির তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একজন পাকিস্তান। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বৈরিতা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ যদি এমন একটি সামরিক জোটে যোগ দেয়, যেখানে পাকিস্তান সদস্য, তাহলে দিল্লি এটিকে শুধু ইসলামি দেশগুলোর সহযোগিতা হিসেবে দেখবে না। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কৌশলগত সমীকরণের সম্ভাবনাও দেখবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস চুক্তিটির ‘ভারতের জন্য অর্থ’ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছে, পাকিস্তান এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে একটি নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হয়েছে। পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা, তুরস্কের সামরিক শক্তি এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সক্ষমতা—এই তিনটি শক্তির সমন্বয় ভারতের জন্য নজর রাখার মতো বিষয়।

ইন্ডিয়া টুডেও চুক্তিটিকে পশ্চিম এশিয়ার বাইরের বৃহত্তর শক্তির সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখেছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চুক্তিতে যুক্ত হলে পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকার নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও টানাপোড়েন চলছে। ফলে বিষয়টি দিল্লির জন্য স্বাভাবিকভাবেই সংবেদনশীল।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেও প্রশ্ন তুলেছে, ভারতকে এই চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তানকে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্ত করা হলে ইসলামাবাদের মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় ভূমিকা বাড়বে। ভারতের দৃষ্টিতে এর আঞ্চলিক প্রভাব কী হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ভারতের উদ্বেগের আরেকটি কারণ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। বাংলাদেশ ভারত ও চীনের মাঝামাঝি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে। বঙ্গোপসাগরেও বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে ঢাকার কোনো বড় সামরিক জোটে প্রবেশ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় থাকবে না। এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণেও পড়তে পারে।

তবে এখনই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না যে বাংলাদেশ চুক্তিতে যোগ দিলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অবশ্যম্ভাবীভাবে খারাপ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘদিনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখা। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে একই সময়ে সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজনও। রপ্তানি, প্রবাসী আয়, জ্বালানি আমদানি ও বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই বহু দেশের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা রয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, সামরিক জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের এই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি নতুন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতার মূল কথাও এখানেই। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাড়বে কি না, শুধু চুক্তির নাম বা সদস্যদেশগুলোর পরিচয় দেখে তা বলা যাবে না। চুক্তির পূর্ণ কাঠামো, বাংলাদেশের দায়িত্ব, সম্ভাব্য সামরিক প্রতিশ্রুতি, সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক প্রভাব আগে বুঝতে হবে।

কারণ, কোনো একটি সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে বড় দায় তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ যদি এমন কোনো জোটে থাকে এবং কোনো সদস্যদেশের সঙ্গে অন্য দেশের যুদ্ধ শুরু হয়, তখন ঢাকার ওপর অবস্থান নেওয়ার চাপ আসতে পারে। ডেইলি স্টারের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে এমন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হবে, যার সঙ্গে তার নিজস্ব কোনো বিরোধ নেই।

তাই সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আপাতত বাংলাদেশের সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থানটি তুলে ধরেছে। ঢাকা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমন্ত্রণ এলে তা বিবেচনা করবে। সদস্যদেশগুলোর আগ্রহ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি আবেগের ভিত্তিতে নেওয়ার সুযোগ নেই। মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও বাংলাদেশের প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়ানোর চেয়ে অনেক বড় সিদ্ধান্ত। এতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা—তিনটিই জড়িত।

এই কারণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, আগে বিস্তারিত লাভ-ক্ষতির হিসাব করা। চুক্তির বাস্তব কাঠামো পরিষ্কার করা। সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা। একই সঙ্গে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন তাই মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়া হবে কি না, শুধু সেটি নয়। মূল প্রশ্ন হলো—যোগ দিলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী হবে এবং এর বিনিময়ে কূটনৈতিক স্বাধীনতার কতটা মূল্য দিতে হবে। সেই হিসাবই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের জন্য সুযোগ, নাকি নতুন ঝুঁকি।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250