শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** হরমুজ প্রণালি খুলতে ‘নতুন পরিকল্পনায়’ সর্বোচ্চ নেতার সমর্থন: ইরানের প্রেসিডেন্ট *** ‘একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ’-এর আত্মপ্রকাশ: একাত্তর-চব্বিশ মুখোমুখি না করার দাবি *** আবু জাফর সূর্যকে আটকের নিন্দা, দ্রুত মুক্তির দাবি নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের *** ভারতে চার বছরে দল বদল করেছেন ১১১ সংসদ সদস্য, শীর্ষে নাগাল্যান্ড ও পশ্চিমবঙ্গ *** পাকিস্তানে নিরাপত্তাচৌকিতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১১ *** প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদী আমলের অপকর্ম পরিত্যাগ করুন: জামায়াত আমির *** প্রাথমিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী *** শেখ হাসিনার বিষয়টি ঢাকা ও দিল্লির ওপর ছেড়ে দিল ওয়াশিংটন, তারেক রহমানের প্রতি আস্থার ইঙ্গিত *** জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী *** যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ

ভারতে চার বছরে দল বদল করেছেন ১১১ সংসদ সদস্য, শীর্ষে নাগাল্যান্ড ও পশ্চিমবঙ্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪২ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী অন্তত ১১১ জন আইনপ্রণেতা রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (এডিআর) এবং ‘ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ’-এর যৌথ বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ সময়ে সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়া ২৬ জন লোকসভা সদস্য, সাতজন রাজ্যসভা সদস্য এবং ৭৮ জন বিধানসভা সদস্য (এমএলএ) দলবদল করেছেন। দলত্যাগ, রাজনৈতিক দলের বিলোপ বা একীভূতকরণ, পদত্যাগ করে উপনির্বাচনে জয়লাভ এবং বরখাস্ত হওয়ার পর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়গুলোকে এই বিশ্লেষণের আওতায় আনা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দলবদলের ঘটনার দিক থেকে সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ। নাগাল্যান্ডে সর্বাধিক ৩২ জন আইনপ্রণেতা দল পরিবর্তন করেছেন, যাদের সবাই রাজ্য বিধানসভার সদস্য। রাজ্যটিতে ক্ষমতাসীন ‘ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি’ (এনডিপিপি) এবং ‘নাগা পিপলস ফ্রন্ট’ (এনপিএফ)-এর মধ্যকার রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের কারণে এই বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এতে এনডিপিপি ছেড়েছেন ২৫ বিধায়ক, যার বিপরীত সুবিধা পেয়ে ৩২ আইনপ্রণেতাকে দলে টেনেছে এনপিএফ।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে দলবদলের ঘটনা ঘটেছে ২০টি এবং এর প্রতিটিই লোকসভা সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি) থেকে নির্বাচিত এই ২০ সংসদ সদস্য পরবর্তীতে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেন। দলটির এমপিরা এটিকে এনসিপিআই-এর সঙ্গে বিধিসম্মত একীভূতকরণ বলে দাবি করেছেন, যা বর্তমানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমাণ।

অন্য রাজ্যগুলোর মধ্যে তেলেঙ্গানায় নয়জন বিধায়ক দলবদল করেছেন, যারা সবাই ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) থেকে নির্বাচিত হয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। গোয়ায় আট কংগ্রেস বিধায়ক ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন। পাঞ্জাবেও আট আইনপ্রণেতা দল পরিবর্তন করেছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন রাজ্যসভা সদস্য এবং দুজন বিধায়ক।

একইভাবে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার (উদ্ধভ ঠাকরে গ্রুপ) ছয়জন লোকসভা সদস্য একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দেন। মেঘালয়ে ছয়জন এবং মণিপুরে পাঁচ বিধায়ক দল বদল করেন। এ ছাড়া অরুণাচল প্রদেশ ও গুজরাটে চারজন করে এবং হিমাচল প্রদেশ ও রাজস্থানে দুজন করে আইনপ্রণেতা দল পরিবর্তন করেছেন। কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, সিকিম ও উত্তরপ্রদেশে একজন করে বিধায়ক এবং দিল্লিতে রাজ্যসভার একজন সদস্য দলবদল করেছেন।

রাজনৈতিক দলভিত্তিক মূল্যায়নে দেখা যায়, দলত্যাগের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এনডিপিপি (২৫ জন), তৃণমূল কংগ্রেস (২০ জন) এবং কংগ্রেস (১৯ জন)। এই তিনটি দল থেকেই মোট ৬৪ জন আইনপ্রণেতা অন্য দলে গেছেন, যা মোট দলবদলের ৫৮ শতাংশ। এ ছাড়া বিআরএস থেকে নয়জন, আম আদমি পার্টি (আপ) ও এনসিপি থেকে সাতজন করে, শিবসেনা (উদ্ধভ) থেকে ছয়জন, জেডিইউ থেকে পাঁচজন এবং এনপিপি থেকে চারজন প্রতিনিধি দল ছেড়েছেন।

অন্যদিকে, দলবদলের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে নাগা পিপলস ফ্রন্ট (এনপিএফ)। তারা সর্বোচ্চ ৩২ জন নতুন আইনপ্রণেতা পেয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিজেপি ২৯ জন এবং এনসিপিআই ২০ জন আইনপ্রণেতাকে নিজেদের দলে টেনেছে। এই তিনটি দল সম্মিলিতভাবে ৮১ জন বা মোট দলবদলকারী আইনপ্রণেতাদের ৭৩ শতাংশ নিজেদের দলে ভিড়িয়েছে। বাকিদের মধ্যে কংগ্রেস নয়জন, শিবসেনা আটজন, এনপিপি ছয়জন এবং পিপলস পার্টি অব অরুণাচল চারজন আইনপ্রণেতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

এডিআরের মতে, কোনো কেন্দ্রীয় বা সরকারি পর্যায়ে আইনপ্রণেতাদের দলবদলের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত না থাকায় এই পরিসংখ্যানটিকে চূড়ান্ত বা সর্বাত্মক বলা যাবে না। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনপ্রণেতাদের এই ধরনের দলবদল বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচিত সরকার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলত্যাগ বিরোধী বর্তমান আইন ও ব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে এডিআর বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করেছে। তাদের মতে, দলত্যাগী আইনপ্রণেতাদের বরখাস্ত সংক্রান্ত আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিধানসভার স্পিকার বা সভাপতির হাত থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি (সংসদ সদস্যদের জন্য) এবং রাজ্যপালদের (বিধায়কদের জন্য) হাতে দেওয়া উচিত, যা তাঁরা নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে বাস্তবায়ন করবেন। পাশাপাশি, বরখাস্তের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং উপনির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দলত্যাগীদের কোনো সরকারি পদে আসীন হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

ভারত

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালি খুলতে ‘নতুন পরিকল্পনায়’ সর্বোচ্চ নেতার সমর্থন: ইরানের প্রেসিডেন্ট

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৮ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ’-এর আত্মপ্রকাশ: একাত্তর-চব্বিশ মুখোমুখি না করার দাবি

🕒 প্রকাশ: ০৮:০২ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবু জাফর সূর্যকে আটকের নিন্দা, দ্রুত মুক্তির দাবি নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের

🕒 প্রকাশ: ০৭:৫২ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে চার বছরে দল বদল করেছেন ১১১ সংসদ সদস্য, শীর্ষে নাগাল্যান্ড ও পশ্চিমবঙ্গ

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪২ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানে নিরাপত্তাচৌকিতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১১

🕒 প্রকাশ: ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250