ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই সাংবাদিক ভারত সরকার ‘পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা’ বন্ধ করবে কবে—এমন প্রশ্ন করলে জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন করেন—‘একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের পার্শ্ববর্তী এক আয়োজনে এই ঘটনা ঘটে। জবাব দেওয়ার পর জয়শঙ্করসহ ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সেখান থেকে উঠে চলে যান। তবে ওই সাংবাদিক তখনো কথা বলতে থাকেন।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তান বা পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ভারতের বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নেপালি নাগরিকও ছিলেন। হামলার পর ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ভারত দাবি করে, এসব স্থাপনা লস্কর-ই-তাইয়েবা (এলইটি) ও জইশ-ই-মুহাম্মদের (জেইএম) মতো গোষ্ঠীর অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিল।
এদিকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ভারত। ভারতের কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, পাকিস্তানের উচিত অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে আকাঙ্ক্ষা বা সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের পরিবর্তে নিজেদের উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া। তার ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড ও কাউন্সিলে ‘নাটকীয়তা’ পাকিস্তানের ঋণনির্ভর অর্থনীতির সমস্যা সমাধান করবে না।
ত্যাগী পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জুন থেকে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার এবং খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধার বিষয়ও তুলে ধরেন। তবে পাকিস্তান এসব ভারতীয় অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকার করে না।
খবরটি শেয়ার করুন