ছবি: সংগৃহীত
আদালতের পথেও পুলিশের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আজ শনিবার প্রিজনভ্যান থেকে হাতকড়া পরিয়ে নামানোর সময় হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলেন। কোর্ট হাজতেও পুলিশের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। পরে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় কর্মকর্তাদের শাসান আখতার। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, ট্রলি পেতে দেরি হওয়ায় তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি কিন্তু পেটাবো ধইরা’, ‘গেট আউট ফ্রম হিয়ার’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’, ‘কাজ জানেন না, তদবির করে পোস্টিংয়ে আসবেন’, ‘মাইর খাইতে চান?’। অপর একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আখতার জমজম কূপের পানির জার ফেলে দিচ্ছেন একটি ট্রলি থেকে।
যদিও মামলার এজাহারে এসব ঘটনার সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, ওয়ারেন্ট অফিসার কামালউদ্দিনকে শারীরিক আঘাত করেছেন আখতার। বিমানবন্দর সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত হলেও এজাহারে বলা হয়েছে, ‘মারধরের ঘটনাটি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত ছিল না; ফলে ঘটনাটি ভিকটিম এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণযোগ্য।’
বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারের বিরুদ্ধে মামলা দণ্ডবিধির যে আটটি ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, এর মধ্যে সরকারি কর্মচারীকে মারধর করে দায়িত্ব পালনে বাধা-সংক্রান্ত ৩৫৩ ধারাটি জামিন অযোগ্য এবং ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে। ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৫০৪, ৫০৬-সহ বাকি সাতটি ধারা জামিনযোগ্য। এসব ধারার মামলায় পুলিশ আদালতের পরোয়ানা ছাড়া আসামি ধরতে পারে না।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর থানায় মামলার পর শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃত এই নেতা গত ডিসেম্বরে জামায়াতে যোগ দেন।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মেজর আখতারকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলসহ জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজর আখতারকে ‘বাতিল মাল’ বলে আখ্যা দেন।
আদালত ভবনে প্রবেশের আগে হেলমেট ছুড়ে ফেলে দিয়ে মেজর আখতার বলেন, ‘আমি হেলমেট মানি না। সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না। জুলুম, নির্যাতন করে আমাদের থামানো যাবে না। জামায়াত জনগণের জন্য লড়বে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের অধিকার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা জনগণের জন্য লড়ব ইনশাআল্লাহ।’
এর পর আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেজর আখতার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করে পাওয়া দেশে আমার হাতে হাতকড়া ও হেলমেট পরানো হয়েছে। আমি বিমানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছি।’
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারুজ্জামানের পেছনে কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কিনা এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য ছিল কিনা, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
খবরটি শেয়ার করুন