রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ভারত কি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্যের পথে? *** সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব *** গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন নির্ধারণের তাগিদ *** ঢাকার মূলসড়কে চলতে দেওয়া হবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা *** গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯৬৭ *** সমুদ্রে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত *** ঢাকার মূল সড়কে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা হচ্ছে: শাহে আলম *** মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি *** দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তায় দুর্নীতি-অপচয় ঠেকাতে সরকার-এনজিও অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী

ভাইরাল ছবিটির এই তিনজনের কেউ আর বেঁচে নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৭শে মার্চ ২০২৬

#

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

মাটির ঘরের সামনের বারান্দায় বাবা-ছেলে পাশাপাশি বসে। ছেলের চোখে ক্লান্তি, মুখে অসহায়ত্ব। বাবার চাপা অভিমান। তিনি হাত বাড়িয়ে ছেলের হাতে গুঁজে দিচ্ছেন কিছু টাকা—হয়তো জমিজমা বিক্রি করে, হয়তো ধারদেনা করে জোগাড় করা শেষ সম্বল।

ছেলে মাথা নিচু করে বসে—বিদেশ যাওয়ার বায়না তার। পেছনে দাঁড়িয়ে তরুণী স্ত্রী—চোখে বিস্ময় আর অজানা শঙ্কা। একসময় বাবা ছেলেকে বুকে টেনে নেন। অঝোরে কাঁদতে থাকেন।

‘তোমার দোয়ায় ভালো আছি মা’—প্রবাসজীবনের বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত এই নাটকের সেই দৃশ্য আবার নতুন করে আলোচনায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে দৃশ্যটির ভিডিও ও স্থিরচিত্র। অভিনেতা শামস সুমনের মৃত্যুর পরই নতুন করে সামনে এসেছে এই আবেগঘন মুহূর্তটি। প্রযোজনা সংস্থা ফাহিম মিউজিকও ভিডিওটি নতুন করে শেয়ার করেছে।

গত ১৮ মার্চ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনেকের মতে, বাংলা নাটকের শুধু একটি দৃশ্য নয়, বরং জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। বিদেশযাত্রার আগে এমন বিদায়ের মুহূর্ত এ দেশের অসংখ্য পরিবারের চেনা অভিজ্ঞতা। সেই বাস্তবতাকেই অনবদ্য অভিনয়ে জীবন্ত করে তুলেছিলেন তিনজন শিল্পী—ইনামুল হক, শামস সুমন ও হোমায়রা হিমু।

আজ সেই দৃশ্যের তিন মুখই আর নেই। সময় তাদের আলাদা আলাদা পথে নিয়ে গেছে—কেউ গেছেন পরিণত বয়সে, কেউ অপূর্ণতা নিয়ে, কেউ অভিমান বুকে নিয়ে। কিন্তু দর্শকের কাছে তারা এখনো একই ফ্রেমে—একটি পরিবার, একটি বিদায়ের মুহূর্তে।

নাটকের পিতার চরিত্রে অভিনয় করেন ইনামুল হক। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি ছিলেন দেশের অভিনয়জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। শিক্ষকতা ও নাট্যচর্চা—দুই ক্ষেত্রেই রেখে গেছেন উজ্জ্বল অবদান। ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।

ছেলের চরিত্রে ছিলেন শামস সুমন। নব্বইয়ের দশকে যিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই কাজ করেছেন। তবে জীবনের শেষ সময়ে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আক্ষেপ ছিল তার। গত ১৭ মার্চ তিনি মারা যান।

আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন হোমায়রা হিমু। দুই দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য নাটকে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু শেষের দিকে কাজের অনিয়মিততা তাকে ভেতরে ভেতরে ভেঙে দেয়। অনেকটা একা হয়ে পড়েন। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নাটকের সেই মুহূর্তে হয়তো কারও ভাবনায় আসেনি, কাছাকাছি সময়ে তিনজন শিল্পীই আর থাকবেন না! গড় আয়ুর বিবেচনায় একজন বিদায় নেবেন পরিণত বয়সে, একজন অপূর্ণতা নিয়ে, আরেকজন অভিমান বুকে নিয়ে। তবু দর্শকের কাছে তাদের শেষ পরিচয় হয়ে আছে সেই এক দৃশ্য—একটি পরিবারের ভেতরের কান্না, ভালোবাসা আর বিচ্ছেদের গল্প।

ছবিটি যখন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন তা শুধু নস্টালজিয়া নয়—সময়কে মনে করিয়ে দেওয়ার এক নির্মম দলিলও বটে। একসময় শিল্পীরা চলে যান, থেকে যায় তাদের কাজ। আর সেই কাজের ভেতরেই তারা বেঁচে থাকেন—দর্শকের স্মৃতিতে, অনুভবে।

জে.এস/

ভাইরাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250