মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ড. ইউনূস সরকারের নির্বাচন ইতিহাসে খারাপ নজির হয়ে থাকবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:১৮ অপরাহ্ন, ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃতীয় মাত্রা টকশোর উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের অধীন ১২ই ফেব্রুয়ারি যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেটি দেশের ইতিহাসে খারাপ নির্বাচনের নজির হয়ে থাকবে। এটা নামেমাত্র কোনো নির্বাচনের পর্যায়েও পড়ে না। সরকারের ভেতরে একটা বড় শক্তি নির্বাচন চায় না। সংসদ নির্বাচন করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার, তা সরকারের একেবারেই নেই। দেশে নির্বাচনী আমেজ নেই।

তিনি বলেন, সরকারের ভেতরে একটা বড় শক্তি আছে, যারা নির্বাচনটাই চায় না, চাইলেও তারা পক্ষপাতমূলক নির্বাচন করতে চায়। অন্তর্বর্তী সরকার খুব স্পষ্টভাবেই কোনো কোনো রাজনৈতিক শক্তির পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। সরকারের বাইরে একটা উগ্র গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে এবং তারা আসলে সরকারের সঙ্গেই কাজ করে। দেশের বাইরেও একটা শক্তি তাদের হয়ে কাজ করছে।

তার মতে, এ নির্বাচনকে কোনোভাবেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন বলা যাবে না। কারণ, আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্রদের একটা বড় অংশ নির্বাচনে অনুপস্থিত। এদের বাদ দিয়ে নির্বাচন কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে? আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে বাকিরা যদি একটা ভালো নির্বাচন করতে পারত, তাহলেও কথা ছিল। তখন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলেও, এতটা হতো না। কিন্তু আওয়ামী লীগ বাইরে এবং এ রকম একটা খারাপ নির্বাচন হবে, সেটাকে আসলে শেষ পর্যন্ত কেউই আর অ্যাকসেপ্ট (গ্রহণ) করতে চাইবে বলে আমার কাছে মনে হয় না।

দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকারটি আজ রোববার (১লা ফেব্রুয়ারি) প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে 'নির্বাচন ঘিরে আগে এতগুলো দেশের এত সক্রিয়তা দেখা যায়নি' শিরোনামে। প্রথম আলোর ওয়েবসাইট থেকে সাক্ষাৎকারটির লিংক ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে জিল্লুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা ও পর্যালোচনা চলছে।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) সভাপতি জিল্লুর রহমান সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি আসলে এখন পর্যন্ত আমার ফ্রেমের মধ্যে কোনো ইলেকশনই দেখি না। আমাকে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যে আপনি কি আইডিয়াল ইলেকশন দেখেন, নাকি একেবারেই নামে মাত্র কোনো ইলেকশন দেখেন; আমি নামে মাত্র ইলেকশনটাও দেখি না। আমি মনে করি যে ১২ তারিখ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়াই সবার জন্য খুব কঠিন হবে। আর যদি ইলেকশন হয়ও, সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি খারাপ নির্বাচনের নজির হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, সরকার আসলে গণভোটটাই করতে চায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার, নেওয়া দরকার, সেটা একেবারেই নেওয়া হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়নি। আমি গত কয়েক দিনে দেশের বেশ কয়েকটি জেলা ঘুরেছি, নির্বাচনী আমেজ বলতে যা বোঝায় তা তেমন দেখা যায়নি। অনেকে বলতে পারেন যে এবার প্রচারণার ক্ষেত্রে আরপিওতে অনেক বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে, সেই কারণে হয়তো নির্বাচনী পরিবেশ বোঝা যায় না। কিন্তু বাস্তবে আমি যেটা দেখেছি, সেটা শুধু গণভোটের সরকারি প্রচারণা।

তিনি বলেন, আরেকটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর তৎপরতা। আমার কাছে মনে হয়েছে যে বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো নির্বাচনকে সামনে রেখে এতগুলো দেশ একসঙ্গে এত বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠেনি; সেটা আমাদের এই অঞ্চলের শক্তিগুলোর কথা বলি আর বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের কথাই বলি। অনেক কথা এখন বাতাসে ভেসে বেড়ায়, অনেক কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসে; একেকজনের একেক রকমের চাওয়া-আকাঙ্ক্ষা। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আমার কথা বলেছি।

জে.এস/

জিল্লুর রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250