ছবি - সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের (ঢাকা কলেজ, ইডেন, বদরুন্নেসা, কবি নজরুল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মিরপুর বাংলা, সরকারি তিতুমীর কলেজ) শিক্ষার্থীরা কলেজ সংস্কার আন্দোলনের ব্যানারে অধিভুক্তি বাতিল ও স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে বেশকিছু দিন ধরে আন্দোলন করছেন। দাবির প্রেক্ষাপটে সমস্যা নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৩ সদস্যের কমিটি করেছে। কিন্তু কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের কমিশন গঠন করতে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বলেছেন,অনতিবিলম্বে সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর কমিশন গঠন করতে হবে। সেই কমিশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি যুক্ত করতে হবে। আগামী তিনদিন সাত কলেজের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি চলমান থাকবে। গ্রাফিতি অঙ্কন, গণসংযোগ কর্মসূচি এবং মঙ্গলবার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনের মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
শুধু সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে মানুষ। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তের দিন পর একুশে আগস্ট চাকরি স্থায়ী করার দাবি নিয়ে মাঠে নামে সাধারণ ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। তাদের দাবি ছিল, দৈনিক ভাতার ভিত্তিতে কাজ করবে না। রেস্টে না রেখে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করতে হবে। তারা আন্দোলন করতে গিয়ে সচিবালয়ে ঢুকে অবরুদ্ধ করলো। প্রশাসন ব্যর্থ হয়ে ছাত্রদের ডাকলো। দুই পক্ষের সংঘর্ষ হলো। বেশ কয়েকজন আনসারকে গ্রেফতারের পর আন্দোলন বন্ধ হলো।
দাবি আদায়ের জন্য কমপ্লিট শাটডাউন দিয়েছিলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২০ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিছিন্ন করে দেয় পবিস। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করে লংমার্চের কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল। সরকারের অনুরোধে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বেশকিছু কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বেশ কয়েক বছর ধরে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলন চলছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যাশী তরুণরা আন্দোলন বেগবান করেছে। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো প্রায়শই অবরোধ করে রাখে। সরকার দাবির প্রেক্ষাপটে বয়স ৩২ নির্ধারণ করে এবং একজন পরীক্ষার্থী তিন বারের বেশি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে ঘোষণা দেওয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। আবারও তারা নতুন করে আন্দোলন শুরু করেছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রথম দাবি করেছিল, তারা আর নতুন করে পরীক্ষা দিবে না। সচিবালয় অবরুদ্ধ করে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করেছিল। কিন্তু রেজাল্ট দেওয়ার পর যারা পাশ করতে পারেনি, তারা আবার সকলকে অটোপাশের নতুন দাবি করে শিক্ষাবোর্ডে হামলা-ভাঙচুর করেছে। তারপর যখন সচিবালয়ে গিয়ে একই কাজ করতে গেলো, তখন বেদম প্রহার ও কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর আন্দোলন থামে।
এছাড়া আরো বিভিন্ন ধরনের দাবি নিয়ে মানুষ মাঠে নেমে পড়েছে। কারো বেতন বৃদ্ধি, কারো চাকরি স্থায়ীকরণসহ বিভিন্ন আন্দোলন চলছে। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আছে, তাদের কতটুকু করার সুযোগ আছে সেটা কেউ চিন্তা করছে না। সবাই ভাবছে এখন আন্দোলন করলেই সব হয়ে যাবে। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেছেন,‘আপনারা দেখছেন যে ধান কাটার মৌসুমের মতো এখন দাবি-দাওয়ার মৌসুম চলছে। সবাই কিন্তু রাস্তায় বসে যাচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে আপনি দাবি করলেই যে সব দাবি মেনে নেওয়া হবে এটার তো কোনো কারণ নেই।'
আন্দোলন করা মানে সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করা। এমনিতেই যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী। তারপরও আন্দোলনের কারণে কর্মদিবসগুলোতে সারাদিন সড়ক অবরোধ করার কারণে জনজীবন অসহনীয় দুর্বিষহ হয়ে উঠে। দাবি আদায়ে জনদুর্ভোগ এড়িয়ে বিকল্প পন্থা বের করতে হবে। কারণ নিরীহ জনগণকে জিম্মি করে আন্দোলন কারোরই কাম্য নয়।
আই.কে.জে/