সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যেভাবে ছড়াল আগুন *** আশুলিয়ায় কাভার্ড ভ্যান থেকে ৬ লাশ উদ্ধার *** জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথম স্ত্রীসহ থানায় এমপি নজরুল *** সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা *** কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন *** শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, পল্লবীতে বাসে আগুন *** ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার *** সমালোচনার মুখে হাফেজদের উপহার দেওয়া সেই বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী *** অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের সেই ফেসবুক পোস্ট কেন আলোচনায়, কী লিখেছিলেন তিনি *** পাকিস্তান কি সৌদি আরবকে রক্ষা করতে যুদ্ধে জড়াবে

কাকডাকা ভোরে ইউটিউব লাইভে প্রার্থনা, ব্রাজিলে খ্রিষ্টধর্মের ডিজিটাল পুনর্জাগরণ

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, ১৮ই অক্টোবর ২০২৫

#

অনুসারীদের সামনে ধর্মযাজক জিলসন দা সিলভা পুপো আজেভেদো ওরফে ফ্রেই জিলসন। ছবি: সংগৃহীত

সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয় মনোবিজ্ঞানী ক্লাউদিয়া রদরিগেস দে অলিভেইরা বারবোসাকে। তবে ৫৪ বছরের এই নারী ঘুম থেকে ওঠেন ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে। কর্মস্থলের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য নয়, বরং ইউটিউবে ধর্মীয় প্রার্থনার লাইভস্ট্রিম দেখতে।

বারবোসা সেই লাখো ব্রাজিলিয়ানের একজন, যারা প্রতিদিন ভোর ৪টায় ক্যাথলিক সন্ন্যাসী জিলসন দা সিলভা পুপো আজেভেদোর ধর্মোপদেশ শুনতে ইউটিউবে প্রবেশ করেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ধর্মযাজক, যিনি ফ্রেই জিলসন নামে বেশি পরিচিত। সম্প্রতি প্রতিটি ভিডিওতে দিনে গড়ে ২০ লাখের বেশি ভিউ পাচ্ছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

বারবোসা বলেন, ‘অনেকে অদ্ভুত মনে করে, আমি এত ভোরে উঠে প্রার্থনা করি দেখে। কিন্তু তখন ঘরটা শান্ত থাকে। বাইরের পৃথিবী থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন থাকা যায়।’

বিশ্বের বৃহত্তম ক্যাথলিক জনসংখ্যার দেশ ব্রাজিলে প্রার্থনা লাইভস্ট্রিম দেখার জন্য ভোরে ঘুম থেকে ওঠার এই অভ্যাস দিনে দিন বাড়ছে। ফ্রেই জিলসন হলেন ব্রাজিলের ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত, যারা লাইভস্ট্রিমার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয়, ক্যাথলিক রীতিনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ধর্মীয় প্রভাবশালীদের আধুনিকীকরণের একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে ব্রাজিল।

দেশটির ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব রিও ডি জেনিরোর নৃতত্ত্বের অধ্যাপক এবং ধর্মীয় পণ্ডিত রদরিগো তোনিওল বলেন, ‘ক্যাথলিক চার্চ ডিজিটাল ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে নিজেকে নবায়ন করার চেষ্টা করছে এবং আমি বলব, ক্যাথলিক বিশ্বে নতুন ধারণা রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্রাজিল এ মুহূর্তে এগিয়ে।’

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিবর্তন এসেছে চার্চের উদ্বেগের সময়ে। চলতি বছরে প্রকাশিত আদমশুমারির তথ্যে দেখা গেছে, তিন দশক আগে যেখানে ব্রাজিলের ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ ক্যাথলিক ছিলেন, এখন সেই সংখ্যা কমে অর্ধেকের সামান্য বেশি।

তবু তারা এখনো মোট ২১ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ আর দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় গোষ্ঠী ইভানজেলিকদের অংশ ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

দ্য গার্ডিয়ানের সাক্ষাৎকারের অনুরোধে সাড়া দেননি ফ্রেই জিলসন। তবে সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি জানান, ২০২০ সালে ব্যক্তিগত তপস্যা হিসেবে তিনি এই ভোরের প্রার্থনা শুরু করেন।

ফ্রেই জিলসন বলেন, ‘মিষ্টি আর কোমল পানীয় ত্যাগ করা তখন আর বড় ত্যাগ মনে হচ্ছিল না। তাই ভাবলাম, আমার ঘুমটাই ঈশ্বরকে উৎসর্গ করি।’

জে.এস/

ব্রাজিল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250