ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘অপরাধ দমনে জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে, এখন সরাসরি ওয়াশিংটনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিতে পারবে বিচার বিভাগ। এ ছাড়াও ৭ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাসের এই শহরে ন্যাশনাল গার্ডও মোতায়েন করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। খবর আল জাজিরার।
কাতারি সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন জানিয়েছে, এরই মধ্যে ৮০০ সেনা প্রস্তুত করে রেখেছে তারা, যাদের মধ্যে ১০০ থেকে ২০০ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাহায্য করবে।
ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ রাজধানীর বাসিন্দারা। হোয়াইট হাউসের কাছে জড়ো হয়ে ট্রাম্পকে দুয়োধ্বনি দেন বিক্ষোভকারীরা। কেয়া চ্যাটার্জি নামে ফ্রি ডিসি নামের এক সংগঠনের পরিচালক বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শুধু বাসিন্দাদের অধিকারের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের বাড়াবাড়ি। তার মতে, এটি ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
১৮১০ সালে যখন কংগ্রেস ম্যারিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার জমি নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিষ্ঠা করে, তখন থেকেই এখানকার বাসিন্দাদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক চলছে। শহরটি কখনোই পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পায়নি এবং সরাসরি ফেডারেল সরকারের অধীনে থাকে। যদিও ১৯৭৩ সালের ‘হোম রুল অ্যাক্ট’ অনুসারে কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা নির্বাচনের অধিকার বাসিন্দাদের আছে, কিন্তু তাদের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
শহরটি এক সময় আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর ছিল। নাগরিক অধিকার নেতা রেভারেন্ড আল শার্পটন বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ‘ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের ওপর চূড়ান্ত আঘাত’। তার মতে, ট্রাম্প শুধু নিজের সুবিধার জন্য এই কাজটি করেছেন। জেফ্রি এপস্টেইন (যৌন অপরাধী) বিতর্ক থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেই এমন পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনেরর মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেছেন, ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা ‘অস্বস্তিকর’ হলেও এমন ঘটনা আগে ঘটেনি, তা নয়। তিনি বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রের অধিকার কতটা দুর্বল, তা আমরা জানি। এই কারণেই আমি এবং আমার আগে অনেকেই পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার জন্য লড়াই করেছি।'
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন