ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে উন্নত এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও তদারকি জোরদারে একটি নতুন স্বেচ্ছামূলক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে পিচাইকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ট্রাম্প হাসতে হাসতে তাকে ‘মনস্টার’ বা ‘দানব’ বলে অভিহিত করেন। প্রযুক্তি খাতে পিচাইয়ের প্রভাব ও সাফল্যের প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই লোকটি একজন দানব, কিন্তু এটা কেউ জানে না।’
বৈঠকে আলোচিত স্বেচ্ছামূলক কাঠামোর লক্ষ্য হলো উন্নত এআই সিস্টেমের ওপর নজরদারি জোরদার করা। এর আওতায় কোম্পানিগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পাশাপাশি বাইরের স্বাধীন পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা করবে। চুক্তির ব্যাখ্যায় পিচাই বলেন, এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কোম্পানিগুলো ব্যবসার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠিত করপোরেট গভর্ন্যান্স পদ্ধতি প্রয়োগ করবে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গ্রহণ করছি, যেমন একটি কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আর্থিক নিয়ন্ত্রণ থাকে। আমরা সেই পরিচিত ও পরীক্ষিত সর্বোত্তম পদ্ধতিগুলো সুপারইন্টেলিজেন্সের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করছি।’
জাকারবার্গ বলেন, চুক্তিতে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শনাক্ত করার বিষয়ে কিছু নীতি ও অঙ্গীকার রয়েছে। তিনি জানান, এআই ব্যবস্থার ওপর একাধিক স্তরে নজরদারি থাকবে। এর মধ্যে থাকবে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি পর্যালোচনা, বাইরের প্রতিষ্ঠান দিয়ে অডিট এবং কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে স্বাধীন পর্যালোচনা।
এদিকে, ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। এর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণও চলছে। তবে এআই অবকাঠামোর এই সম্প্রসারণ নিয়ে ট্রাম্পের সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষ থেকেই সমালোচনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ডেটা সেন্টার স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আরেকটা কথা বলি, রিয়েল এস্টেট সম্পর্কে আমি খুব ভালো জানি। ওই ভবনগুলোর কিছু একেবারেই অসাধারণ সুন্দর।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এগুলো বড়, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান ভবন। কিন্তু এগুলো সুন্দরও, এবং এগুলো একটি এলাকার জন্য অনেক কিছু যোগ করে।’
এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসা অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই বলেন, প্রযুক্তি খাত নিরাপত্তার মান আরও উন্নত করতে পারে। তবে এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলার কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। আমোদেই বলেন, ‘আমি মনে করি, এই প্রযুক্তির খুব বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। আর এসব ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেই পদ্ধতি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।’
খবরটি শেয়ার করুন