রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** মক্কা চুক্তিতে যোগদানে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী *** সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন’ পাওয়ার দাবি চিফ প্রসিকিউটরের *** ভারত কি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্যের পথে? *** সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব *** গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন নির্ধারণের তাগিদ *** ঢাকার মূলসড়কে চলতে দেওয়া হবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা *** গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯৬৭ *** সমুদ্রে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত *** ঢাকার মূল সড়কে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা হচ্ছে: শাহে আলম

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন’ পাওয়ার দাবি চিফ প্রসিকিউটরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:২৩ অপরাহ্ন, ৩০শে আগস্ট ২০২৬

#

ফাইল ছবি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন’ পাওয়ার দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অন্য এক মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার সময় এই কানেকশন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ রোববার নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ব্যাপারে যে ক্লু আমরা পেয়েছি, আপনাদের কাছে আমরা তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। তবে এইটুকু বলতে পারছি যে, তিনি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। সিডিআর পর্যালোচনায় তার সঙ্গে সাগর-রুনির এই ঘটনার একটা কানেকশন পাওয়া যায়।’

আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ মামলা সরাসরি তদন্ত করছে না। অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ওই সূত্র পাওয়া গেছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করছে।

সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কানেকশন পাওয়ার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তার তথ্য আমাদের নজরদারিতে আছে এবং আরও তদন্ত হওয়ার পরে আরও নির্ভরযোগ্য কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করব।’

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার কথা শুনে তদন্ত সম্পর্কে জানতে আজ বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান তাদের সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। মেঘের মামা নওশের আলম রোমান তার সঙ্গে ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি। পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। চার দিন পর তদন্তভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)।

দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে না পারায় হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন র‍্যাবের তদন্তেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে হাইকোর্ট মামলাটির তদন্ত থেকে র‍্যাবকে সরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। পিবিআইয়ের প্রধানকে ওই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ থাকলেও পিবিআই তা দাখিল করতে পারেনি। পরে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করে দিয়েছেন। এ নিয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছাল।

নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় টাস্কফোর্সকে বেশ কয়েক দফায় সময় দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট এই টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন।

সাংবাদিক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250