মঙ্গলবার, ২৪শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কামড় দিতেই আইসক্রিম থেকে বেরিয়ে এল কেঁচো, জরিমানা ৩০ হাজার টাকা *** ১০ ঘণ্টারও কম সময়ে ৭ দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের *** মানহানির এক মামলায় জামিন পেলেন মেনন-মানিক-ইনু *** শেখ হাসিনার সব অপকর্মের লাইসেন্স ওয়ান-ইলেভেন থেকে এসেছে: ফারুকী *** ধাক্কা খেল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা *** ‘শান্তি আলোচনার’ মধ্যেও ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল *** জেট ফুয়েলের দাম লিটারে বাড়ল ৯০ টাকা *** সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদে ৫ দিন রিমান্ড চাইবে ডিবি *** মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পল্টন থানার মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে: ডিবি *** সানির সঙ্গে চুম্বনের দৃশ্যে জুহির অস্বস্তি, কী হয়েছিল সেদিন

‘সমাজ’ কেন দীপিকাকে মেনে নিচ্ছে না

বিনোদন ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, ২৪শে মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের আরেকটি অদৃশ্য চাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রমাণ’ দেওয়া। সম্প্রতি আদিত্য ধরের সিনেমা ‘ধুরন্ধর ২’–এর দুর্দান্ত সাফল্যের পর সেই চাপই যেন নতুন করে সামনে এনে দিল দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংয়ের ব্যক্তিগত জীবনকে। রণবীরের ছবির সাফল্যে পুরো ইন্ডাস্ট্রি যখন উচ্ছ্বসিত, তখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন দীপিকা। কারণ, তিনি কিছু বলেননি। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে, কয়েক দিনের মধ্যেই আয় করেছে ৫০০ কোটি রুপির বেশি। রণবীরের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে সর্বত্র। এমনকি দক্ষিণি নির্মাতা এস এস রাজামৌলিসহ অনেক তারকা সিনেমাটির প্রশংসা করেছেন। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন, ‘দীপিকা কোথায়?’, ‘কেন তিনি স্বামীর সিনেমার সাফল্যে কোনো পোস্ট দিলেন না?’

একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট না থাকাকে কেন্দ্র করে শুরু হলো সম্পর্ক বিশ্লেষণ। কেউ বললেন, দাম্পত্যে সমস্যা; কেউ বললেন, ‘সমর্থন’ নেই। যেন একটি সম্পর্কের মাপকাঠি এখন লাইক, স্টোরি আর ক্যাপশন।

বাস্তবতা হলো, সব ভালোবাসা হয়তো সব সময়ই প্রকাশ্যে দেখাতে হয় না। দীপিকা এমন একজন তারকা, যিনি কখনোই প্রতিটি মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন না; বরং তিনি বরাবরই ব্যক্তিগত পরিসরকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

এটা ভুলে গেলে চলবে না, অতীতে তিনি একাধিকবার ‘ধুরন্ধর’সহ রণবীরের কাজ নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন। এর আগেও রণবীর অভিনীত ‘৮৩’ বা ‘রকি অউর রানি কি প্রেমকাহানি’র সময়ও তিনি ছিলেন সোচ্চার সমর্থক। তাহলে আজ নীরব থাকলেই কি সেই সমর্থন মুছে যায়?

এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—দ্বৈত মানদণ্ড। নারী তারকা মানেই যেন ‘পাবলিক চিয়ারলিডার’। স্বামীর সাফল্যে উচ্ছ্বাস না দেখালে প্রশ্ন উঠবে। কিন্তু উল্টোটা? রণবীর সিং কি সব সময় একইভাবে দীপিকার প্রতিটি কাজ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব থাকেন? এই প্রশ্ন খুব কমই ওঠে। এখানেই স্পষ্ট হয়ে যায়—সমাজ এখনো নারীদের কাছ থেকে ‘দেখানো ভালোবাসা’ আশা করে, অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই চাপ অনেকটাই কম।

আজকের দিনে সম্পর্কও যেন কনটেন্টে পরিণত হয়েছে। কেউ যদি প্রকাশ্যে কিছু না দেখান, তাহলে ধরে নেওয়া হয়, ‘কিছু একটা সমস্যা আছে’। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। একটি সম্পর্কের শক্তি ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদমে মাপা যায় না। দীপিকা হয়তো ব্যক্তিগতভাবে উদ্‌যাপন করেছেন—ডিনার, ফোনকল বা নিভৃত কোনো মুহূর্তে। সেটা কি কম গুরুত্বপূর্ণ?

বলিউডে ব্যক্তিগত জীবন আর পাবলিক ইমেজ প্রায়ই এক হয়ে যায়। ‘পাওয়ার কাপল’ ব্র্যান্ডিং এখন সাধারণ বিষয়। তবু প্রত্যেক মানুষেরই নিজের সীমারেখা নির্ধারণের অধিকার আছে। দীপিকা পাড়ুকোন দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত পরিসরের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলে আসছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে দীপিকার নীরবতা বরং একটি সচেতন সিদ্ধান্ত—যেখানে তিনি নিজের সীমা নিজেই নির্ধারণ করছেন।

‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংয়ের সম্পর্ক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার এই তর্ক আসলে আমাদের সময়ের প্রতিচ্ছবি। এই ‘সমাজ’ এখন ভালোবাসাকেও দেখতে চায়—প্রমাণসহ। কিন্তু সব অনুভূতি কি দৃশ্যমান হওয়া জরুরি? একটি পোস্ট না থাকলেও সম্পর্ক ভেঙে যায় না; বরং কখনো কখনো নীরবতাই সবচেয়ে গভীর সমর্থন।

জে.এস/

দীপিকা পাড়ুকোন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250