শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২১শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিএনজি অটো চালকদের কাছে বিআরটিএ'র নতিস্বীকার কাম্য নয়

উপ-সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০২:২৫ অপরাহ্ন, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫

#

সম্প্রতি বিআরটিএ একটি চিঠির মাধ্যমে পুলিশকে জানিয়েছিল যে, মিটারের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে সিএনজি অটো চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের জন্য চালকদের সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই সিএনজি অটোরিকশা চালকরা একত্র হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ শুরু করে এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের দাবিতে তাদের আন্দোলন ছিল। সঙ্গত কারণেই জনদুর্ভোগ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে চালকদের দাবির কাছে নতিস্বীকার করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আন্দোলনকারীদের চাপে জরিমানার সাম্প্রতিক নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়। ফলে ইচ্ছেমতো  ভাড়া আদায়ের বিষয়টিতে একপ্রকার বৈধতা দেয়া হয়।

বাস্তবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কখনোই মিটারে বা নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল করে না। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া নিয়ে থাকে। চালকদের অভিযোগ, সিএনজি অটোরিকশা মালিকরা কখনোই নির্ধারিত জমার হার মানেন না। এজন্যই তাদের পক্ষেও নির্ধারিত ভাড়া মেনে চালানো সম্ভব হয় না। অটোরিকশার চালক ও মালিকরা মানুষকে জিম্মি করে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করলো। আগে যতটুকু পুলিশের ভয়ে থাকতো, এখন আর সে সুযোগটুকুও রইলো না।

রাজধানীতে আধুনিক আরামদায়ক গণপরিবহন  না থাকার কারণেই সিএনজি চালিত অটোরিকশার ওপর যাত্রীদের নির্ভর করতে হয়। বাসে নির্দিষ্ট সিট থেকে অধিক যাত্রী পরিবহন করা হয়। তাই অনেক যাত্রী একপ্রকার বাধ্য হয়েই সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়ে। এই সুযোগটাই গ্রহণ করেছে অটোরিকশার চালক ও মালিকরা।

চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৩ সালের দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বেবিট্যাক্সি তুলে দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালু করা হয়। তারপর থেকে শুরু করে বড় বড় শহরগুলোতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালু হয়। বর্তমানে অটোরিকশার মালিকদের জন্য দৈনিক জমা নির্ধারিত আছে ৯০০ টাকা। তবে চালকদের দাবি, মালিকরা দিনে দুই বেলা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী, প্রথম দুই কিলোমিটার যাতায়াতের জন্য ভাড়া ৪০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ১২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু সত্য হলো ১৫০-২০০ টাকার নিচে স্বল্প দূরত্বেও যাতায়াত করা যায় না। এমনকি নিয়ম থাকার পরও নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে চাইলে অনেক ক্ষেত্রেই চালকেরা নানা অজুহাতে যেতে চান না।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের কাছে বিআরটিএ’র নতিস্বীকারের ফলে তাদের দৌরাত্ম্য আরো বাড়বে। যাত্রীদের সাথে স্বেচ্ছাচারিতার আরো সুযোগ পাবে। এমনিতেই মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন যদি যাত্রীদের সিএনজি চালিত অটোরিকশার বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়, তাহলে তাদের টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়বে। মিটারে চলাচল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে যাত্রীদের কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছিল। কিন্তু প্রজ্ঞাপন বাতিলের মধ্যদিয়ে প্রকারান্তরে সড়কে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের উৎসাহিত করা হলো।

আই.কে.জে/

সিএনজি অটো চালক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন