ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হঠাৎ বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্যদিকে কবি–প্রবন্ধকার এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সাখাওয়াত টিপু নামে পরিচিত।
বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা-পর্যালোচনা চলছে। এর মধ্যে আফসানা বেগম গতকাল বৃহস্পতিবার (২২শে ডিসেম্বর) রাতে চার পর্বের ফেসবুক পোস্টে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে তার এ বিষয়ক কথোকপথন প্রকাশ করেছেন।
সেখানে আফসানা বেগম ইঙ্গিত দেন, চব্বিশের সেপ্টেম্বরে দায়িত্বে আসার পর বই নির্বাচন নীতিমালার সংস্কার করতে চেয়েছিলেন তিনি। যেন অযোগ্য বই সরিয়ে ভালো বই নেওয়া হয় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে। এজন্য নীতিমালা সংশোধন করে, সচিব ও মন্ত্রী কোটা ২০ শতাংশ তুলে দিয়ে ১০০ শতাংশ বই নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে আনতে চেয়েছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সদ্য অব্যহতি পাওয়া পরিচালক আফসানা।
কিন্তু তাতে সম্মতি ছিল না সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর। অনেকের প্রশ্ন, কোটা নিয়ে ফারুকীর সঙ্গে মতভিন্নতাই কি আফসানার জন্য কাল হলো?
এ বিষয়ে আফসানা আফসানা বেগমের একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে সাংবাদিক সঞ্জয় দে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখেন, 'ভদ্রমহিলা (আফসানা বেগম) অপসারিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত চার পর্বে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে উনার 'দুর্বিষহ পরিচালক জীবন'-এর খতিয়ান প্রকাশ করেছেন। তাই নিয়ে সবাই ধন্য ধন্যও করছেন।
সঞ্জয় দে বলেন, অথচ এই প্রচণ্ড 'শক্ত শিরদাঁড়া'র ব্যক্তিত্বটি অপসারিত না হলে আমাদের হয়তো এসব জানার সুযোগই ঘটত না। তিনি তার সুন্দর চাকরিটি করে যেতেন এবং গত মাসের মতো এ মাস শেষেও বেতন তুলতেন। আর জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের দারুণ দারুণ কর্মকাণ্ডের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করতেন, যেভাবে গত ১৬ মাস ধরে করছিলেন...।
এদিকে আফসানা বেগম দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর বই নির্বাচন নীতিমালা সংশোধনে হাত দিয়েছিলেন। আফসানা ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে বলেন, তখন সংস্কৃতি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তাকে বলেছিলেন- নীতিমালা এমন হবে, যেন ভালো ভালো বই নেওয়া যায়। আর অযোগ্য বই প্রত্যাহার করা যায়।
নীতিমালার শুধু অনুমোদনের কাজ বাকি, আর তখনই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা পরিবর্তন হয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দায়িত্বে আসেন।
আফসানা বেগম লেখেন, নীতিমালার পুরো বিষয়টা উনাকে (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) বোঝানোর চেষ্টা করি, আসিফ ভাইয়ের (আসিফ নজরুল) ই-মেইলগুলো পাঠাই, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পাই না। শেষে অনেক অনুরোধের পরে একদিন একটা বড় কমিটি বসে। উপকমিটি সরাসরি নীতিমালা অনুমোদনের কাজ করবে বলে জানায়।
খবরটি শেয়ার করুন