রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী *** সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী *** নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের *** রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল, বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনা *** শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ১৫ দিন পর কারাগার থেকে ফোনকল—‘আপনার ছেলে জীবিত’ *** ফের সোনার দামে পতন, ভরিতে কত *** মিসরে মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড *** গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ৩০

তারেক রহমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গেলে বিএনপিই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৫:২৫ অপরাহ্ন, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম আগামীর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলছেন, বহু ক্ষেত্রের পাশাপাশি প্রশাসন ও বাজেট প্রক্রিয়ায় রাজনীতিকরণ এত গভীরভাবে প্রোথিত যে আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে একটি বেশ বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গেলে  তার নিজের দল বিএনপিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের বহু নেতা গত ১৭-১৮ বছর ধরে দলীয় আনুগত্যের কথা উল্লেখ করে পুরস্কার পেতে চাইবেন। তাদের যুক্তি বাস্তব ও আবেগঘন হলেও এর সামনে নতি স্বীকার করা মানেই হবে দুর্নীতি ও অপশাসনের সূচনা, যা আমাদের অতীতের অধিকাংশ সরকারকে গ্রাস করেছে। ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি, কী ধরনের প্রশংসা স্তবক তারেক রহমানের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং নিকট ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। 

তিনি বলেন, পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন ব্যক্তিরাই তারেক রহমানের সঙ্গে সরকারে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। তবে তিনি যত ঘনিষ্ঠভাবেই তাদের চিনুন না কেন, তারা যেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট দক্ষ হন তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে ‘পরিকল্পনা’ ও সেটা ‘বাস্তবায়ন’ যেন দুই ভিন্ন জগতের বিষয়। এটি মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সংসদে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির সামান্যতম ইঙ্গিত পেলেও সেটা প্রকাশ্যে আনতে সংসদীয় প্রতিটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করবে। 

তার মতে, নইলে ব্যর্থতার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। এই সংগ্রামে জয়ী হতে হলে তারেক রহমানকে সঠিক মন্ত্রিসভা নির্বাচন করতে হবে। সততা, নৈতিকতা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নতুন মন্ত্রিসভা হতে হবে অত্যন্ত যোগ্য, আধুনিক, সিদ্ধান্তগ্রহণে সক্ষম এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে।

'দ্য লাইকলি পিএমস ফার্স্ট ক্রুশিয়াল চ্যালেঞ্জ' শিরোনামে ডেইলি স্টারের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম এসব কথা বলেন। তার লেখাটি আজ রোববার (১৫ই ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হয়েছে।

মাহফুজ আনাম লেখেন, অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে তারেক রহমান সব ধরনের প্রলোভন থেকে নিজেকে সংযত রাখতে হবে এবং সত্যিকার অর্থেই বিনয়ী হতে হবে। এটি অত্যন্ত কঠিন। ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি, কী ধরনের প্রশংসা স্তবক তার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং নিকট ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। দৃঢ় সংকল্প থাকলেও এসব প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন হবে। আমরা আন্তরিকভাবে তার সাফল্য কামনা করি।

তিনি বলেন, তারেক রহমান হয়তো ইতোমধ্যেই তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বেছে নিয়েছেন। তবে আমরা প্রস্তাব করতে চাই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি যেন আরও কিছুটা সময় নেন। নিয়মিত প্রক্রিয়ায় শিগগির তিনি ছোট একটি মন্ত্রিসভা নিয়ে শপথ নিতে পারেন, যেখানে থাকবেন সেরারা। বাকি সদস্য বেছে নিতে তিনি সময় নিতে পারেন। এতে করে আগামীর প্রধানমন্ত্রী তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আরও খানিকটা সময় পাবেন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নতুন সরকারের সামনে বিশাল কর্মযজ্ঞ।

তার মতে, হয়তো একটু আগেভাগেই বলা হচ্ছে, কিন্তু আগামীর প্রধানমন্ত্রীকে মনে রাখতে হবে যে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন কোনো দুর্বলতা বা ভুল স্বীকারের প্রতীক নয়। সর্বোচ্চ কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করতে একজন প্রধানমন্ত্রীকে সবসময় তার মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। অন্যদিকে, পুনর্গঠনের এমন সম্ভাবনা মন্ত্রীদেরও সতর্ক রাখবে এবং তারাও সততার সঙ্গে সর্বোচ্চ কর্মসম্পাদন নিশ্চিত করবে।

মাহফুজ আনামের পরামর্শ, মন্ত্রিসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত। সেগুলো হলো—আনুগত্য, সততা ও দক্ষতা। অতীতে দেখা গেছে, কেবল দলের বা দলীয় প্রধানের প্রতি আনুগত্য বিবেচনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতার অন্তর্নিহিত কারণ হলো হাতেগোনা কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি দুটি বড় ভুল করেছিলেন। প্রথমত ভুল ব্যক্তিদের বেছে নিয়েছেন এবং দ্বিতীয়ত ভুল করার পরও উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি তাদের কাজের জন্য কখনো জবাবদিহির আওতায় আনেননি। নিজের সুনাম ধুলো মিশিয়ে দেওয়ার এমন সুযোগ তাদের কেন দিলেন এটা কেবল ড. ইউনূসই বলতে পারবেন।

তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অপশাসনের সূচনা হলে জনগণ এটা মেনে নেবে না, স্বাধীন গণমাধ্যমও নয়। ক্ষমতাসীন দলকে মনে রাখতে হবে, সংসদে ৭৭ জন সদস্য নিয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী বিরোধীদল রয়েছে। তারা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির সামান্যতম ইঙ্গিত পেলেও সেটা প্রকাশ্যে আনতে সংসদীয় প্রতিটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করবে। সেটা তাদের করাই উচিত। এ পর্যন্ত তারেক রহমান যা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি এমন কিছু হতে দেবেন না। কিন্তু এটাই হবে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে, যা তাকে মোকাবিলা করতেই হবে।

মাহফুজ আনাম বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হতে হবে একেবারে উপর থেকে। আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি। সেইসঙ্গে আসে মন্ত্রীদের নৈতিকতার বিষয়টি। এই মানদণ্ডে নতুন সরকারকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সামান্য বিচ্যুতিও সরকারের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। আগামীর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সবচেয়ে কঠোর বার্তা আসা উচিত দুর্নীতি নিয়ে।

তার মতে, শূন্য সহনশীলতা দেখিয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি হলেই কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সাবেক নেতা লি কুয়ান ইউ নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়ে না হলেও সৎ ও দক্ষ শাসনে আদর্শ বিবেচিত হতে পারেন।

তিনি বলেন, বিএনপির এমন কিছু প্রবীণ নেতা রয়েছেন, যাদেরকে—বিশেষ করে শেখ হাসিনার দমনমূলক শাসনামলের সময় দলের জন্য অবদান রাখায়—পুরস্কৃত করতে হবে। তবে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে আধুনিক মনোভাবসম্পন্ন তরুণ, প্রতিশ্রুতিশীল, উদ্যমী, দক্ষ ও শিক্ষাগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন তারেক রহমান। এখানে ঝুঁকি হলো, এমন অনেক তরুণ ও যোগ্য ব্যক্তি হয়তো সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে যথেষ্ট পরিচিত নাও হতে পারেন।

ডেইলি স্টারের প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি, বিদেশ থেকে দেশের সেবা করতে আসা কিছু শিক্ষাবিদ ‘সবজান্তা’ মানসিকতার এক আত্ম অহংকারে ভোগেন এবং স্থানীয় গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের যথাযথ মূল্যায়ন করেন না। এর ফলে বৈশ্বিক ও স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ব্যাহত হয়। অথচ, উভয়েরই একে অপরের কাছ থেকে শেখার রয়েছে।

তিনি লেখেন,  তারেক রহমানকে সবসময় মনে রাখতে হবে, ক্ষমতার ক্ষেত্রে তার ওপর কোনো ‘নিয়ন্ত্রণ’ নেই বললেই চলে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থা। তার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মীরা কিছুটা ভূমিকা হয়তো রাখতে পারেন। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভিন্ন। ফলে, তিনি ও তার পরিবারই হয়ে উঠতে পারে একমাত্র ‘নিয়ন্ত্রক’, যারা প্রধানমন্ত্রীর প্রায় সীমাহীন ক্ষমতার ওপর কিছুটা সংযম নিশ্চিত করতে পারে।

তিনি লেখেন, অবশ্যই স্বাধীন ও নীতিবান গণমাধ্যমও এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু তার জন্য পক্ষপাত না করে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে এবং গুরুত্ব সহকারে সেগুলো গ্রহণ করতে হবে—যার প্রতিশ্রুতি তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নতুন সরকার যা-ই করুক না কেন, বিএনপির নির্বাচনী স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ সেখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকা উচিত। বিএনপির প্রতিটি নেতার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মুহূর্ত থেকেই মনে রাখতে হবে যে তারা দলীয় নেতা থেকে ‘জনগণের’ নেতায় রূপান্তরিত হচ্ছেন। তারা শুধু তাদের ভোট দেওয়া মানুষগুলোর প্রতিনিধিত্ব করবেন না, বরং তাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া মানুষেরও প্রতিনিধি হবেন। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ যে দলের বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকেই দেশের মানুষ ভোট দিয়ে থাকুক না কেন, মন্ত্রিসভার সদস্যরা দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সবশেষে তিনি লেখেন, তারেক রহমান যদি তার প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তাদের স্লোগান ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন করতে পারেন এবং প্রতিটি মন্ত্রীর চেতনা ও কাজের মধ্যে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন যে নিজের স্বার্থ কোনোভাবেই যেন জনগণের স্বার্থের ঊর্ধ্বে না ওঠে, তাহলে তার সরকারের সাফল্য নিশ্চিত করতে পারবেন। এর কোনো বিকল্প নেই।

মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250