শনিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঢামেকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ আসিফ নজরুল, বেরোলেন বাগান গেট দিয়ে *** কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইএসপিআরের বক্তব্য *** আসিফ নজরুলকে 'ভণ্ডামি বাদ দিতে' বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ *** অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করলে জেল ও জরিমানা *** মুরগি খাওয়া রোধে পাতা ফাঁদে ধরা পড়ল মেছো বাঘ *** আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সময় তাহলে ফুরিয়ে এল *** লতিফ সিদ্দিকী যা বললেন আদালতে *** ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান *** আটকের ১২ ঘণ্টা পর মামলা লতিফ সিদ্দিকী, শিক্ষক কার্জনসহ ১৬ জন কারাগারে *** নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জুতার মালা ও জেলের কথা মনে করিয়ে দিলেন ইসি

মধ্যবিত্ত ও ইলিশের দাম

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৭:২৪ অপরাহ্ন, ১১ই আগস্ট ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

ইলিশের মৌসুম চলছে। অথচ দাম আকাশছোঁয়া। উচ্চমূল্যের কারণে সেই ইলিশ এখন স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্তরাও এর স্বাদ ভুলতে বসেছেন। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এক থেকে দুই কেজির নিচে ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ঢাকায় ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের গড় দাম ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। আর ১ থেকে ২ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে এখন দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, নদী, সাগর- সবখানে এবার ইলিশ মিলছে কম। সাগরে কিছু ইলিশ ধরা পড়লেও নদীতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইলিশ মিলছে না। সাগর মোহনায় ডুবোচর ও বিভিন্ন জালের মাধ্যমে মাছ শিকারের কারণেও নদীতে ইলিশ ভিড়তে পারছে না। কয়েক বছর আগেও এ অবস্থা ছিল না। আর সরবরাহ কমায় গত দুই-তিন বছরে ইলিশের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে।  

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে মোট ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৫ লাখ ১৭ হাজার টনে উন্নীত হয়। কিন্তু এরপর থেকেই ইলিশ আহরণ কমতে থাকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ ধরা পড়লেও গত অর্থবছর তা কমে ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে দাঁড়ায়। সে হিসাবে ইলিশের আহরণ কমেছে ৪২ হাজার টন। কিন্তু বাজারে গত দুই-তিন বছর ধরে ইলিশের সরবরাহ ক্রমাগত কমছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম।

গবেষকরা ইলিশ মাছ কম উৎপাদনের কারণ হিসেবে বলেছেন, বাংলাদেশের যেসব নদীতে ইলিশ মাছ বিচরণ করে বিশেষ করে, পদ্মা-মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প-কারখানা। এসব কারখানা থেকে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নদীতে ফেলা হয়। এতে পানির গুণগত মান বদলানোর কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজননে।

ইলিশ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, উপযোগী আবহাওয়া ও ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৮৬ শতাংশই হয় বাংলাদেশে। তারপরও বাংলাদেশের মানুষ ইলিশ খেতে পারে না।বাংলাদেশের থেকেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কম দামে কীভাবে ইলিশ খান, এর কোনো সদুত্তর নেই। 

বর্তমানে বাজারে যে দরে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, এত দামে এর আগে কখনো বিক্রি হয়নি। দাদন দিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের সিন্ডিকেটের কারণেই ইলিশের দাম এত বেশি হচ্ছে। সরকার বাজারে কঠোর নজরদারি করলে দাম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো।

ইলিশ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন