রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন নির্ধারণের তাগিদ *** ঢাকার মূলসড়কে চলতে দেওয়া হবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা *** গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯৬৭ *** সমুদ্রে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত *** ঢাকার মূল সড়কে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা হচ্ছে: শাহে আলম *** মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি *** দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তায় দুর্নীতি-অপচয় ঠেকাতে সরকার-এনজিও অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী *** ‘মেসিকে বিশ্লেষণ করতে গেলে আপনার ভাষা ফুরিয়ে যাবে’ *** ডেঙ্গু রোগী বেশি পিরোজপুরে, যে কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

‘শেষ দেখা, শেষ কথা আর হলো না’

বিনোদন প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:২৫ অপরাহ্ন, ১৩ই মে ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সহকর্মী ছিলেন। একসঙ্গে অনেক কাজ করেছেন। তারিক আনাম খানের কাছে ছিলেন পছন্দের মানুষ, পছন্দের সহকর্মী। একসময় জমত আড্ডা। সেই প্রয়াত অভিনেতা আতাউর রহমানের স্মরণে তারিক আনাম খান ফেসবুকে লিখলেন, ‘সেই হাসিমাখা মুখটাই বারবার স্মৃতিতে ফুটে ওঠে। সেটাই মনে রাখতে চাই।’

তারিক আনাম খান প্রয়াত এই অভিনেতাকে স্মরণ করে লিখেছেন, ‘আজ যাই, কাল যাই করে যাওয়াটা আর হলো না। শেষ দেখা, শেষ কথা আর হলো না। এ রকম অফুরান জীবনীশক্তির মানুষ চলে যাবেন এখনো বিশ্বাস হয় না। হাসিঠাট্টা, তর্ক–বিতর্ক, ভালোবাসা–অভিমান আর কত কত স্মৃতি!’

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একসঙ্গে মঞ্চে পথ চলেছেন। সব সময় একে অন্যের পাশে থেকেছেন। যেমন দেখেছেন একে অন্যের নাটক, তেমনি নাটক নিয়েও তাদের মধ্যে নিয়মিত আড্ডা হতো। সেই স্মৃতিচারণা করে তারিক আনাম খান লিখেছেন, ‘আতা ভাইয়ের নির্দেশিত ও অভিনীত মঞ্চের বেশির ভাগ নাটক আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু তার থেকে বড় সৌভাগ্য হয়েছে, তিনি আমার নির্দেশিত ও অভিনীত সব নাটক দেখেছেন, সমালোচনা করেছেন, কিন্তু তার থেকে বেশি প্রশংসা করেছেন এবং পত্রিকায় লিখেছেন।’

১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তর ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকটির মাধ্যমে নাট্যনির্দেশক হিসেবে আবির্ভূত হন আতাউর রহমান। পরবর্তী সময় তার নির্মিত নাটক নিয়মিত দেখার চেষ্টা করতেন তারিক আনাম খান। একসময় তারিক আনাম খানের নাটকগুলো নিয়মিত দেখতেন আতাউর রহমান। ‘তিনি আমাদের নবনাট্য আন্দোলনের এক পথিকৃৎ। “তুঘলক”, “ক্রুসিবল”, “আরজ চরিতামৃত”, “বন্দুক যুদ্ধ, গাধার হাট” নিয়ে তাঁর লেখা নাট্য সমালোচনা আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল এবং আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন।’

তারিক আনাম খান আরও লিখেছেন, ‘আতা ভাই আদ্যোপান্ত থিয়েটারে নিবেদিত একজন মানুষ, কোনো দিন শুনিনি বা দেখিনি দেরি করে রিহার্সালে এসেছেন, প্রদর্শনীতে এসেছেন। আতা ভাই রিহার্সাল কিংবা প্রদর্শনীতে থাকা মানেই মজা আর আনন্দের এক অনন্য পরিবেশ। বয়স কোনো বাধাই নয়। তার সেই হাসিমাখা মুখটাই বারবার স্মৃতিতে ফুটে ওঠে। সেটাই মনে রাখতে চাই। অনন্তলোকে আনন্দে থাকুন আতা ভাই।’

বেশ কদিন ধরেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন আতাউর রহমান। গত সোমবার রাতে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। সত্তরের দশকে ব্যস্ত হয়ে যান সাংস্কৃতিক চর্চায়। একাধিক নাটকে অভিনয় করেন। আতাউর রহমান নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা’, ‘এখন দুঃসময়’, ‘অপেক্ষমাণ’-এর মতো নাটকগুলোও নির্দেশনা দিয়েছেন।

তারিক আনাম খান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250