বুধবার, ১১ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘সাবেক এমপির কাছে প্রসিকিউটরের কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনাকে হালকাভাবে নিচ্ছি না’ *** জুলাই অভ্যুত্থানে বেনিফিশিয়ারি হয়ে সরকার গঠন করে এখন উল্টো পথে হাঁটছে: গোলাম পরওয়ার *** দুদকের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, কারামুক্তিতে বাধা নেই *** সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী দল *** যে কারণে ইফতার পার্টি নিষিদ্ধ করল পাকিস্তান *** প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়: কাতার *** ‘মার্কিন–জায়নবাদীদের’ গোপন আস্তানা প্রকাশে মুসলিমদের প্রতি ইরানের আহ্বান *** দুদকের মামলাতেও আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই *** ‘সবচেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী’ অভিযান শুরু ইরানের *** স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বিএনপি

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী দল

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৩:০২ অপরাহ্ন, ১১ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরুর আগেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির একটি অংশ এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে।

তাদের দাবি, বর্তমান রাষ্ট্রপতির নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ বলছে, সংবিধান ও সংসদীয় রীতির বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে অধিবেশন শুরুর আগেই বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া উচিত কিনা—এই প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী হয়ে উঠেছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ই মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন। তবে বিরোধী দলগুলোর একটি অংশ রাষ্ট্রপতির এই ভাষণের বিরোধিতা করেছে।

সংসদের আসন্ন অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার সংসদ ভবন এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বৈঠক ও আলোচনা হয়। বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন নেতা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আপত্তির কথা জানান।

তাদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং সে কারণে তার সংসদে ভাষণ দেওয়া উচিত কিনা—তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

তবে সরকারপক্ষের অবস্থান ভিন্ন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন এবং সেই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। এ প্রক্রিয়া বহু বছর ধরে চলে আসছে। ফলে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও এই সাংবিধানিক ধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ নেই।

সংসদে বিরোধী দল হিসেবে থাকা জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, তিনি ‘ফ্যাসিবাদী শক্তির সহযোগী’ হিসেবে কাজ করেছেন। এ কারণে তাকে সংসদে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার সংসদ ভবনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টদের দোসর। সংসদে তার বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।' 

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সংবিধান ও সংসদীয় রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। এ বিষয়ে কোনো ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে আগামী অধিবেশন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণসহ বিভিন্ন সংসদীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, 'সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। এটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।'

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে এই মতবিরোধ আগামী দিনগুলোতে সংসদে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

সরকারি দলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুখবর ডটকমকে বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিতর্ক তোলার মাধ্যমে বিরোধী দল সংসদের শুরুতেই একটি রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করতে চাইছে। তাদের মতে, এটি মূলত রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল।

বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধাপ। সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া এই ভাষণে সাধারণত সরকারের নীতি, পরিকল্পনা এবং আগামী সময়ের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। পরে এই ভাষণের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয় এবং সংসদ সদস্যরা সরকারের নীতি ও কার্যক্রম নিয়ে মতামত দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত সরকারের নীতির প্রতিফলন হলেও এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর অংশ। ফলে এই ভাষণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়া নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময় বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির ভাষণের সমালোচনা করেছে বা সংসদ বর্জনের মতো কর্মসূচিও দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিতর্কের পেছনে মূলত রাজনৈতিক বার্তার লড়াই রয়েছে। বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে চাইছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ সংবিধান ও সংসদীয় প্রথার প্রশ্ন তুলে নিজেদের অবস্থানকে শক্ত করতে চাইছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, সংসদের শুরুতে এমন বিতর্ক সাধারণত রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়। এর মাধ্যমে বিরোধী দল নিজেদের অবস্থান দৃশ্যমান করতে চায়, আর সরকার সংবিধানিক কাঠামোর কথা তুলে নিজেদের বৈধতা জোরালো করার চেষ্টা করে।

আসন্ন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ঘিরে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো ভাষণের বিভিন্ন অংশ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করতে পারে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ সরকারের নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের কার্যকর ভূমিকা অনেকাংশে নির্ভর করবে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও আলোচনার মানের ওপর। যদি বিতর্ক সাংবিধানিক ও নীতিগত প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে।

সব মিলিয়ে সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্ক সংসদের ভেতরে কতটা তীব্র আকার ধারণ করে।

অধিবেশন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250