ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে বাগেরহাটের আসন সংখ্যা কমিয়ে তিনে নামিয়ে আনা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছেল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে ওই জেলায় পূর্বের মতো চারটি আসনেই ভোটগ্রহণ হবে।
আজ বুধবার (১০ই ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেন। এর মাধ্যমে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকায় নির্বাচন কমিশনের গেজেট বাতিল হয়ে যায়।
এর আগে ৪ঠা সেপ্টেম্বর ইসি বাগেরহাটের আসন সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিনে নামিয়ে আনতে গেজেট প্রকাশ করে। নতুন সীমানা অনুযায়ী বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসন পুনর্গঠন করা হয়।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়ে হরতাল, অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে এবং হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের করে।
রিটের প্রাথমিক শুনানিতে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে ১০ই নভেম্বর বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের বেঞ্চ রায় দিয়ে গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং আগের চারটি আসন বহাল রাখার নির্দেশ দেন।
এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসি ও গাজীপুর-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতা সরকার জাবেদ আহমেদ পৃথকভাবে আপিল করেন। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হাফিজুর রহমানও আপিল বিভাগে আবেদন করেন। সব আবেদন একত্রে শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।
ইসির আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আগের চারটি আসনের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। এখন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।‘
আদালতে ইসির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
উল্লেখ্য, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের সময় বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমিয়ে তিনটি করা হয় এবং গাজীপুরে একটি আসন বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়। তবে বাগেরহাটের জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও একমাত্র এই জেলাতেই আসনসংখ্যা কমানো হয়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
খবরটি শেয়ার করুন