রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন সেই মাহদী হাসান *** রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ছাত্রলীগের স্লোগান *** যৌন উন্মত্ত পুরুষদের অত্যাচারে পাহাড়চূড়া থেকে লাফ, বিলুপ্তির পথে স্ত্রী কচ্ছপ *** সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ই মার্চ বা দু–এক দিন আগে: সালাহউদ্দিন *** এবার বৈশ্বিক শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের *** সাংবাদিক মাসুদ কামাল পড়াশোনা করেছেন বলে মনে করেন না শফিকুল আলম *** ইনকিলাব আমাদের ভাষা না: বিদ্যুৎমন্ত্রী *** ১০ বছরে ৩৩ শিশুকে যৌন নির্যাতন ভারতীয় দম্পতির, অবশেষে... *** ট্রাম্পের আলোচনার টেবিলে খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা *** বিষয়টি বিএনপি উপেক্ষা করলে ভালো হবে না: শহীদ মিনারে বাধা প্রসঙ্গে রুমিন

সাংবাদিক মাসুদ কামাল পড়াশোনা করেছেন বলে মনে করেন না শফিকুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১০:৫৬ অপরাহ্ন, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট নিয়ে টকশোর এক উপস্থাপিকা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামালের বক্তব্যের রেফারেন্স টানায় রেগে যান সদ্য বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার আলোচিত-সমালোচিত প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল কোথায় পড়াশোনা করেছেন, এমন প্রশ্ন তুলেছেন শফিকুল আলম। তার এই অযাচিত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও সৌজন্যবোধহীন মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।

এছাড়া আজ শনিবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম দাবি করেন, ইনসাফ একটি সুন্দর বাংলা শব্দ। ইনকিলাব, ফয়সালা, আজাদী, জিন্দাবাদ, আওয়ামী লীগ এবং চুদ লিং পংও বাংলা শব্দ। কীসের ভিত্তিতে তিনি এমন দাবি করেছেন, এ প্রশ্ন নেটিজেনদের। পোস্টে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করায় অনেকে তার রুচিবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শফিকুলের বাংলা ভাষা জ্ঞান কতটুকু, এ প্রশ্ন সামনে আনতেও অনেকে ছাড় দিচ্ছেন না।

সম্প্রতি একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে উপস্থাপিকা কথা প্রসঙ্গে মাসুদ কামালের রেফারেন্স টানলে সাবেক প্রেস সচিব ও প্রকাশিতব্য দৈনিক ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ‘আল্লাহর দোহাই লাগে, মাসুদ কামালের রেফারেন্স দিয়েন না। তিনি ৮০ শতাংশ কথা ভুলভাল বলেন। কী বলেন, কোনো পড়ালেখা করেছেন বলে আমার মনে হয় না। কোথা থেকে আসছেন ওনারা।’ 

এর আগে জনগণের গণভোটের রায়, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও উচ্চকক্ষসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে সাবেক প্রেস সচিবের কাছে জানতে চান উপস্থাপিকা। তবে শফিকুল আলম জানান, তিনি বিশ্বাস করেন, পার্লামেন্ট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সব কিছুই বাস্তবায়ন করবে। কীসের ভিত্তিতে তার এই বিশ্বাসবোধ, এ বিষয়ে তিনি ওই টকশোতে ব্যাখ্যা দেননি।

সরকারি দল বিএনপি জনগণের রায় মেনে নেবে এমন বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি আছে কিনা, তা জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্বাসে জামায়াতে ইসলামী ঘনিষ্ঠ শফিকুল আলম বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হচ্ছে আমাদের আশার ভিত্তি।’ 

এমন সময় উপস্থাপিকা জানান, সাংবাদিক মাসুদ কামালের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান বাস্তবতায় মাসুদ কামালের মনে হয়েছে, জুলাই সনদের মৃত্যু হয়েছে। এ কথা শুনেই রেগে যান শফিকুল আলম।

ওই টকশোতে মাসুদ কামালের কঠোর সমালোচনা করেন শফিকুল আলম। তার ওই সমালোচনার পর মাসুদ কামালকে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তার ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় এ বিষয়ে কথা বলেন কলামিস্ট মাসুদ কামাল। ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘শফিকুল আলম একটি টকশোতে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমার বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন। আমি তার এসব মন্তব্যের কী জবাব দেব?’

তিনি বলেন, ‘শফিকুল আলম বলেছেন, আমি নাকি ভুলভাল বলি। আমি যা বলি তার নাকি ৮০ শতাংশই ভুল। আমি নাকি লেখাপড়া করিনি। এগুলো নিয়ে তার কৌতূহল। এসব নিয়ে আমি কী উত্তর দেব! সবচেয়ে ভালো হয়, উনার ওই ভিডিও যেখানে যেখানে আছে, সেগুলোর নিচে দর্শকের মন্তব্যগুলো পড়ুন। পড়লেই বুঝতে পারবেন, পাবলিক তার মন্তব্যকে কীভাবে নিয়েছে। আমার কিছু বলার নেই।’

মাসুদ কামাল বলেন, ‘শফিকুল আলমের আঁতে ঘা লাগায় তিনি এসব বলছেন। তিনি তো আর প্রেস সেক্রেটারি নাই। শেষ দিকে তিনি টকশোতে একা বসতেন বেইজ্জতির ভয়ে। এখন তো কেউ তাকে টকশোতেও ডাকবে না। তিনি নাকি কোন একটা পত্রিকার সম্পাদক হচ্ছেন, সেই পত্রিকার নামও কখনো শুনিনি। ওয়াদা না কী যে নাম। সব মিলিয়ে তাকে তো এখন আলোচনায় থাকতে হবে। এ জন্য হয়তো আমাকে গালাগাল করছেন।’

প্রসঙ্গত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আজ শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' চলবে না। এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, এগুলো তাদের ভাষা। বাংলা ভাষা সম্পর্কে আমরা নিজেরা যদি একটু চিন্তা করতাম, তাহলে জেন-জি ইনকিলাব বলতো না। তারা ইনকিলাব বললে আমার রক্তক্ষরণ হয়।

এদিকে এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব থাকাকালে শফিকুল আলম দাবি করেন, দৈনিক মানবজমিন নিজেদের তৃতীয় সারির সংবাদমাধ্যমের মানহীনতার স্তরে নামিয়ে এনেছে। নেটিজেনদের মতে, ঘুরেফিরে শফিকুল আলমের এই বক্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সম্পাদক হিসেবে 'থার্ড গ্রেডের সাংবাদিক'। মানবজমিনের একটি সংবাদ সত্য নয় বলেও সাবেক প্রেস সচিব তখন দাবি খাড়া করেন। 

এ বিষয়ে অনেক নেটিজেন তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, যেন সব সত্য শুধু শফিকুল আলমেরই জানা, সব সত্যের একক ঠিকাদার তিনি। শত আফসোসের হলেও সত্য, এই জন্মে শফিকুল আলম মতিউর রহমান চৌধুরীর মতো সাংবাদিক হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে জন্মাতেই পারেননি। মতিউর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকতায় নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠানতুল্য।

মাসুদ কামাল শফিকুল আলম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250