ছবি: সংগৃহীত
প্রখ্যাত লেখক তসলিমা নাসরিন বলছেন, রুমিন ফারহানা বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য। কিছুদিন আগে এক সাংবাদিক তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। প্রশ্ন করেছেন, রান্না করেন? মেয়ে দেখলেই পুরুষ সাংবাদিকেরা এই প্রশ্নটি করবেনই। মেয়েদের সঙ্গে, তারা বিশ্বাস করেন, কিচেনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। সাধারণত যে প্রফেশনই মেয়েদের হোক না কেন, তারা বলেন, তারা রান্না করতে খুব ভালবাসেন। তারপর কী কী রান্না তারা খুব ভালো করেন, তারও লিস্ট দেন।
তিনি বলেন, কিন্তু গোটা সমাজের মাইন্ডসেটকে চমকে দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেছেন, তিনি রান্না করতে জানেন না, এবং মোটেও রান্না করেন না। বরং ইন্টেলেকচুয়াল ব্যাপার-স্যাপারে তার আগ্রহ। সাংবাদিক পুরুষটি নিশ্চয়ই অবাক হয়েছিলেন উত্তর শুনে।
আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। তার পোস্ট এর মধ্যে এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তসলিমা নাসরিন লেখেন, আমার ডকুমেন্টারি করতে এসেও কত সাংবাদিক বলেছেন, কিচেনে কিছু একটা রান্না করছি আমি, তার শট নিতে চান তারা। আমি জিজ্ঞেস করেছি, কোনো পুরুষ-লেখকের ডকুমেন্টারি করতে গেলে শট নেওয়ার জন্য তারা কি পুরুষ-লেখককে অনুরোধ করেন রান্নাঘরে কিছু একটা রান্না করতে? তারাই উত্তর দেন, না, তারা পুরুষ-লেখকদের এই অনুরোধ করেন না।
তসলিমা নাসরিন বলেন, তাহলে, আমি বলি, আমি লিখছি, পড়ছি, রাজনীতি, সমাজ, শিল্প সাহিত্য ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করছি, এটিই সাধারণত আমি করি, দেখাতে হলে এই চিত্রই দেখান। এভাবেই সমাজের মাইন্ডসেট বদলাতে চেষ্টা করি। মানুষ গভীরভাবে বিশ্বাস করে, মেয়ে মানেই, সে ডাক্তার হোক, বৈমানিক হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক, দার্শনিক হোক, লেখক হোক, শিল্পী হোক, রান্নাঘরে রান্না করবে, ঘরবাড়ি সামলাবে, বাচ্চাকাচ্চা লালন পালন করবে, এইসব ''জরুরি'' কাজ সারার পর অবসরে করবে লেখালেখি, ডাক্তারি, চাকরি-বাকরি ইত্যাদি।
সবশেষে তিনি লেখেন, রান্নাকে আমি আন্ডারএস্টিমেট করছি না। এটিকে রন্ধনশিল্প বলি। শুধু চাই এটির সঙ্গে নারীর যে কোনো নাড়ির সম্পর্ক নেই, তা মানুষ জানুক। এই শিল্পটির সঙ্গে জেন্ডারের নয়, সম্পর্ক আছে যারা এই শিল্পকে ভালোবাসেন, তাদের।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন