বুধবার, ২৫শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘জিয়া পরিবারকে শেষ করতে চেয়েছিলেন মাসুদ’ *** ‘এক-এগারোর পর শেখ হাসিনা সরকার মাসুদ চৌধুরীকে পুরস্কৃত করেছিল’ *** সৌদি যুবরাজ ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন: নিউইয়র্ক টাইমস *** এক-এগারোর কুশীলব মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার কেন গুরুত্বপূর্ণ *** কেন দেশ ছাড়ছেন ‘নবীন পাঞ্জাবি’র মালিক? *** এক-এগারোর ‘কুশীলব’ মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব নেটিজেনরা *** কামড় দিতেই আইসক্রিম থেকে বেরিয়ে এল কেঁচো, জরিমানা ৩০ হাজার টাকা *** ১০ ঘণ্টারও কম সময়ে ৭ দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের *** মানহানির এক মামলায় জামিন পেলেন মেনন-মানিক-ইনু *** শেখ হাসিনার সব অপকর্মের লাইসেন্স ওয়ান-ইলেভেন থেকে এসেছে: ফারুকী

‘এক-এগারোর পর শেখ হাসিনা সরকার মাসুদ চৌধুরীকে পুরস্কৃত করেছিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২৫শে মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ‎ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচার আইনের এক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত এ আদেশ দেন।

গত সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্যমতে, তার বিরুদ্ধে ফেনী ও ঢাকায় মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তিনি আটক হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক থেকে শুরু করে অনেকেই 'এক-এগারো' ইস্যু সামনে এনে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন।

তাদের অনেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ওই সময়ে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ করে সেজন্য মাসুদ চৌধুরীকে দায়ী করছেন।

ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এ প্রশ্নও উঠছে যে, এ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিএনপি ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে 'প্রতিশোধ' নিতে শুরু করল কী-না। দেশে ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারিতে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়টিই 'ওয়ান ইলেভেন' হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গবেষক ও ওয়ান-ইলেভেন সংক্রান্ত বই 'এক-এগারো: বাংলাদেশ ২০০৭-২০০৮' এর লেখক মহিউদ্দিন আহমদ এসব প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ওই সময় যে কয়েকজন সেনাকর্মকর্তা খুবই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপি নিজেকে ওয়ান ইলেভেনের ভিকটিম মনে করে। এ কারণেই অনেকে মাসুদ চৌধুরীর গ্রেপ্তারকে প্রতিশোধ মনে করতে পারেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ আছে। ফলে দেখতে হবে প্রকৃত অর্থে কী ধরনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়।

কলামিস্ট মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এক-এগারোর পর শেখ হাসিনা সরকার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পুরস্কৃত করেছিল বিভিন্নভাবে। এখন তার আটক প্রতিশোধমূলক কী-না, সেটি বলার মতো সময় এখনো আসেনি। তবে এটাকে কেন্দ্র করে এক-এগারো নিয়ে অনুসন্ধান হতে পারে। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আছে। সরকার তদন্ত ঠিক মতো করলে হয়তো অনেক কিছু জানা যাবে।

একই প্রসঙ্গে লেখক মহিউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, এক-এগারোর কুশীলবদের মধ্যে একমাত্র মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আওয়ামী লীগ আমলে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায়, তাকে শেখ হাসিনা প্রতিদান দিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিএনপি সরকার আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এ থেকে ধারণা করা যায়, মূলত এক-এগারোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মহিউদ্দিন আহমদ তার এক-এগারো: বাংলাদেশ ২০০৭-২০০৮ বইয়ে লিখেছেন, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছিল, যেখানে কিছু সামরিক কর্মকর্তা নেপথ্যে থেকে রাজনৈতিক যোগাযোগ, প্রশাসনিক সমন্বয় ও অভিযান বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতেন। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নামও সেই প্রেক্ষাপটে এসেছে।

এ ছাড়া তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল—ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল (প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি) গঠনের প্রচেষ্টার নেপথ্যেও তখনকার কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ভূমিকা রেখেছিলেন, যাদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নামও আলোচনায় আসে। তিনি ছিলেন রক্ষীবাহিনীতে। ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনী অবলুপ্ত করে তাদের সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণ করা হয়। সেভাবেই মাসুদ উদ্দিন সেনাবাহিনীতে আসেন।

উল্লেখ্য, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এক-এগারোর পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। তখন তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। এই কমিটির অধীনেই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।

২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসরগ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে দুই দফায় (২০১৮ ও ২০২৪) ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সংসদ সদস্য ছিলেন।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। পরে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ পান এবং জাপার মনোনয়নে নির্বাচন করেন।

মহিউদ্দিন আহমদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250