মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বাংলাদেশকে পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্র করতে চায় চীন: বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন *** বাসভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞাপন আজ *** জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাতে ৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৬ *** ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন হবে চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ *** দেশে বীজের বার্ষিক চাহিদা ১৩ লাখ, পরীক্ষিত ৩০ শতাংশ *** বুধবার থেকেই বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়ে যাবে ইরানের সব এয়ারলাইন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি *** রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুতিনের দলের *** ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা ৩ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের, টেলিভিশন ‘পুল’ কভারেজ স্থগিত *** বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ কত শক্তিশালী হবে, গরম কমবে কি *** ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

আগস্ট কেন বারবার টার্গেট?

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০১:১০ অপরাহ্ন, ২১শে আগস্ট ২০২৩

#

সুলতান মাহমুদ রানা

রাজনীতি বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে আমি গবেষণা এবং নিয়মিত চর্চার চেষ্টা করি। ইতিহাস চর্চা করতে গিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মমতার প্রসঙ্গ এলে প্রচণ্ড শোকাহত হই। এবার আসি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথায়। ওই সময়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ২১ আগস্টের ওই নৃশংস ঘটনার খবর আমরা ক্যাম্পাসে থাকা অবস্থায় তাৎক্ষণিক পেয়েছিলাম। এর অব্যবহিত পরের অনুভূতিটা পরিষ্কার মনে করতে পারি, কতটা বেদনা সেদিন আঁকড়ে ধরেছিল বুকের মাঝখানে। মাথা শূন্য, হাত-পা রীতিমতো অসাড়। তখন বারবার মনে পড়ছিল ১৫ আগস্টের সেই ভয়াবহতার কথা। এই দুটি ঘটনা যে একই সূত্রে গাঁথা– সেটি বুঝতে সেদিন আমার এক মুহূর্ত সময় লাগেনি।

১৫ আগস্টের ভয়াবহতা ইতিহাস থেকে যেভাবে জেনেছি, তা নিঃসন্দেহে পৃথিবীতে নজিরবিহীন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনাও পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জঙ্গিদের দমন করা। নিরবচ্ছিন্নভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া। সেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার দায়িত্ব নিয়েছিল তৎকালীন সরকার। এখনও তারা আবার সেই রক্তক্ষয়ী আগস্টের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায়।

দুঃখজনক হলেও সত্য, ২১ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের পর থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। একটা রাষ্ট্রের সরকার কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্র কতটা নির্লজ্জ হলে এমন একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের মামলা নিতেও অস্বীকৃতি জানায়!

জজ মিয়া নামে এক নিরীহ ভবঘুরেকে ধরে এনে পুরো ঘটনার দায় তার ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হলো। জজ মিয়ার এক সাক্ষাৎকার থেকে জানতে পারি, এমনকি পরবর্তী সময়ে তদন্ত প্রতিবেদনেও উঠে আসে আসল গল্প। ২১ আগস্ট জজ মিয়া ছিলেন গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ওপর হামলার খবর তিনি জানতে পারেন চায়ের দোকানে টিভির খবরে। গ্রামের সবাই চায়ের দোকানে ভিড় করেন ঢাকার খবর জানতে। খবর শুনে বাড়ি ফেরেন জজ মিয়া।

তিনি (জজ মিয়া) জানান, পুলিশ কর্মকর্তা মুন্সী আতিক, আবদুর রশীদ ও রুহুল আমিন পেটাতে পেটাতে বলতেন, যা শিখিয়ে দিচ্ছি তা-ই বলবি আদালতে। পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে আরও বলেন, কথা শুনলে তাঁর মাকে দেখে রাখবেন। না শুনলে ক্রসফায়ার। জজ মিয়া কথা শুনলেন। আদালতে জবানবন্দি দিলেন। তাঁকে কারাগারে পাঠানো হলো। পুরস্কার হিসেবে পুলিশ প্রতি মাসে তাঁর মাকে পাঠাত ৫ হাজার টাকা।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এমন মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্টের পরিকল্পনা এবং নির্মমতাকে কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না। কখনোই মেনে নেওয়া যায়ও না।  এরপরও যদি তারা সুযোগ পায়, এমন ঘৃণিত পরিকল্পনা করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। কারণ তাদের মনুষ্যত্বের চেয়ে পশুত্বের চেতনা বেশি। আবার এটাও বলা যেতে পারে– তাদের কোনো মনুষ্যত্বই নেই।

ড. সুলতান মাহমুদ রানা: অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


আই. কে. জে/ 

আগস্ট কেন বারবার টার্গেট

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250