শনিবার, ২৮শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালককে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী *** ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক চলছে *** পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন, বহুমুখী সম্পর্ক মজবুত করতে চায় দুই দেশ *** ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ হত্যার বিচার হবে: আইজিপি *** শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ *** ঝিনাইদহে স্বাধীনতা দিবসে ইউএনওর বক্তব্যে বিএনপির ক্ষোভ, ভিডিও ভাইরাল *** মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক অর্জন, এর সঙ্গে অন্য ঘটনা মেলানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে, কোনোভাবেই ছাড় হবে না: মির্জা ফখরুল *** আলোচনার নামে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে: প্রধানমন্ত্রী *** ড. ইউনূস ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারেননি কেন?

আপেল-স্ট্রবেরি নয়, পেয়ারা বা বরই খেলেই মিলবে উপকার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৭ অপরাহ্ন, ১৬ই অক্টোবর ২০২৩

#

ছবি-ফাইল

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসব্জি বা ডিম, ফলমূল ইত্যাদি থেকেই যে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব – আর এর জন্য বাইরে থেকে খাবার আমদানির কোন প্রয়োজন নেই – এই বার্তা দিতে ভারত জুড়ে শুরু হয়েছে এক বিশাল ক্যাম্পেইন।

জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফও এই অভিযানে সক্রিয় সমর্থন জানাচ্ছে – যার মূল কথাটা হল স্থানীয় খাবার বা ‘লোকাল ফুড সিস্টেম’-ই আমার আপনার প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ঠ।

ভারতে ইউনিসেফের প্রধান ইয়াসমিন আলি হক একজন বাংলাদেশী নাগরিক, তিনি বলছেন এই কথাটা ভারতের জন্য যেমন – তেমনি বাংলাদেশের জন্যও সত্যি।

ড: হক বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “লোকাল ফুড সিস্টেম বলতে আমরা বোঝাচ্ছি আমার বাড়ির আঙিনায় যেটা পাওয়া যাচ্ছে, কিংবা আমার বাড়ির পাশের বাজারে যেগুলো সব সময় পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোকে।”

“এখানে আসলে গর্ভবতী মা-ই বলুন বা বাচ্চারা, তাদের কী খাবার দেওয়া হবে সেখানে লোকাল ফুড সিস্টেমের একটা বড় ভূমিকা থাকা উচিত।

“একটা বাচ্চাকে স্ন্যাকস দেওয়ার সময় আমরা তাকে একটা গাজর, কমলালেবু বা পেয়ারা দিতে পারি। কিন্তু সেগুলো না-দিয়ে আমরা তাকে কমার্শিয়ালি অ্যাভেলেবল একটা বিস্কুটের প্যাকেট ধরিয়ে দিচ্ছি কি না, প্রশ্ন সেটাই।”

“লোকাল ফুড সিস্টেম বলছে আমাদের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাবারদাবারেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, এই ধরনের পুষ্টিকর খাবারের জন্যই সবচেয়ে বেশি সওয়াল করা উচিত”, বলছিলেন ড: হক।

তবে ভারতের মতো বিশাল দেশে প্রতিটি রাজ্যে, এমন কী দেশের প্রতিটি জেলাতেও যে স্থানীয় খাবারের ধরনটা পাল্টে যেতে পারে সে কথাও ইউনিসেফ মনে করিয়ে দিচ্ছে।

“আসলে এক এক জেলাতে এক এক রকম পরিবেশ, এক এক রকম আবহাওয়া। কোথাও মিলেট (জোয়ার, বাজরা, যব) হচ্ছে, কোথাও আবার ভাতটাই প্রধান খাদ্য।”

“আবার এমন কোনও জেলা নেই যেখানে কিছু না-কিছু স্থানীয় ফল বা শাক উৎপাদিত হচ্ছে না।”

“ডিম তো আবার প্রায় সব জায়গাতেই হচ্ছে, কিন্তু আমরা এখন দেখছি বাচ্চারা ডিম না-খেয়ে বাইরে থেকে আনা অন্য খাবারের দিকে ঝুঁকছে।”

“আমাদের কথাটা খুব সহজ, নিজের বাড়ির আঙিনায় একটু কুমড়ো, লালশাক বা পুঁইশাকও তো আমরা লাগাতে পারি। তা না-করে আমরা কি বাজারে যেটা বেশি চোখে পড়ে সেগুলোই শুধু খাচ্ছি?” বলছিলেন ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার প্রধান।

কিন্তু তার মানে কি পশ্চিমবঙ্গের একটি শিশুর হিমাচল প্রদেশ থেকে আনা আপেল খাওয়ার কোনও দরকারই নেই?

ইয়াসমিন আলি হকের জবাব, “সেই প্রয়োজনটা কিন্তু পেয়ারা দিয়েও মেটানো যেতে পারে। কিংবা বাংলায় তো বরইও (কুল) প্রচুর পরিমাণে হয়, তারা বরই খেতে পারে। আপেলই খেতে হবে, এমন তো কোনও কথা নেই।”

“বিষয়টা হল, যেখানে যা পুষ্টিকর খাবার স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়, সেটা যদি আমরা ভারসাম্য রেখে খাই – সঠিক পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিনস বা শাকসব্জি খেতে পারি – তাহলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়”, বলছিলেন তিনি।

ইয়াসমিন হকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী তিনি। কর্মসূত্রে দুনিয়ার নানা দেশে থাকলেও তিনি আজও একজন বাংলাদেশী নাগরিক।

তার সেই বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কি ভারতের এই ক্যাম্পেনে কোথাও কাজে লাগতে পারে?

“অবশ্যই। বাংলাদেশে ছোটবেলায় আম্মা সব সময় বলতেন গাজর খেতে, তাতে চোখের দৃষ্টি নাকি ভাল হবে। আমরাও যখন মা হয়েছি, বাচ্চাদের গাজর খেতে উৎসাহ দিতে বাড়িতেই ছোট করে গাজর লাগিয়েছি।”

“বাংলাদেশে আর একটা জিনিস ছিল, আপনি কি শাকসব্জি ধুয়ে নিয়ে কাটেন না কি কাটার পর ধোন? কাটার পর ধুলে কিন্তু তার ভিটামিন বা মিনারেলস আমরা হারিয়ে ফেলি – আর বাংলাদেশে সেই অভ্যাসটা পাল্টানোর জন্য জাতীয় স্তরে রীতিমতো একটা ক্যাম্পেন দরকার হয়েছিল।”

আরো পড়ুন: জানেন কি, ডাবের শাঁসের বিশেষ গুণাগুণ!

“আবার সব্জি রান্না করার সময় অনেকে পানিটা ফেলে দেয়, কিন্তু ওই পানির সঙ্গে অনেক পুষ্টিগুণও চলে যায়। এই অভ্যাসটা পাল্টানোর জন্যও সেখানে অনেক প্রচার চালানো হয়েছে,” বলছিলেন ড: হক।

আসলে সাধারণ মানুষ তাদের খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনলেই যে নিজেদের ডায়েটে অনেক বেশি পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারবে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইউনিসেফ সেই বার্তাটাই দিতে চাইছে।

আর ঠিক সেই প্রসঙ্গেই একটি দৃষ্টান্ত দিয়ে বলা হচ্ছে, বাঙালিদের জন্য পেয়ারা-বরই যথেষ্ঠ – আপেল-স্ট্রবেরি না খেলেও তাদের দিব্বি চলে যাবে!

এসি/ আই. কে. জে/ 



আপেল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250