বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বিএনপি কেন বহাল রাখল? *** ‘বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা মুক্তির প্রথম সনদ ও প্রথম খসড়া সংবিধান’ *** নিজেকে যিশুর সঙ্গে তুলনা করেছেন দ. কোরিয়ার কারারুদ্ধ সাবেক প্রেসিডেন্ট *** আলোচনা ব্যর্থ হলে আবার যুদ্ধ শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগন *** যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বনেতাদের স্বস্তি *** প্রেক্ষাগৃহে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি রক্ষণশীল রাজনীতির বিরুদ্ধে বার্তা *** আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার *** যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখন পর্যন্ত কী জানা গেল *** বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনে ভুয়া নথি বা অননুমোদিত এজেন্ট নিয়ে সতর্ক করল ১৩ দেশ *** রেকর্ডধারী একজন রাজনীতিবিদ গ্রেফতার, দেশজুড়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়!

বড়দিনের আদর্শ খাবার মানেই টার্কি! প্রচলন হয়েছিল কীভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:০৮ অপরাহ্ন, ২৫শে ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

বড়দিন বা ক্রিসমাস মানেই ডাইনিং টেবিলে সাজানো বড়সড় এক টার্কি রোস্ট। কিন্তু উত্তর আমেরিকার আদি নিবাসী এই পাখিটি কীভাবে ইউরোপীয়দের উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে উঠল, তা বেশ কৌতূহল উদ্দীপক। ১৬শ শতাব্দীর শুরুতে স্পেনীয় অভিযাত্রীদের মাধ্যমে টার্কি প্রথম ইউরোপে আসে। তার আগে উৎসবের ভোজ বলতে ছিল রাজহাঁস, ময়ূর বা রাজহাঁসের মাংস।

ইংল্যান্ডের রাজা হেনরি অষ্টম প্রথম ব্রিটিশ সম্রাট হিসেবে বড়দিনের ভোজে টার্কি খেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে টার্কিকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব ভিক্টোরিয়ান যুগের। রানি ভিক্টোরিয়া যখন তার রাজকীয় ক্রিসমাস ভোজে টার্কি খাওয়া শুরু করেন, তখন থেকেই এটি আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

রাজকীয় পছন্দের বাইরে সাধারণ মানুষের ঘরে টার্কিকে জনপ্রিয় করার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল লেখক চার্লস ডিকেন্সের। ১৮৪৩ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘এ ক্রিসমাস ক্যারল’-এ দেখা যায়, একসময়ের কৃপণ ইবেনেজার স্ক্রুজ বড়দিনে ক্র্যাচিট পরিবারকে একটি বিশাল টার্কি উপহার পাঠাচ্ছেন। এই গল্পটি সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে দেয় যে বড়দিনের আদর্শ খাবার মানেই টার্কি।

টার্কি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কিছু ব্যবহারিক কারণও রয়েছে। আকার ও উপযোগিতা—গরু দুধ দেয় আর মুরগি দেয় ডিম; কিন্তু টার্কির অন্য কোনো ব্যবহার নেই। এ ছাড়া একটি বড় টার্কি দিয়ে অনায়াসেই পুরো পরিবারের ভোজ সম্পন্ন করা যায়। অনেকগুলো ছোট পাখি রান্না করার চেয়ে একটি বড় পাখি রান্না করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

হিমায়িত বা ফ্রোজেন টার্কি—রেফ্রিজারেশন বা ফ্রিজ আবিষ্কারের আগে টাটকা টার্কি কেনা ছিল বেশ ঝক্কির কাজ। কিন্তু ফ্রোজেন টার্কি বাজারে আসার পর মানুষ আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এটি কিনতে শুরু করে, যা এর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

পরদিনের চমৎকার নাশতা—বড়দিনের পরদিন অর্থাৎ ‘বক্সিং ডে’তে টার্কির বেঁচে যাওয়া মাংস (Leftovers) দিয়ে স্যান্ডউইচ, স্টু, কারি বা পাই তৈরি করা যায়। বিশেষ করে টার্কি কারি এখন অনেক দেশেই বেশ জনপ্রিয়।

যুক্তরাজ্যে টার্কির একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাতেই আজও ক্রিসমাসে টার্কি খাওয়ার রীতি বজায় আছে।

শুভ বড়দিন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250